
শক্তির প্রবাহও বজায় থাকে। কিন্তু অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে বাড়ির কিছু নির্দিষ্ট অংশে আমাদের নজর পৌঁছায় না। বাস্তু শাস্ত্র বলছে, বাড়ির এই অবহেলিত অপরিচ্ছন্ন অংশগুলোই হতে পারে আপনার জীবনের যাবতীয় সমস্যার মূল কারণ। বাস্তু দোষ এড়াতে এবং পরিবারের সদস্যদের উন্নতি নিশ্চিত করতে কোন কোন জায়গা সবসময় ঝকঝকে রাখা উচিত, দেখে নিন এক নজরে।
বাড়ির প্রধান দরজা বা প্রবেশদ্বার কেবল আসা-যাওয়ার রাস্তা নয়, এটি সুখ-সমৃদ্ধি এবং ইতিবাচক শক্তির মূল কেন্দ্র। বাস্তু শাস্ত্রে একে ‘দেহরি’ বলা হয়। যদি এই প্রবেশদ্বারে ধুলো-বালি, আবর্জনার স্তূপ বা মাকড়সার জাল থাকে, তবে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাড়ির শক্তির ওপর। নেতিবাচক শক্তি তখন সহজেই ঘরে প্রবেশ করে। তাই প্রধান দরজা সবসময় পরিষ্কার, মজবুত এবং সুসজ্জিত রাখা প্রয়োজন। দরজার সামনে ডাস্টবিন রাখা একেবারেই অনুচিত।
বাড়ির স্টোর রুমে সাধারণত বাড়তি জিনিসপত্র রাখা হয়। কিন্তু অনেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিসের স্তূপ করে ঘরটিকে একেবারে ঘিঞ্জি করে ফেলেন। বাস্তু মতে, স্টোর রুমে অগোছালো ভাব এবং ধুলোর আস্তরণ থাকলে জীবনে নানা বাধা আসতে পারে। স্থবির হয়ে পড়ে উন্নতির চাকা। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্টোর রুমের জঞ্জাল পরিষ্কার করা এবং জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বাড়ির ছাদ শক্তির প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেকেরই স্বভাব হলো অপ্রয়োজনীয় ভাঙাচোরা আসবাব বা বাতিল জিনিস ছাদে জমিয়ে রাখা। বাস্তু শাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী, ছাদ অপরিষ্কার থাকলে রাহু ও শনির অশুভ প্রভাব বাড়তে পারে। এর ফলে পরিবারের সদস্যদের কেরিয়ার বা ব্যবসায়িক উন্নতি থমকে যায়। তাই ছাদকে জঞ্জালমুক্ত রাখলে মানসিক ও আর্থিক— উভয় ক্ষেত্রেই সুফল পাওয়া যায়।
বাস্তুবিদদের মতে, ঘর যদি পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল থাকে, তবে তা শুধু শরীর নয়, মনের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই আজই আপনার বাড়ির এই কোণগুলোতে নজর দিন এবং পজিটিভ এনার্জিকে স্বাগত জানান।