
ভারতীয় হেঁশেলে অতিথি আপ্যায়ন হোক বা বিকেলের জলখাবার কচুরির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। কিন্তু ফিটনেস ফ্রিক বা হৃদরোগীদের কাছে এই তেলে ভাজা খাবারটি বরাবরই ‘নিষিদ্ধ’ তালিকায় থাকে। ভোজন রসিকদের সেই চিন্তা দূর করতে মাস্টারশেফ পঙ্কজ ভাদোরিয়া নিয়ে এসেছেন এক অভিনব রেসিপি। ময়দা ছাড়াই সুজি আর দই দিয়ে তৈরি এই কচুরি ভাজতে তেলের প্রয়োজন নেই, সামান্য দেশি ঘি-ই যথেষ্ট।
এই রেসিপির মূল বৈশিষ্ট্য হল এর উপকরণ। ময়দার বদলে এখানে ব্যবহার করা হয়েছে সুজি, যা হজমে সুবিধাজনক। আর পুর হিসেবে থাকছে দই এবং পনির, যা প্রোটিনের খনি। রান্নায় নামমাত্র দেশি ঘি ব্যবহৃত হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলেই মনে করেন পুষ্টিবিদরা।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
বাইরের আবরণের জন্য: ১ কাপ সুজি, ১ চা চামচ চিলি ফ্লেক্স, ১ টেবিল চামচ ধনেপাতা কুচি, ১ টেবিল চামচ দেশি ঘি এবং স্বাদমতো নুন। পুর বা স্টাফিংয়ের জন্য: ১ কাপ জল ঝরানো ঘন দই, ৫০ গ্রাম পনির (কোড়ানো), ১ টেবিল চামচ কাঁচালঙ্কা কুচি, ১ চা চামচ চিলি ফ্লেক্স, ১টি কুচোনো পেঁয়াজ, ১ টেবিল চামচ ধনেপাতা কুচি, নুন এবং ২ টেবিল চামচ কর্নফ্লাওয়ার।
প্রস্তুত প্রণালী
১. সুজির মণ্ড তৈরি: প্রথমে এক কাপ জলে নুন, চিলি ফ্লেক্স, ধনেপাতা ও ঘি দিয়ে ফোটান। জল ফুটতে শুরু করলে সুজি দিয়ে আঁচ কমিয়ে নাড়তে থাকুন। জল শুকিয়ে এলে ঢাকা দিয়ে ১০ মিনিট রাখুন। এরপর হাত দিয়ে ভালো করে মেখে একটি নরম মণ্ড তৈরি করুন। ২. পুর তৈরি: একটি পাত্রে জল ঝরানো দই ও কোড়ানো পনির নিন। তাতে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচালঙ্কা, কর্নফ্লাওয়ার, ধনেপাতা ও মশলা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ৩. কচুরি গড়া: সুজির মণ্ড থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে নিন। হাতের তালুতে চ্যাপ্টা করে তার মাঝে দই-পনিরের পুর ভরে মুখ বন্ধ করে দিন। হালকা হাতে একটু বেলে নিন। ৪. ভাজা নয়, সেঁকা: এবার একটি আপ্পে প্যান (Appe Pan) গরম করে প্রতিটি খাঁজে সামান্য ঘি দিন। কচুরিগুলো তাতে বসিয়ে ধিমে আঁচে উল্টেপাল্টে লালচে ও মুচমুচে করে সেঁকে নিন।
ব্যাস! তৈরি আপনার স্বাস্থ্যকর দই কচুরি। পুদিনার চাটনি বা তেঁতুলের সসের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন। ডায়েট কন্ট্রোল করেও এমন রাজকীয় স্বাদের আনন্দ এবার নিতেই পারেন।