
মৌনি অমাবস্যার দিনে কুম্ভে গিয়ে পদপিষ্ট একাধিক। আহত কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ জন। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। তবে এই সংখ্য়া আরও বাড়তে পারে বলেই মত প্রশাসনিক মহলের। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাত ১টা থেকে ২টো নাগাদ পুণ্যার্থীদের ভিড়ে ভাঙে ব্যারিকেড। শ'য়ে শ'য়ে মানুষ ধেয়ে আসে ত্রিবেণী মহাসঙ্গমের দিকে। আর তখনই হুড়মুড়িয়ে পড়ে যান বেশ কয়েকজন। যার জেরেই ঘটে এই বিপত্তি।

কিন্তু জানেন কি এটা প্রথম নয়। ইতিহাস বলছে, কুম্ভ মেলায় এমন কাণ্ড ঘটে আসছে প্রায় কয়েক দশক ধরে। ১৯৫৪ সাল থেকে ২০২৫, কুম্ভ ঘিরে পদপিষ্ট হয়েছেন হাজার মানুষ।

সাল ১৯৫৪। স্বাধীন ভারতের এলাহাবাদ, বর্তমানে এই প্রয়াগরাজেই আয়োজন হয়েছিল কুম্ভ মেলার। জানা যায়, আজকের মতোই সেদিনও ছিল মৌনি অমাবস্যা। তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি। প্রচণ্ড ভিড়ের জেরে পুণ্যস্নান করতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় প্রায় ৮০০ জন পুণ্যার্থীর। এদের অনেকে তো আবার ভেসেই গিয়েছিলেন নদীর স্রোতের টানে।

এই ঘটনার ঠিক তিন দশক পরেই আবার একই কাণ্ড। ১৯৮৬ সালে কুম্ভ মেলা আয়োজন হয়েছিল হরিদ্বারে। গিজগিজ ভিড় আর তার মধ্যে সাংসদ-বিধায়কদের নিয়ে কুম্ভে স্নান করতে হাজির উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর সিংহ। ফলত, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় এলাকা ফাঁকা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল পুলিশ-প্রশাসন। আর সেই ফাঁকেই ঘটে যায় বিপত্তি। পুণ্যস্নান করতে নদীর দিকে ধেয়ে যায় হাজার হাজার পুণ্যার্থী। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় প্রায় ২০০ জনের।

সাল ২০০৭। সেবার মহারাষ্ট্রের নাসিকে আয়োজন হয়েছিল কুম্ভ মেলার। গোদাবরী নদীতে পুণ্যস্নানে ভিড় জমিয়েছিল লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী। আর সেখানেই ঘটে বিপত্তি। ঠেলাঠেলি, হুড়োহুড়ির জেরে পদপিষ্ট হন ১০০ জন পুণ্যার্থী। মৃত্য়ু হয় ৩৯ জনের।

শেষ কুম্ভ মেলা। ২০১৩ সালেও কুম্ভ ঘিরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ৪৫ জন পুণ্যার্থীর। অবশ্য, সেবার মেলা প্রাঙ্গনে এমন বিপদ ঘটেনি। সেখান থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূর। এলাহাবাদ রেল স্টেশনে ফুট ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার জেরে আতঙ্কে কুম্ভে আগত পুণ্যার্থী ছুটোছুটি শুরু করে। আর তাতে পদপিষ্ট হন প্রায় গোটা শ'য়েক মানুষ জন।