Teddy Day 2026: টেডি ডে-র নেপথ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, এই দিনের ইতিহাসটা জানেন?
Valentine’s Week 2026: এই মানবিক ঘটনার কথা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তৎকালীন প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট ক্লিফোর্ড বেরিম্যান ওয়াশিংটন পোস্টে একটি ব্যঙ্গচিত্র আঁকেন, যেখানে রুজভেল্টকে একটি ছোট ভালুক ছানাকে রক্ষা করতে দেখা যায়। এই কার্টুনটি দেখে অনুপ্রাণিত হন ব্রুকলিনের এক খেলনা দোকানদার দম্পতি, মরিস মিশটম এবং রোজ। তাঁরা কাপড়ের তৈরি একটি ভাল্লুক ছানা বানিয়ে তাঁদের দোকানের জানলায় সাজিয়ে রাখেন। প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের ডাকনাম ছিল ‘টেডি’।

ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের চতুর্থ দিনটি হলো ‘টেডি ডে’। তুলতুলে নরম একটা খেলনা ভালুক বা টেডি বিয়ার আজ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। কিন্তু এই মিষ্টি খেলনাটির জন্ম বা নামকরণের ইতিহাস বেশ নাটকীয়। কেনই বা একে ‘টেডি’ বলা হয়? আর কেনই বা এটি ভালোবাসার সপ্তাহের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠল? এর পিছনে রয়েছে এক শতকেরও বেশি পুরনো এক কাহিনী।
টেডি বিয়ারের নামকরণের কৃতিত্ব সরাসরি দেওয়া হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্টকে। ১৯০২ সালের নভেম্বর মাসে মিসিসিপিতে শিকার অভিযানে গিয়েছিলেন রুজভেল্ট। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাঁর সঙ্গীরা একটি বুড়ো কালো ভাল্লুককে খুঁজে পায় এবং সেটিকে পিটিয়ে আধমরা করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে প্রেসিডেন্টকে গুলি করার সুযোগ দেওয়ার জন্য। কিন্তু রুজভেল্ট সেই দৃশ্য দেখে বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি সেই অসহায় পশুটিকে গুলি করতে অস্বীকার করেন এবং জানান, একটি অসহায় প্রাণীকে এভাবে শিকার করা তাঁর কাছে ‘অখেলোয়াড়োচিত’।
এই মানবিক ঘটনার কথা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তৎকালীন প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট ক্লিফোর্ড বেরিম্যান ওয়াশিংটন পোস্টে একটি ব্যঙ্গচিত্র আঁকেন, যেখানে রুজভেল্টকে একটি ছোট ভালুক ছানাকে রক্ষা করতে দেখা যায়। এই কার্টুনটি দেখে অনুপ্রাণিত হন ব্রুকলিনের এক খেলনা দোকানদার দম্পতি, মরিস মিশটম এবং রোজ। তাঁরা কাপড়ের তৈরি একটি ভাল্লুক ছানা বানিয়ে তাঁদের দোকানের জানলায় সাজিয়ে রাখেন। প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের ডাকনাম ছিল ‘টেডি’। মিশটম সাহেব প্রেসিডেন্টের কাছে চিঠি লিখে অনুমতি চান যে, তিনি এই খেলনাটির নাম ‘টেডি বিয়ার’ রাখতে চান কি না। রুজভেল্ট সানন্দে অনুমতি দেন।
১৯০৩ সাল নাগাদ এই টেডি বিয়ার বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য পায়। ধীরে ধীরে এটি শিশুদের প্রিয় খেলনা থেকে বড়দের উপহার দেওয়ার সামগ্রীতে পরিণত হয়। নরম ও কোমল হওয়ার কারণে এটি যত্ন ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। বিশ শতকের শেষ দিকে যখন ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের প্রতিটি দিনকে আলাদা আলাদা নাম দেওয়া শুরু হয়, তখন ১০ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘টেডি ডে’ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি উপহারের দিন রাখা, যা শব্দ ছাড়াই সঙ্গীকে বলতে পারে— ‘আমি তোমাকে সবসময় এভাবেই আগলে রাখব’।
সমাজতাত্ত্বিকদের মতে, ডিজিটাল যুগে দামী ফোন বা ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের ভিড়েও টেডি বিয়ার তার জায়গা হারায়নি। কারণ এটি একটি অনুভূতির নাম। বিষণ্ণ মনে একটি নরম টেডি জড়িয়ে ধরা আজও মানসিক প্রশান্তি দেয়। আর সেই ঐতিহ্যকে সঙ্গী করেই আজ বিশ্বজুড়ে প্রেমিক-প্রেমিকারা পালন করছেন ‘টেডি ডে’।
বর্তমানে বাজারে হরেক রঙের ও আকারের টেডি বিয়ার পাওয়া গেলেও, সেই ১৯০২ সালের সেই ছোট্ট ভাল্লুক ছানাটিই আজও মানুষের মনে প্রেমের অন্যতম বড় বিজ্ঞাপন হয়ে রয়ে গিয়েছে।
