Free Wifi: হোটেল বা প্ল্যাটফর্মে পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করছেন? একটি ভুলেই হতে পারে ডেটা লিক
Cyber Attack: কোনও পাসওয়ার্ড ছাড়া বা যেসব ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ওপেন থাকে, সাইবার অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্যই থাকে সেগুলো। কিন্তু উপায় কী? ভ্রমণের সময় কীভাবে বুঝবেন হোটেল বা ক্যাফের ওয়াইফাই নিরাপদ কি না? এমন কি কোনো অ্যাপ রয়েছে যা কানেক্ট করার আগেই নেটওয়ার্কটি স্ক্যান করে সুরক্ষা দিতে পারে?

– সৌরভ চক্রবর্তী
কলকাতা: ছুটিতে কোনও হোটেলে গিয়ে কিংবা ক্যাফেতে বসে ওয়াইফাই নেট আছে জানার পর আমরা অনেকেই ঝটপট ওয়াইফাই অন করে নিই। সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট করা, নিউজ পড়া বা ইউটিউব দেখা তো আছেই, অনেক সময় সেই ওয়াইফাইয়ের ভরসাতেই আমরা অনলাইন ব্যাঙ্কিং বা জরুরী ক্রেডিট কার্ড পেমেন্টও সেরে ফেলি।
আর এখানেই লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে বড় বিপদ। কোনও পাসওয়ার্ড ছাড়া বা যেসব ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ওপেন থাকে, সাইবার অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্যই থাকে সেগুলো। কিন্তু উপায় কী? ভ্রমণের সময় কীভাবে বুঝবেন হোটেল বা ক্যাফের ওয়াইফাই নিরাপদ কি না? এমন কি কোনো অ্যাপ রয়েছে যা কানেক্ট করার আগেই নেটওয়ার্কটি স্ক্যান করে সুরক্ষা দিতে পারে? আসুন সহজ ভাষায় বিষয়টি বুঝে নেওয়া যাক।
কেন পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারের আগে সাবধান হবেন?
হ্যাকাররা অনেক সময় হোটেলের ওয়াইফাইয়ের মতোই হুবহু একই নামের একটি ফেক নেটওয়ার্ক (যাকে ‘Evil Twin’ বলা হয়) বানিয়ে রাখে।
- আপনি আসল হোটেল ওয়াইফাই ভেবে সেটিতে কানেক্ট করলে, আপনার ফোন থেকে যা যা সার্চ হচ্ছে বা যেসব পাসওয়ার্ড ইনপুট করছেন, তার সব তথ্য তৃতীয় ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যেতে পারে।
- আবার আসল ওয়াইফাই হলেও, সেটি যদি এনক্রিপ্ট না করা থাকে, তবে একই নেটওয়ার্কে থাকা যে কেউ আপনার ফোনের তথ্য ট্র্যাক করার সুযোগ পায়।
ওয়াইফাই নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করার কার্যকর অ্যাপস-
মোবাইলে এমন কিছু ডেডিকেটেড অ্যাপস ব্যবহার করতে পারেন যা কোনো ওয়াইফাইতে যুক্ত হওয়ার পর বা হওয়ার আগে সেই নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা বিশ্লেষণ করে সতর্ক করে দেয়:
১. Fing – Network Tools
এটি যেকোনো নেটওয়ার্কের ‘হেলথ’ স্ক্যান করার জন্য বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অ্যাপ। আপনি যে ওয়াইফাইতে যুক্ত আছেন, সেখানে আর কারা কে কে যুক্ত রয়েছে, কোনও লুকোনো ক্যামেরা বা সন্দেহজনক ডিভাইস স্ক্যান করা থেকে শুরু করে পুরো নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ঘাটতি বিশ্লেষণ করে এই অ্যাপ। গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যায় এই অ্যাপ।
২. WiFi Analyzer / Network Analyzer
সিগন্যাল স্ট্রেন্থ মাপার পাশাপাশি এটি খোলা ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের এনক্রিপশন লেভেল (যেমন- WPA2, WPA3 বা Unsecured) বিশ্লেষণ করে। কোনও ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক যদি একেবারেই পাসওয়ার্ডহীন খোলা বা পুরনো সিকিউরিটি প্রোটোকল ব্যবহার করে থাকে, তবে অ্যাপটি তা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়।
৩. Cloudflare 1.1.1.1 (WARP)
এটি আপনার নেটওয়ার্ককে বিশ্লেষণ করার পাশাপাশি পাবলিক ওয়াইফাইতে আপনার পুরো ডেটা ট্রাফিক এনক্রিপ্ট করে দেয়। এই অ্যাপ হোটেলে ওয়াইফাই নিরাপদ কি না তা ভাবার আগেই এটি আপনার ফোন ও ইন্টারনেটের মাঝে একটি সুরক্ষিত সিকিউরিটি টানেল তৈরি করে দেয়, ফলে হ্যাকাররা ডেটা দেখতে পায় না।
হোটেলের ওয়াইফাইতে সুরক্ষিত থাকার সহজ ৪টি টিপস-
১. অটো-কানেক্ট বন্ধ রাখুন: ফোনে ‘Auto-Join Wi-Fi’ অপশনটি বন্ধ রাখুন। এর ফলে কোনও পরিচিত নামের ওপেন নেটওয়ার্ক পেলেই ফোন নিজে থেকে কানেক্ট হয়ে যাবে না।
২. ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করুন: যেকোনো হোটেল বা এয়ারপোর্টের ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় ফোনে একটি বিশ্বস্ত VPN অন করে নিন। এতে আপনার পাসওয়ার্ড ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য এনক্রিপ্ট হয়ে যায়।
৩. ব্যাংক লেনদেন এড়িয়ে চলুন: খুব বেশি জরুরি না হলে ক্যাফে বা হোটেলের ওয়াইফাইয়ে যুক্ত থাকা অবস্থায় নেট ব্যাঙ্কিং, UPI লেনদেন বা শপিং না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। একান্তই লাগলে নিজস্ব মোবাইল ডেটা ব্যবহার করুন।
৪. ‘HTTPS’ চিহ্ন খেয়াল রাখুন: ব্রাউজারে সাইট খোলার সময় অ্যাড্রেস বারের শুরুতে তালা আইকন বা https:// লেখা রয়েছে কি না দেখে নিন। একটু সচেতনতা আর সঠিক কয়েকটা অ্যাপের ব্যবহারই আপনাকে যেকোনও বড় ধরনের ডেটা লিক বা সাইবার অ্যাটাক থেকে একশো ভাগ সুরক্ষিত রাখতে পারে।
