AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Ambubachi2026 : সংসারে মঙ্গল আনতে অম্বুবাচীর সময় ভুলেও এসব করবেন না

ঋতুকাল পেরিয়ে যাওয়ার পর নারীরা যেমন সন্তান ধারণে সক্ষম হন, ঠিক তেমনই অম্বুবাচী সমাপ্ত হওয়ার পরই ধরিত্রী পূর্ণ উর্বরতা লাভ করে। ফলে এই সময়ের পরবর্তী কালকেই বীজ বপন বা ফসল ফলানোর জন্য সবচেয়ে আদর্শ ও শুভ সময় বলে গণ্য করা হয়।

Ambubachi2026 : সংসারে মঙ্গল আনতে অম্বুবাচীর সময় ভুলেও এসব করবেন না
| Updated on: Jun 23, 2026 | 2:47 PM
Share

সনাতন ধর্মে ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’-এর তালিকায় অম্বুবাচী এক বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। হিন্দু শাস্ত্র ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, পৃথিবীকে দেবী বা বিশ্বজননী রূপে আরাধনা করা হয়। আর সেই বিশ্বাস থেকেই মনে করা হয়, বছরের এই নির্দিষ্ট তিন দিন ধরিত্রী মাতা ঋতুমতী হন। কেবল ধর্মীয় আচার হিসেবেই নয়, অম্বুবাচীর গভীর যোগ রয়েছে প্রাচীন কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গেও।

নৃতাত্ত্বিক ও সামাজিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অম্বুবাচী মূলত একটি কৃষিভিত্তিক উৎসব। লোকায়ত বিশ্বাস বলে, ঋতুকাল পেরিয়ে যাওয়ার পর নারীরা যেমন সন্তান ধারণে সক্ষম হন, ঠিক তেমনই অম্বুবাচী সমাপ্ত হওয়ার পরই ধরিত্রী পূর্ণ উর্বরতা লাভ করে। ফলে এই সময়ের পরবর্তী কালকেই বীজ বপন বা ফসল ফলানোর জন্য সবচেয়ে আদর্শ ও শুভ সময় বলে গণ্য করা হয়।

সংসারের মঙ্গলে অম্বুবাচীর কড়া বিধিনিষেধ:

লৌকিক ও শাস্ত্রীয় রীতিনীতি মেনে অম্বুবাচীর এই তিন দিন সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলিতে বেশ কিছু বিধিনিষেধ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়। মনে করা হয়, সংসারের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের স্বার্থে এই সময়ে কিছু কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। যেমন,

দেবী মূর্তি ঢাকা: এই তিন দিন ঘরে কোনো বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয় না। মা কালী, দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, বিপত্তারিণী, শীতলা বা চণ্ডীর মতো দেবীমূর্তি কিংবা পট লাল কাপড়ে ঢেকে রাখাই দস্তুর। তবে এই নিয়মের ব্যতিক্রম দেখা যায় অসমের কামাখ্যা মন্দিরে, যেখানে অম্বুবাচীকে কেন্দ্র করে মহাসমারোহে উৎসব পালিত হয়।

মন্ত্রপাঠে নিষেধাজ্ঞা: নিত্যপূজার ক্ষেত্রে এই সময়ে দেবীর সামনে বসে মন্ত্রপাঠ করা অনুচিত। কেবল ধূপ ও প্রদীপ জ্বেলে ভক্তিভরে প্রণাম করাই নিয়ম।

শুভ কাজে বিরতি: অম্বুবাচীর দিনগুলিতে বিয়ে, উপনয়ন বা গৃহপ্রবেশের মতো কোনো মাঙ্গলিক বা শুভ কাজ করা থেকে বিরত থাকেন অনেকে।

খনন ও কৃষিকাজ নিষেধ: যেহেতু ধরিত্রীকে এই সময়ে বিশ্রামে রাখা হয়, তাই মাটিতে কোদাল মারা, লাঙল চালানো, বৃক্ষরোপণ কিংবা যেকোনো ধরনের কৃষিকাজ এই তিন দিন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে।

কোন কোন কাজ করা যাবে? অম্বুবাচীতে কী করা বারণ, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সচেতনতা থাকলেও, কোন কাজগুলো নিশ্চিন্তে করা যায়—তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় থাকে। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, এই দিনগুলিতে নিচের কাজগুলো করলে সংসারের কোনো ক্ষতি তো হয়ই না, বরং আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটে।

গুরুপূজা ও জপ: এই সময়ে নির্দ্বিধায় গুরুপূজা করা সম্ভব। এছাড়া গুরুপ্রদত্ত দীক্ষামন্ত্র বা ইষ্টমন্ত্র জপ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

তুলসী গাছের যত্ন: অম্বুবাচীর দিনগুলিতে তুলসী মঞ্চের বা তুলসী গাছের গোড়ার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। গাছের গোড়ায় ভালো করে মাটি দিয়ে তা কিছুটা উঁচু করে দেওয়া শুভ বলে মনে করা হয়।

শাক্তমন্ত্র পাঠ: যাঁরা শাক্তমতে দীক্ষিত, তাঁরা এই তিন দিন নিয়ম মেনে শাক্তমন্ত্র বা স্তোত্র পাঠ করতে পারেন।

Follow Us