Health effects of election ink: ভোটের কালি পেটে গেলে কী হয়?
ভোটের কালি কি আদপে বিষাক্ত? আঙুলের সেই অমোচনীয় কালির দাগ যদি অসাবধানতাবশত পেটে চলে যায়, তবে শরীরে ঠিক কী কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে? সিলভার নাইট্রেট যুক্ত এই কালির প্রভাবে পাকস্থলীর সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে হতে পারে আরও নানা জটিলতা। জানুন ঠিক কতটা বিপজ্জনক এই নীল দাগের রাসায়নিক।

ভোটের মরসুমে (Election) আঙুলের ডগায় নীল রঙের সেই কালির দাগ প্রতিটি নাগরিকের কাছেই গর্বের। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, অসাবধানতাবশত যদি এই ‘ইন্ডেলিবল ইঙ্ক’ পেটে চলে যায়, তবে শরীরে ঠিক কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে? বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
কী দিয়ে তৈরি হয় এই কালি? ভারতে ব্যবহৃত ভোটের কালিতে প্রধানত সিলভার নাইট্রেট (AgNO_3) থাকে। একই কালি ব্যবহার করা হয় পোলিওর কালিতেও, যখন এই কালি আঙুলের চামড়ায় লাগানো হয়, তখন তা ত্বকের প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে একটি কালো বা কালচে বেগুনি রঙের ছোপ তৈরি করে, যা জল বা সাবানে ধুলে সহজে ওঠে না। এটি কেবল চামড়ার উপরের স্তরেই আটকে থাকে না, বরং কোষের ভেতরে প্রবেশ করে।
পেটে গেলে ঠিক কী ঘটতে পারে?
যদি খুব সামান্য পরিমাণ কালি মুখে যায় বা পেটে ঢোকে, তবে সাধারণত বড় কোনও বিপদের আশঙ্কা থাকে না। তবে পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে:
১) সিলভার নাইট্রেট একটি শক্তিশালী রাসায়নিক। এটি পেটে গেলে বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা বা গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
২)গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শরীরে বেশি মাত্রায় সিলভার নাইট্রেট প্রবেশ করলে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে পারে কিংবা ঝিমুনি ভাব আসতে পারে।
৩) কালির রাসায়নিক উপাদান মুখ এবং গলার নরম টিস্যুতে সামান্য জ্বালাপোড়া বা ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে।
বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রমাণ কী বলছে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিভিন্ন টক্সিকোলজি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সিলভার নাইট্রেট একটি ‘মাইল্ড করোসিভ’ বা মৃদু ক্ষয়কারী পদার্থ। আমেরিকার ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন’ (NCBI)-এর একটি গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিলভার নাইট্রেট সরাসরি গ্রহণ করলে তা রক্তে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে, যদিও ভোটের কালিতে এর ঘনত্ব খুব কম (সাধারণত ১০% থেকে ১৮% এর মধ্যে) রাখা হয়।
বিপদ এড়াতে কী কী করবেন?
১. যদি শিশু বা কোনও ব্যক্তি ভুলবশত কালি খেয়ে ফেলে, তবে দেরি না করে প্রচুর পরিমাণ জল বা দুধ পান করানো উচিত। দুধ সিলভার নাইট্রেটের প্রভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।
২.জোর করে বমি করানোর চেষ্টা করবেন না, এতে শ্বাসনালীতে সমস্যা হতে পারে।
৩.যদি পেটে ব্যথার তীব্রতা বাড়ে কিংবা শরীরে অন্য কোনো অস্বস্তি দেখা দেয়, তবে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ভোট দেওয়া যেমন নাগরিক অধিকার, তেমনই অসাবধানতা এড়িয়ে সুস্থ থাকা আমাদের দায়িত্ব। আঙুলে কালির দাগ থাকুক সম্মানের সঙ্গে, তবে তা যেন কোনওভাবেই রসনালীর সংস্পর্শে না আসে।
