
গোলাপের সুবাস, চকোলেটের মিষ্টতা আর প্রতিশ্রুতির পর এবার একে অপরকে আগলে রাখার পালা। ১২ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের ষষ্ঠ দিন— ‘হাগ ডে’। শব্দ যেখানে হার মেনে যায়, সেখানে একটি উষ্ণ আলিঙ্গনই পারে মনের না বলা হাজারো কথা বুঝিয়ে দিতে। সম্পর্কের বাঁধন আরও মজবুত করতে এবং প্রিয় মানুষকে আশ্বস্ত করতে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম।
হাগ ডে কেবল একটি দিবস পালনের বিষয় নয়, এর পিছনে রয়েছে গভীর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। গবেষকদের মতে, কাউকে অন্তত ৩০ সেকেন্ড আলিঙ্গন করলে শরীরের ‘অক্সিটোসিন’ হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যাকে বলা হয় ‘লাভ হরমোন’। এটি কেবল মানসিক প্রশান্তিই দেয় না, বরং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। প্রিয় মানুষের একটি আলিঙ্গন নিমিষেই ক্লান্তি ও একঘেয়েমি দূর করে মনে খুশির জোয়ার আনে।
ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোর মতো হাগ ডে-র কোনও প্রাচীন লিখিত ইতিহাস না থাকলেও, বিশ শতকের শেষের দিকে এই দিনটি বিশেষ জনপ্রিয়তা পায়। আধুনিক সমাজতাত্ত্বিকদের মতে, মানুষের যান্ত্রিক জীবনে একাকীত্ব দূর করতে এবং একে অপরের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে এই দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৯ শতকের শেষের দিকে ইউরোপে ‘ফ্রি হাগস’ মুভমেন্টের মাধ্যমে পরিচিতদের পাশাপাশি অপরিচিতদের প্রতিও মানবিকতা প্রকাশের চল শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে প্রেমের সপ্তাহে একটি বিশেষ দিনে পরিণত হয়।
আজকের দিনে আলিঙ্গনের ধরণ দেখেও বুঝে নেওয়া যায় সম্পর্কের গভীরতা:
বিয়ার হাগ: প্রিয় মানুষকে দু’হাতে জাপটে ধরা, যা নিরাপত্তা ও গভীর ভালোবাসার প্রতীক।
সাইড হাগ: এটি মূলত বন্ধুদের মধ্যে বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
ব্যাক হাগ: পেছন থেকে জড়িয়ে ধরা, যা সঙ্গীর প্রতি নির্ভরতা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
আসলে হাগ ডে মানে শুধু জড়িয়ে ধরা নয়, এর অর্থ হলো সঙ্গীকে এ কথা জানানো যে— “যাই হয়ে যাক, আমি তোমার পাশেই আছি।” শহরজুড়ে ডানা মেলুক সেই আগলে রাখার গল্প।