
কার্ডের দোকান থেকে শুরু করে অনলাইন শপিং সাইট, কিংবা পার্ক স্ট্রিটের ক্যাফে থেকে গঙ্গার ঘাট—শহর কলকাতার আনাচে-কানাচে এখন সাজ সাজ রব। গোলাপের দাম আকাশছোঁয়া হতে শুরু করেছে, কারণ কাল থেকেই শুরু হচ্ছে সাত দিনের প্রেমের উৎসব। ৭ ফেব্রুয়ারি ‘রোজ ডে’ দিয়ে শুরু হয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে।
প্রেমের সাত দিন: কোন দিন কিসের উদযাপন?
প্রেমের এই সপ্তাহে প্রতিটি দিনের রয়েছে আলাদা তাৎপর্য। দেখে নিন আপনার বিশেষ মানুষের জন্য কোন দিনটি নির্দিষ্ট:
৭ ফেব্রুয়ারি (রোজ ডে): লাল গোলাপ দিয়ে মনের কথা জানানোর দিন। তবে বন্ধুত্বের জন্য হলুদ আর শ্রদ্ধার জন্য সাদা গোলাপও ইদানীং বেশ জনপ্রিয়।
৮ ফেব্রুয়ারি (প্রপোজ ডে): স্রেফ চোখের ভাষা নয়, এবার মুখে বলার পালা। ভালোবাসার মানুষকে মনের কথা জানানোর জন্য বছরের শ্রেষ্ঠ দিন।
৯ ফেব্রুয়ারি (চকলেট ডে): সম্পর্কের তিক্ততা দূর করতে বা মিষ্টি সম্পর্ককে আরও মধুর করতে এদিন চকোলেট আদান-প্রদান করেন যুগলেরা।
১০ ফেব্রুয়ারি (টেডি ডে): নরম তুলতুলে টেডি বিয়ার উপহার দিয়ে একে অপরের প্রতি যত্ন ও ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়।
১১ ফেব্রুয়ারি (প্রমিস ডে): সম্পর্কের ভিত মজবুত করতে এদিন একে অপরকে আজীবন পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন কপোত-কপোতীরা।
১২ ফেব্রুয়ারি (হাগ ডে): যান্ত্রিক জীবনে এক চিলতে শান্তির খোঁজ। প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরে তাঁর ভরসা হওয়ার দিন।
১৩ ফেব্রুয়ারি (কিস ডে): শব্দের চেয়ে মৌনতা যেখানে বেশি কথা বলে। প্রেমের পরশে ভালোবাসার গভীরতা মাপার দিন।
১৪ ফেব্রুয়ারি (ভ্যালেন্টাইনস ডে): সপ্তাহের শেষ তথা প্রধান দিন। সব বাধা পেরিয়ে কেবল ভালোবাসার উৎসবে মেতে ওঠার দিন।
ভ্যালেন্টাইনস উইককে কেন্দ্র করে শহরের রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলোতে থাকছে বিশেষ ছাড় এবং ‘কাপল স্পেশাল’ মেনু। ফুল বিক্রেতাদের আশা, গত বছরের তুলনায় এবার ব্যবসার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হবে। অন্যদিকে, বাঙালি সংস্কৃতিতে সরস্বতী পুজোকে ‘বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বলা হলেও, বর্তমান প্রজন্ম দুই সংস্কৃতিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে উদযাপন করতে ভালোবাসে।
মনোবিদদের মতে, কেবল উপহার আদান-প্রদান নয়, সঙ্গীকে সময় দেওয়া এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাই হলো সার্থক প্রেম। তবে এই সাত দিন সম্পর্কের নতুন মোড় ঘোরাতে বা একঘেয়েমি কাটাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করতে পারে। সব মিলিয়ে শহর এখন তৈরি লাল গোলাপ আর নতুন স্বপ্নের ভেলায় ভাসতে। আপনি তৈরি তো?