Ear Piercing Benefits: কান বিঁধোলেই খুলবে ভাগ্য! জানেন কোন গ্রহ প্রসন্ন হয়?
Astrological significance of ear piercing: কান বিঁধোনো কি কেবল সাজগোজের জন্য? জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, সঠিক নিয়মে কান বিঁধোলে রাহু-কেতুর অশুভ দশা কাটে এবং মেধা ও স্মৃতিশক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। আর কী কী ঘটে?

জ্যোতিষশাস্ত্র (Astrology) অনুযায়ী, আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গের সঙ্গে কোনও না কোনও গ্রহের যোগ রয়েছে। তেমনই কানের লতির ছিদ্র কেবল দুল পরার জায়গা নয়, বরং আপনার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেওয়ার চাবিকাঠি হতে পারে। হিন্দু সনাতন ধর্মে ‘কর্ণবেধ’ সংস্কারকে যে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তার নেপথ্যে কেবল সৌন্দর্য নয়, লুকিয়ে আছে গভীর জীবনদর্শন। কানে দুল পরলে কী কী হতে পারে জানলে অবাক হবেন।
রাহু এবং কেতু- এই দুই ছায়া গ্রহ যখন কুণ্ডলীতে বিগড়ে যায়, তখন জীবন কার্যত ছারখার হয়ে পড়ে। জ্যোতিষীদের মতে, কান বিঁধোলে এই দুই অশুভ গ্রহের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। কানের নির্দিষ্ট কিছু বিন্দুতে চাপ পড়লে শরীরের নেতিবাচক শক্তি বা ‘এনার্জি’ বেরিয়ে যায়, যা রাহু ও কেতুর কুপ্রভাব কমাতে সাহায্য করে বলে জানাচ্ছে জ্যোতিষশাস্ত্র।
জ্যোতিষ মত অনুযায়ী, কানের ওপর বুধ গ্রহের আধিপত্য রয়েছে। আর বুধ মানেই হল মেধা, বুদ্ধি এবং উপস্থিত বুদ্ধি। কান বিঁধোনোর ফলে বুধ গ্রহ সক্রিয় হয়ে ওঠে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর। এর ফলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে এবং কথা বলার জড়তা দূর হয়। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রও বলছে, কানের লতির মধ্যবিন্দুতে এমন কিছু স্নায়ু থাকে যা মস্তিষ্কের ডান ও বাঁ দিকের অংশের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
শাস্ত্র বলছে, কান বিঁধোনোর ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষ ভেদে নিয়ম আলাদা। মেয়েদের ক্ষেত্রে সাধারণত আগে বাঁ কান বিঁধোনো হয়, যার সঙ্গে চন্দ্রের যোগ রয়েছে। এটি মেয়েদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য শুভ। অন্যদিকে, ছেলেদের ক্ষেত্রে আগে ডান কান বিঁধোনোর নিয়ম, যা সূর্যের তেজ ও জীবনীশক্তি বৃদ্ধির সহায়ক।
কোন ধাতুর দুল বেশি কার্যকর?
প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী, কান বিঁধিয়ে সোনা অথবা তামার দুল পরা অত্যন্ত উপকারি। মনে করা হয়, এই ধাতুগুলি শরীরে ইতিবাচক বিদ্যুত্ প্রবাহ তৈরি করে, যা কুনজর বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্যক্তিকে রক্ষা করে। এমনকি মনের দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ কমাতেও এই প্রথা কার্যকরী ভূমিকা নেয়।
কখন বিঁধোবেন কান?
জ্যোতিষ অনুযায়ী, হুটহাট যে কোনও দিন কান বিঁধোনো ঠিক নয়। শুক্লপক্ষে এই কাজ করা সবচেয়ে শুভ। বিশেষ করে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের মধ্যে শিশুদের কান বিঁধিয়ে দেওয়া উচিত। তবে খেয়াল রাখতে হবে, দুই কানের ছিদ্র যেন একদম সমান্তরাল হয়। উঁচু-নিচু ফুটো হলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ফ্যাশনের দুল তো পরবেনই, কিন্তু জ্যোতিষের এই টোটকা মাথায় রাখলে মানসিক শান্তি আর ভাগ্যের জোর—দুটোই হাতের মুঠোয় আসতে পারে।
