কথায় কথায় মিষ্টি খাচ্ছেন? অজান্তেই বড় বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন না তো নিজেকে!

এর পেছনে রয়েছে আমাদের জীবনযাত্রার ধরন। অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা কিংবা অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাসে শরীরে শর্করার ভারসাম্য বিগড়ে যায়। এছাড়া মানসিক চাপ (Stress), অপর্যাপ্ত ঘুম এবং দীর্ঘদিনের ক্লান্তিও এই প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।

কথায় কথায় মিষ্টি খাচ্ছেন? অজান্তেই বড় বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন না তো নিজেকে!

|

Jan 27, 2026 | 3:45 PM

ভরপেট খাওয়ার পরেও কি একটু মিষ্টি না হলে মন ভরে না? কিংবা কাজের মাঝে ঘনঘন চকোলেট বা মিষ্টি পানীয় খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে? আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসকে সাধারণ মনে হলেও, চিকিৎসকদের মতে এটি আসলে শরীরের এক গভীর সংকেত। শুরুতে কেবল স্বাদের জন্য মনে হলেও, ধীরে ধীরে এই আসক্তি শরীরের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (HOD) ডা. এল. এইচ. ঘোতেকর জানান, বারবার মিষ্টি খাওয়ার এই ইচ্ছা কেবল স্বাদের কারণে হয় না। এর পেছনে রয়েছে আমাদের জীবনযাত্রার ধরন। অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা কিংবা অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাসে শরীরে শর্করার ভারসাম্য বিগড়ে যায়। এছাড়া মানসিক চাপ (Stress), অপর্যাপ্ত ঘুম এবং দীর্ঘদিনের ক্লান্তিও এই প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।

আসলে, ক্লান্তি অনুভব করলে শরীর তাৎক্ষণিক শক্তির খোঁজে মিষ্টির প্রতি আকৃষ্ট হয়। চিনি সাময়িকভাবে মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে মানসিক শান্তি দিলেও, তা খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়— ফলে বারবার মিষ্টি খাওয়ার এক চক্র তৈরি হয়।

চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া কেবল ওজন বৃদ্ধি বা স্থূলতার (Obesity) কারণ নয়, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

হৃদরোগ: দীর্ঘকাল এই অভ্যাস বজায় থাকলে হৃদযন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দাঁতের ক্ষয়: অতিরিক্ত চিনি দাঁতের এনামেল নষ্ট করে দ্রুত ক্যাভিটি তৈরি করে।

ত্বক ও হজম: ত্বক শুষ্ক হওয়া বা ব্রণের সমস্যার পাশাপাশি লিভারের কার্যকারিতাতেও বাধা সৃষ্টি করে।

মিষ্টির আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে ডা. ঘোতেকর বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন: ১. সুষম আহার: সময়মতো প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান যাতে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। ২. পর্যাপ্ত জল ও ঘুম: শরীরে জলের অভাব হলে অনেক সময় খিদে বা মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বেশি হয়। পাশাপাশি দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। ৩. বিকল্প বেছে নিন: মিষ্টি বা চকোলেটের বদলে ঋতুভিত্তিক ফল, ড্রাই ফ্রুটস বা বাদাম খান। ৪. মানসিক প্রশান্তি: মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম বা হালকা শরীরচর্চা শুরু করুন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হুট করে মিষ্টি ছাড়ার বদলে ধীরে ধীরে এর পরিমাণ কমানো উচিত। সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে আপনাকে এই ‘সুইট পয়জন’ বা মিষ্টি বিষ থেকে রক্ষা করতে।