Stress urination: মিটিং বা ইন্টারভিউয়ের আগে বারবার টয়লেটে যেতে হয়? কোনও অসুখ নয়তো!
Health tips: গুরুত্বপূর্ণ মিটিং বা ইন্টারভিউয়ের আগে বারবার বাথরুম যাওয়ার সমস্যা অনেকেরই হয়। কিন্তু কেন এমনটা ঘটে? এর পিছনে থাকা বিজ্ঞান ও সমাধানের সহজ উপায়গুলি জেনে নিন। কী কী করবেন?

মিটিং বা ইন্টারভিউ (Meeting or Interview) শুরু হতে আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গিয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই মনে হল, একবার বাথরুম যাওয়া খুব দরকার! গুরুত্বপূর্ণ কোনও কাজের আগে এই সমস্যা প্রায় অনেকেরই হয়। একবার বাথরুম থেকে ঘুরে আসার কিছুক্ষণ পরই আবার মনে হয় ব্লাডার ভর্তি হয়ে গিয়েছে। বুকের ভেতর ঢিপঢিপানির সঙ্গে এই সমস্যা যেন আরও চাপ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, এমন কেন হয়?
ব্লাডার বা মূত্রথলিতে যখন প্রস্রাব জমে, তখন সেখানকার স্নায়ুগুলো মস্তিষ্কে বার্তা পাঠায়। মস্তিষ্ক তখন সিদ্ধান্ত নেয় যে, বাথরুমে যাওয়ার সঠিক সময় এসেছে কি না। কিন্তু আমরা যখন খুব টেনশনে বা উদ্বেগে থাকি, তখন শরীরের ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ (Fight or flight) পদ্ধতি চালু হয়ে যায়। এর ফলে আমাদের নার্ভাস সিস্টেম বা স্নায়ুতন্ত্রের কাজে আচমকা পরিবর্তন আসে। আর ঠিক তখনই ব্লাডার পুরো ভর্তি না থাকলেও বারবার বাথরুম পাওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়।
স্ট্রেস হরমোন কীভাবে প্রভাব ফেলে?
অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সময় শরীর খুব বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সাধারণ অনুভূতিগুলোও এই সময় অনেক বড় মনে হয়। তাই ব্লাডারে সামান্য প্রস্রাব থাকলেও মনে হয় যেন এখনই বাথরুমে দৌড়াতে হবে। যাঁদের ব্লাডার একটু বেশি সক্রিয়, তাঁদের ক্ষেত্রে এই চাপ আরও মারাত্মক ভাবে কাজ করে। এমনকি, অতিরিক্ত চিন্তার কারণে বারবার শৌচালয়ে যাওয়ার একটা অদ্ভুত অভ্যাসও তৈরি হয়ে যায় অনেকের।
কীভাবে মুক্তি পাবেন এই সমস্যা থেকে?
- যদি ডাক্তারি পরীক্ষায় মূত্রনালীর কোনও রকম ইনফেকশন বা অন্য রোগ না ধরা পড়ে, তবে বুঝতে হবে পুরো সমস্যাটাই মানসিক চাপের কারণে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মন শান্ত রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
- খুব টেনশন হলে লম্বা করে শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে ছাড়ুন।
- কফি বা চা খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে ফেলুন। কারণ অতিরিক্ত ক্যাফেইন ব্লাডারের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়।
- যে বিষয়গুলো থেকে চাপ তৈরি হচ্ছে, সেগুলো থেকে মাথা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
টেনশনের সময় মাঝেমধ্যে এমনটা হওয়া খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কিন্তু যদি দেখেন এই সমস্যা আপনার রোজকার জীবনকে ব্যাহত করছে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রাতে ঘুমানোর সময় বারবার বাথরুম পেলে তা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। তাই সময় থাকতে সতর্ক হওয়াটা খুব জরুরি।
