
ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের প্রতিটি দিনেরই রয়েছে নিজস্ব মাহাত্ম্য। তবে ৯ ফেব্রুয়ারির দিনটি একটু আলাদা। ‘চকোলেট ডে’। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন এই চকোলেটকেই ভালোবাসার অন্যতম প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হলো? আর কবে থেকেই বা শুরু হল এই বিশেষ দিনটি পালনের রেওয়াজ?
চকোলেট ডের ইতিহাস খুঁজতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে ভিক্টোরিয়ান যুগে। যদিও প্রাচীন আজটেক এবং মায়া সভ্যতায় চকোলেটকে ‘দেবতাদের খাবার’ মনে করা হত, কিন্তু প্রেমের সঙ্গে এর সরাসরি সংযোগ ঘটে উনিশ শতকে। ১৮৪০-এর দশকে প্রখ্যাত চকোলেট প্রস্তুতকারক রিচার্ড ক্যাডবেরি প্রথম বিপণনের খাতিরে ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের কথা মাথায় রেখে চকোলেটের বাক্স তৈরি করেন। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, রোমান্টিক এই সপ্তাহে মানুষ বিশেষ কিছু খুঁজছে। এরপরই ১৮৬৮ সালে তিনি বাজারে আনেন ‘হৃদয় আকৃতির চকোলেট বক্স’।
ধীরে ধীরে সেই বিশেষ বাক্সগুলো উপহার হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রেমিক-প্রেমিকারা চকোলেট শেষ হয়ে যাওয়ার পর সেই সুন্দর বাক্সগুলোতে প্রেমপত্র বা ছোটখাটো স্মারক জমিয়ে রাখতে শুরু করেন। ধারণা করা হয়, রিচার্ড ক্যাডবেরির এই বাণিজ্যিক উদ্ভাবনই আধুনিক ‘চকোলেট ডে’-র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।
কেন চকোলেটই সেরা পছন্দ?
ইতিহাসবিদদের মতে, রিচার্ড ক্যাডবেরির আগে থেকেই চকোলেটের সঙ্গে বিলাসিতা ও রোমান্টিকতার যোগ ছিল। ফরাসি রাজা চতুর্দশ লুই তাঁর প্রেমিকাদের চকোলেট উপহার দিতেন বলে শোনা যায়। আবার প্রখ্যাত ইতালীয় প্রেমিক ক্যাসানোভাও বিশ্বাস করতেন যে, চকোলেট মানুষের মনে উদ্দীপনা বাড়াতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞানও কিন্তু পিছিয়ে নেই। গবেষকরা জানিয়েছেন, চকোলেট খাওয়ার ফলে মস্তিষ্কে ডোপামিন ও এন্ডোরফিন নির্গত হয়, যা মানুষকে আনন্দিত রাখে এবং মানসিক চাপ কমায়। সম্ভবত এই কারণেই চকোলেট ডে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শুরুতে কেবল উচ্চবিত্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, বিংশ শতাব্দীতে চকোলেট ডের উদযাপন সাধারণ মানুষের নাগালে চলে আসে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং ইউরোপে এর প্রসার সবচেয়ে বেশি হলেও, গত কয়েক দশকে এশিয়া ও ভারতে এটি একটি বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে শুধু প্রিয়জন নয়, বরং বন্ধুদের মধ্যে ‘হ্যাপিনেস’ ভাগ করে নিতেও চকোলেট ডে পালন করা হয়।
আজকের বাজারে ডার্ক চকোলেট থেকে শুরু করে নাম লেখা কাস্টমাইজড চকোলেটের যে বিপুল সম্ভার আমরা দেখি, তার মূল সুরটি কিন্তু সেই ভিক্টোরিয়ান যুগের আভিজাত্য থেকেই ধার করা। তাই ৯ ফেব্রুয়ারি মানেই এখন শুধু মিষ্টি মুখ নয়, বরং দেড়শ বছর পুরনো এক ঐতিহ্যের উদযাপন।