
মারণরোগ ক্যানসার আজ কেবল শারীরিক ব্যাধি নয়, বরং একটি বিশ্বজনীন সামাজিক ও মানবিক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার দূর করতে ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব ক্যানসার দিবস’। ‘ইউনিয়ন ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্যানসার কন্ট্রোল’ (UICC)-এর নেতৃত্বে এই বিশ্বব্যাপী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো—সচেতনতা প্রচার, রোগীর সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি ক্যানসার আক্রান্তের লড়াইকে সম্মান জানানো।
প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস
বিশ্ব ক্যানসার দিবসের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, প্যারিসে আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড সামিট এগেইনস্ট ক্যানসার’-এ। সেই সম্মেলন থেকে ‘চার্টার অফ প্যারিস’ গৃহীত হয়, যেখানে ক্যানসার গবেষণা, প্রতিরোধ এবং রোগীর সুচিকিৎসার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। সেই থেকে আজ এটি একটি বিশ্বজনীন আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
২০২৬ সালের থিম: ‘ইউনাইটেড বাই ইউনিক’
২০২৫ থেকে ২০২৭ এই তিন বছরের জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মূল ভাবনা বা থিম হল, ‘ইউনাইটেড বাই ইউনিক’ (United by Unique)। এর অন্তর্নিহিত অর্থ হল ক্যানসার জয়ের লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে অভিন্ন হলেও, প্রতিটি রোগীর লড়াই, আবেগ এবং সামাজিক পরিস্থিতি একে অপরের থেকে আলাদা বা অনন্য। এই প্রচার অভিযানের মাধ্যমে রোগীদের অভিজ্ঞতায় কান দেওয়া এবং সহানুভূতিশীল চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ক্যানসার মানেই শেষ নয়—এই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব বোঝানোই এই দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ক্যানসারের চিকিৎসা যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে এবং সাশ্রয়ী হয়, সেই দাবিও জোরালো হচ্ছে এই দিবসের হাত ধরে।
চিকিৎসকদের মতে, সচেতন থাকলে এবং জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এর জন্য জরুরি:
প্রাথমিক লক্ষণ চেনা: শরীরে কোনো টিউমার বা চাকা, তিলের আকস্মিক পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করবেন না।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: নিয়মিত স্ক্রিনিং ও চেকআপের মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরেই রোগ ধরা পড়লে নিরাময়ের সম্ভাবনা বহুলাংশে বেড়ে যায়।
সুস্থ জীবনযাপন: তামাক ও ধূমপান বর্জন, মদ্যপান ত্যাগ, সুষম খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম ক্যানসার প্রতিরোধের প্রধান চাবিকাঠি।
প্রতিরোধের সহজ উপায়
১. সুষম খাদ্য: প্রচুর ফলমূল, শাকসবজি ও হোল গ্রেইন খান। প্রক্রিয়াজাত বা জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন। ২. সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা: ত্বকের ক্যানসার এড়াতে রোদে বেরোলে সানস্ক্রিন বা ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করুন। ৩. ভ্রান্ত ধারণা বর্জন: ক্যানসার নিয়ে ইন্টারনেটে ছড়ানো ভুল তথ্যে বিশ্বাস না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২০২৬ সালের বিশ্ব ক্যানসার দিবস আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, লড়াইটা কঠিন হলেও আমরা একা নই। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ এবং সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ক্যানসারমুক্ত একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।