AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Motorcycle Ride: মোটরসাইকেল ডায়েরিজ়: নবম পর্বের প্রথম অংশ, ১৮ শতকের মুঘল সাম্রাজ্যের বঙ্গীয় রাজধানী মুর্শিদাবাদ

Weekend Trip to Murshidabad: ভারতের আধুনিক ইতিহাসে মুর্শিদাবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুর্শিদাবাদ শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতার একটি শক্ত ঘাঁটি ছিল না, অষ্টাদশ শতাব্দীর ভারতে বাণিজ্য ও প্রশাসনের কেন্দ্রও ছিল। তাই চলুন মুর্শিদাবাদ শহরকে একটু সহজভাবে ঘুরে দেখি।

Motorcycle Ride: মোটরসাইকেল ডায়েরিজ়: নবম পর্বের প্রথম অংশ, ১৮ শতকের মুঘল সাম্রাজ্যের বঙ্গীয় রাজধানী মুর্শিদাবাদ
খোসা বাগ, ছবি: সঞ্জীব নস্কর।
| Edited By: | Updated on: Jul 09, 2023 | 9:50 AM
Share

চলুন… আজকের এই পর্বে আমরা ঘুরে আসি তৎকালীন বাংলার নবাবের শহরে। অনেক তো পাহাড়, নদী, জঙ্গল, সমুদ্র হল… আজ আমার সঙ্গে চলুন ১৮ শতকের মুঘল সাম্রাজ্যের বঙ্গীয় রাজধানী, যা ছিল আধুনিক বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা একত্রে এই তিন রাজ্যের বংশানুক্রমিক নবাবের রাজধানী মুর্শিদাবাদ শহর। তৎকালীন সময় কলকাতার নয়, মুর্শিদাবাদই ছিল বাংলার রাজধানী যার পরিচয় পাওয়া যায় শিল্প, সংস্কৃতি এবং ভাস্কর্যে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে শহরটির পতন শুরু হয়। তারপরে জমিদারের মর্যাদায় অবনমিত করা হয় সেই শহর। এবং পরে ব্রিটিশরা ট্রেজারি আদালত এবং রাজস্ব অফিস কলকাতায় স্থানান্তর করে। এর পরে কলকাতা হয়ে ওঠে বাংলা তথা ভারতের রাজধানী। ভারতের আধুনিক ইতিহাসে মুর্শিদাবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিঃসন্দেহে জায়গাটির আশেপাশে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী কাঠামো রয়েছে। তাই যারা বাংলার এই প্রাক্তন ক্ষমতার কেন্দ্রস্থলে যেতে চান, তাদের সাহায্য করার জন্য আমি সামগ্রিকভাবে মুর্শিদাবাদকে নিয়ে দুদিনের একটি মোটরসাইকেল রাইডের পরিকল্পনা করি, যার ফলে আপনি সহজ ভাবে একটার পর একটা জায়গা পরিদর্শন করতে পারবেন। তাই একটি ব্যাগপ্যাক করে তাতে দু’দিনের জামা-কাপড় এবং কিছু শুকনো খাবার-দাবার নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন শনিবার সকালে। মুর্শিদাবাদ শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতার একটি শক্ত ঘাঁটি ছিল না, অষ্টাদশ শতাব্দীর ভারতে বাণিজ্য ও প্রশাসনের কেন্দ্রও ছিল।

তাই চলুন, আর দেরি না করে মুর্শিদাবাদ শহরকে একটু সহজভাবে ঘুরে দেখি। ভাগীরথী নদীর পাশেই অবস্থিত মুর্শিদাবাদ। এভাবে মুর্শিদাবাদের পর্যটনকে ২টি ভাগে ভাগ করা যায়। একটি নদীর পূর্ব তীরে এবং অন্যটি পশ্চিম তীরে। আজিমগঞ্জ ও খোশবাগ পশ্চিম তীরে। লালবাগ এলাকা, নসিপুর, জিয়াগঞ্জ ও কাশিমবাজার ভাগীরথীর পূর্ব তীরে অবস্থিত। আপনি সেই অনুযায়ী আপনার মুর্শিদাবাদ ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন।

কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। আপনি সকাল-সকাল ব্রেকফাস্ট করে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন রানাঘাট, কৃষ্ণনগর হয়ে পলাশী এবং বহরমপুর সিটিকে বাইপাস করে চলে আসুন মুর্শিদাবাদে। এছাড়াও কৃষ্ণনগরের কাছে এনএইচ ১২ রাস্তা সংস্করণের কাজ চলায় এই ২০০ কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে আপনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগে যাবে। তাই এনএইচ ১২-এ মাঝে একবার দাঁড়িয়ে একটু চা পান করে সবার প্রথমে চলে আসুন:—

কাশিমবাজার এলাকা, ছবি: সঞ্জীব নস্কর।

মুর্শিদাবাদের উত্তাল সময়ে কাশিমবাজার ছিল একটি জমজমাট বন্দর এলাকা। কাসিমবাজারও একটি সুরক্ষিত এলাকা ছিল, বিশেষ করে ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর। মুর্শিদাবাদ শহর থেকে ১০ কিলোমিটারেরও কম দূরে অবস্থিত, এই কাশিমবাজারে কিছু আকর্ষণ রয়েছে। দেখার জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হল কাশিমবাজার ছোট রাজবাড়ি (কাশিমবাজার রাজবাড়ি)। রায় পরিবার কাশিমবাজারে বসতি স্থাপন করেছিল এবং রেশম ব্যবসার মাধ্যমে সৌভাগ্য অর্জন করেছিল। প্রাসাদটি এখন হেরিটেজ হোটেলে রূপান্তরিত হয়েছে। কাশিমবাজার বড় রাজবাড়ি বা কাশিমবাজার প্রাসাদটি দেখার জন্য আরেকটি আকর্ষণীয় স্থান, তবে এটি এখন ধ্বংসাবশেষ। আপনি ডাচ এবং ইংলিশ কবরস্থান, সেন্ট মেরির আর্মেনিয়ান চার্চ, ব্যাসপুর শিবমন্দির এবং পাতালেশ্বর শিব মন্দিরও দেখতে পারেন। এই কাশিমবাজারের এলাকা ঘুরে দেখতে আপনার অনেকটাই সময় লেগে যাবে। তাই এখানে কোথাও ভাল হোটেলে দুপুরের খাবার খেয়ে নিন। তারপর বাইক নিয়ে চলে আসুন ১০ কিলোমিটার দূরে আজকের দ্বিতীয় গন্তব্য স্থানে।

ভাগীরথী নদীর অপর অবস্থিত তীরে খোস বাগ। কাশিমবাজার থেকে এই জায়গায় আসতে গেলে আপনাকে নদী পারাপার করতে হবে। তার জন্য অবশ্যই ওভারব্রিজ আছে। খোস বাগে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা, তাঁর স্ত্রী এবং সিরাজের দাদা নবাব আলিবর্দি খাঁ-র কবর রয়েছে। এই কবরের আশপাশের বাগান খুব সুন্দর। খোস বাগ নির্মাণ করেছিলেন নবাব আলিবর্দি খাঁ। সিরাজের মৃত্যুর পর তাঁর বেগম বাগানটি রক্ষণাবেক্ষণ করেন। বিশ্বাস করা হয় যে, আগে এই বাগানটিতে ১০৮ জাতের গোলাপ ফুল ফুটত। এখন হয়তো এতগুলো থাকবে না, কিন্তু জায়গাটা এখনও শান্তিপূর্ণ। এবং খোস বাগে গেলেই একটা সুখের অনুভূতি বিরাজ করে। জায়গাটিতে নবাব পরিবারের অন্যান্য কবরও রয়েছে, যার অনেকগুলি এখনও শনাক্ত করা যায়নি। এরপর আপনি বাইক নিয়ে চলে আসুন খোস বাগ বোর্ড সার্ভিস স্পটে। যেখান থেকে আপনি আমাদের পরবর্তী স্পট মানে মতিঝিলে যাওয়ার জন্য নৌকা পরিষেবার ব্যবস্থা আছে। এই পরিষেবাটি ভাগীরথী নদীর ওপরেই গড়ে উঠেছে এবং এটিতে শুধুমাত্র বাইক, সাইকেল এবং মানুষ যাতায়াত করতে পারে। এখানে চার চাকার কোনও সুবিধা নেই। এরপর চলে আসুন বাইক নিয়ে আমাদের তৃতীয় গন্তব্য স্থান।

মতিঝিল, ছবি: সঞ্জীব নস্কর।

মতিঝিল একটি সুন্দর ঘোড়ার খুরের আকৃতির লেক, যা ওয়াসিফ মঞ্জিল থেকে প্রায় ৩ কিমি দূরে অবস্থিত। নবাব আলীবর্দী খানের জামাতা নওয়াজিশ মুহাম্মদ খানের নির্দেশে লেকটি তৈরি করা হয়। তিনি এখানে একটি প্রবেশদ্বার ও একটি মসজিদসহ সং-ই-দালান নামে একটি সুন্দর প্রাসাদও নির্মাণ করেছিলেন। প্রাসাদের কিছুই অবশিষ্ট নেই। মসজিদের মাত্র একটি অংশ অবশিষ্ট আছে এবং এটি মতিঝিল মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদে নওয়াজিশ মুহাম্মদ খানের কবরও রাখা হয়েছে। তার মৃত্যুর পর তার বেগম প্রাসাদে থাকতেন। মতিঝিল পার্কের ভেতরে নতুনভাবে সাজানো হয় এবং পরে ট্যুরিজমও গড়ে ওঠে। এই মতিঝিলের চারপাশে রাস্তা থাকার কারণে আপনি বাইক নিয়ে সুন্দরভাবে ঘুরতে পারবেন কারণ এই জায়গাটি সত্যিই সুন্দর এবং সঠিকভাবে সাজানো গোছানো একটি পার্ক। এখানে অনেকটা সময় কাটানো এবং অনেক অনেক ছবি তোলার জন্য আদর্শ জায়গা। এরপরে চলে আসুন মতিঝিল থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে

ওয়াসিফ মঞ্জিল, ছবি: সঞ্জীব নস্কর।

ওয়াসিফ মঞ্জিল একটি সুন্দর প্রাসাদ-কাঠামো, যা নবাব ওয়াসিফ আলি মির্জা তাঁর আবাসিক প্রাসাদ হিসাবে তৈরি করেছিলেন। এটি হাজারদুয়ারি প্রাসাদ এবং নিজামত ফোর্ট ক্যাম্পাসের দক্ষিণ গেটের মাঝে অবস্থিত। ভূমিকম্পের কারণে মূল প্রাসাদটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং পরে ১৯০৪ সালে পুনর্নির্মিত করা হয়। প্রাসাদে কিছু বিরল প্রত্নবস্তু রয়েছে, কিন্তু সম্পূর্ণ অবহেলায় পড়ে ছিল। সম্প্রতি, জায়গাটি সংস্কার করে জাদুঘরে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ভাগীরথী নদীর পাশে ‘আই লাভ মুর্শিদাবাদ’-এর সাইনবোর্ড। এছাড়াও হাজারদুয়ারি জেটি, যা থেকে ভাগীরথী নদীর দৃশ্য সত্যিই অপূর্ব। এর পরবর্তী গন্তব্যস্থান কাটরা মসজিদ, যা এখান থেকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

কাটরা মসজিদ সম্ভবত মুর্শিদাবাদের প্রাচীনতম স্থাপত্যগুলির মধ্যে একটি। এটি নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ ১৭২৩ থেকে ১৭২৪ সালের মধ্যে নির্মাণ করেছিলেন। কাটরা মসজিদটি ছিল ইসলামিক শিক্ষার একটি বড় কেন্দ্র। কাটরা মসজিদে প্রবেশ করলেই দু’পাশে ২টি টাওয়ার দেখতে পাবেন। আসলে তাদের মধ্যে ৪টি ছিল চার কোণায়, কিন্তু বাকি ২টি ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যায়। সেখানে একটি সিঁড়ি দিয়ে উঠে যাওয়া যায়, যার মাধ্যমে একেবারে টাওয়ারের শীর্ষে পৌঁছতে পারেন। কিন্তু এখন গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মসজিদের দরজার দিকে মুখ করে দাঁড়ালে দেখতে পাওয়া যায় তিনটি অর্ধবৃত্তাকার আকৃতির মতো চিহ্ন, যা মক্কার কাবার মসজিদের দিক নির্ধারণ করে। কেন্দ্রীয় মিহরাবের উপরে একটি আরবি শিলালিপি রয়েছে। কেন্দ্রীয় মিহরাবের একটি ছোট প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার জন্য একটি ছোট সিঁড়ি রয়েছে। এটি সেই প্ল্যাটফর্ম, যেখান থেকে সাধারণত উপদেশ এবং বক্তৃতা দেওয়া হয়।

যদিও এখানেই কাটরা মসজিদের শেষ নয়। এখানে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ-র সমাধিও রয়েছে। মসজিদের বর্তমান প্রবেশপথটি আসলে পিছনের প্রবেশপথ। মসজিদের মূল প্রবেশপথটি এখন পিছনের দিকে (পূর্ব দিকে) রয়েছে। মসজিদে প্রবেশের জন্য চোদ্দটি সিঁড়ির ফ্লাইট রয়েছে। সিঁড়ির নিচে রয়েছে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ-র সমাধি। কথিত আছে যে নবাব জীবনের শেষ দিকে তাঁর জীবদ্দশায় করা সমস্ত খারাপ কাজের জন্য অনুশোচনা অনুভব করেছিলেন। তাই তিনি কাটরা মসজিদের সিঁড়ির নিচে সমাধিস্থ হতে চেয়েছিলেন, যাতে অভিজাতদের পায়ের ধুলো তাঁর কবরে পড়ে। এটি হবে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার একটি উপায়। যদিও মুর্শিদাবাদ মূবত হাজারদুয়ারির জন্যই পরিচিত, এটি কাটরা মসজিদটি আমরা সবচেয়ে আকর্ষণীয় বলে মনে করি। নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ-র গঠন, স্থাপত্য এবং গল্প ছিল বেশ মনোমুগ্ধকর। মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়, তবে কাটরা মসজিদই আমার মনে দাগ কেটেছে সবথেকে বেশি। এরপর বাইক নিয়ে চলে আসুন মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরেকটি খুব সুন্দর স্থাপত্য যা প্রায় ধ্বংসের মুখে।

ফৌতি মসজিদ, ছবি: সঞ্জীব নস্কর।

এই মসজিদটি মুর্শিদাবাদের আরেকটি চিত্তাকর্ষক স্থাপত্য। এটি একটি বিশাল কাঠামো। তবে এখন ক্ষয়প্রাপ্ত অবস্থায়। মসজিদটি ১৭৪০ সালে নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ-র নাতি নবাব সরফরাজ খানের তৈরি, কিন্তু এটি কখনওই সম্পূর্ণ হয়নি। এই মসজিদের পাঁচটি গম্বুজের মধ্যে মাত্র ২টি গম্বুজ তৈরি করা হয় এবং পরে কাজ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে আর তা কখনও তৈরি করা হয়নি। প্রথম দেখায় এই মসজিদটি কোনও জীর্ণ কাঠামোর মতো দেখায়, কিন্তু এই মসজিদের ভেতরে গিয়ে দেখলে দেখা যায় ছাদহীন একটি সুন্দর কাঠামো। এই ২টি গম্বুজের ভিতর দিয়ে সিঁড়ি থাকা সত্ত্বেও এটি ভগ্নপ্রায় বলে ভেবে নেওয়া শ্রেয়, যে কোনও মুহূর্তে বিপদ হতে পারে। এই মসজিদে কখনও নামাজ পড়া হয়নি। তা-ও যেহেতু তৈরির কাজ শুরু হয় ফৌতি মসজিদের নামেই, তাই একে সেই সময় থেকেই মসজিদ রূপে ধরা হয়। এক কথায় এই মসজিদ সময় কাটানো এবং ছবি তোলার জন্য আদর্শ। এরপরে চলে আসুন মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত…

জাহান কোষা কামান, ছবি: সঞ্জীব নস্কর।

এই বিশাল কামানটির ওজন ৪০০০ কেজি, যা ১৭.৫ ফুট লম্বা এবং ৮টি ধাতু দিয়ে তৈরি। একটি গুলি করার জন্য প্রায় ১৭ কেজি গানপাউডার ব্যবহার করা হয়েছিল। আশ্চর্যের কিছু নেই, এটি ‘জাহানকোষ’ (জগতের ধ্বংসকারী) নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে যে এলাকায় কামানটি রাখা হয়েছে, সেটি তোপেখানা বা অস্ত্রাগার নামে পরিচিত ছিল। কামানটি ১৬৩৭ সালে ঢাকার বন্দুকধারী জনার্দন কর্মকার তৈরি করেছিলেন। নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ তাঁর রাজধানী স্থানান্তর করার সময় ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে কামানটি নিয়ে এসেছিলেন।

এত কিছু দেখে সন্ধ্যে হয়ে যাওয়ার ফলে আমি ঠিক করলাম যে, আশেপাশের কোনও এক হোটেলেই থাকব। পরদিন রবিবার হওয়ার কারণে অফিস ছুটি… এছাড়াও মুর্শিদাবাদ ঘোরার জন্য দু’টো দিন দরকার, না হলে সবটুকু দেখা যাবে না। একদিনে মুশিদাবাদ শহরটাকে কাছ থেকে ভালভাবে দেখার জন্য মোটেই যথেষ্ট নয়। তাই আশপাশের এলাকায় একটি হোটেলের খোঁজ করে রাতের খাবার খেলাম। মানে নবাবের শহরে এসে যদি কাবাবই না খেলাম, তা কি করে হয়। যাই-ই হোক, রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম পরের দিনের আরও অনেক কিছু দেখার আশায়।।