
গোলাপের সুবাস আর মনের গোপন কথা প্রকাশের পর আজ ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের সেই বিশেষ দিন, যা প্রেমের তিতকুটে স্বাদকেও নিমেষে মিষ্টি করে দিতে পারে। ৯ ফেব্রুয়ারি, ‘চকলেট ডে’। প্রতিবছর এই দিনটিতে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ একে অপরকে চকলেট উপহার দিয়ে নিজেদের সম্পর্কের মিষ্টতা উদযাপন করেন।
ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের তৃতীয় দিনটি হল চকলেট ডে। ৭ ফেব্রুয়ারি রোজ ডে এবং ৮ ফেব্রুয়ারি প্রপোজ ডে-র রেশ কাটতে না কাটতেই এই দিনটির আগমন ঘটে। কেবল প্রেমিক-প্রেমিকা নয়, বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও এই দিনটিতে চকলেট আদান-প্রদান করতে দেখা যায়।
কেন এই চকলেট ডে?
চকলেট ডে-র ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভিক্টোরিয়ান যুগের আভিজাত্য। ১৮৪০-এর দশকে রিচার্ড ক্যাডবেরি প্রথম ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের উপযোগী করে হার্ট-শেপ বা হৃদয় আকৃতির চকলেটের বক্স তৈরি করেন। মনে করা হয়, রিচার্ডের এই পদক্ষেপই পরবর্তীকালে ‘চকলেট ডে’-র জন্ম দেয়। তবে তারও আগে প্রাচীন আজটেক ও মায়া সভ্যতায় চকলেটকে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হত। তারা বিশ্বাস করত, চকলেট হল ‘দেবতাদের খাবার’ এবং এটি মানসিক চাপ কমিয়ে রোমান্টিকতা বাড়াতে সাহায্য করে।
বর্তমান যুগে চকলেট ডে পালনের ধরনে এসেছে ব্যাপক বৈচিত্র্য:
হৃদয় আকৃতির উপহার: চকলেটের বাক্সে মনের মানুষের পছন্দের ডার্ক বা মিল্ক চকলেট সাজিয়ে দেওয়ার চল সবচেয়ে বেশি।
কাস্টমাইজড চকলেট: নাম খোদাই করা কিংবা বিশেষ বার্তা লেখা চকলেট এখন ইন-থিং।
বেকিং ও হোমমেড: অনেকেই বাইরে থেকে না কিনে নিজের হাতে চকোলেট বানিয়ে প্রিয়জনকে চমকে দেন।
গবেষকদের মতে, চকলেটে থাকা ‘অক্সিটোসিন’ হরমোন মনে খুশি আনে এবং দুশ্চিন্তা কমায়, যা এই দিনটিকে আরও বিশেষ করে তোলে। ক্যাডবেরি হোক বা দামি ফ্রেঞ্চ চকোলেট— প্রিয় মানুষের মুখে এক টুকরো হাসি ফোটাতে চকোলেটের চেয়ে সেরা উপহার আর কী-ই বা হতে পারে!