National Youth Day: মিলেছিল মাত্র ৩ মিনিট! কীভাবে শিকাগো পৌঁছে ছিলেন বিবেকানন্দ?
Swami Vivekananda Chicago Speech: তখন ছিল না ফেসবুক, ছিল না ইনস্টা, ছিল না হোয়াটসঅ্যাপও। তাও মুদ্রিত সংবাদপত্রের উপর নির্ভর করে স্বামীজির বার্তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমেরিকা তথা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। বাংলার এক সাধারণ সন্ন্য়াসী হয়ে উঠেছিল হিন্দু ধর্মের মুখ। বিশ্ব তাঁকে চিনেছিল 'সম্প্রীতির প্রতীক' হিসাবে।

কলকাতা: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সাল। এই তারিখের কথা জিজ্ঞাসা করলেই অনেকের মনে পড়তে পারে আমেরিকায় হওয়া সেই ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার কথা। কিন্তু এই তারিখে আবার তৈরি হয়েছিল সম্প্রীতির ইতিহাস। তৈরি করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। তারপর কেটে গিয়েছে ১৩২ বছর। ১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে ভারতের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণের পরমপ্রিয় শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ। সনাতন হিন্দু ধর্ম, ধর্মী সহিষ্ণুতা ও গ্রহিষ্ণুতার কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি।
কিন্তু হিন্দু-সনাতনী এই কথাগুলো নতুন নয়! আজও হয়, সেই নিরিখে স্বামীজি ইতিহাস হয়ে রইলেন কেন? সোমবার সকালে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মভিটে, উত্তর কলকাতার সিমলা স্ট্রিটে পোস্টার পড়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। তাতে লেখা রয়েছে, ‘গর্বের করে বল, আমি হিন্দু’ — অর্থাৎ হিন্দু-হিন্দুত্বের কথা তিনিও বলেন। তা হলে ফারাক কোথায়? ইতিহাস নিয়ে চর্চা করা মানুষেরা বলেন, বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক দলগুলির হিন্দু-কথায় নেই সহিষ্ণুতা। যা ছিল তখন। কিন্তু বিবেকানন্দের সেই বার্তা ভুলে একাংশ এখন জড়িয়ে পড়ছেন ধর্মীয় হানাহানিতে।
তখন ছিল না ফেসবুক, ছিল না ইনস্টা, ছিল না হোয়াটসঅ্যাপও। তাও মুদ্রিত সংবাদপত্রের উপর নির্ভর করে স্বামীজির বার্তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমেরিকা তথা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। বাংলার এক সাধারণ সন্ন্য়াসী হয়ে উঠেছিল হিন্দু ধর্মের মুখ। বিশ্ব তাঁকে চিনেছিল ‘সম্প্রীতির প্রতীক’ হিসাবে।
উল্লেখ্য়, বিবেকানন্দের এই শিকাগো যাত্রা মোটেই সহজ ছিল না। ব্রিটিশদের উপনিবেশ, ভারতবর্ষ থেকে কেউ আমেরিকা যাবে এটাও তাঁদের চোখে ঠিক লাগেনি। কিন্তু তাও বিবেকানন্দ যেতে সফল হয়েছিলেন। ঐতিহাসিকরা বলেন, সেই সময় এই দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে বিবেকানন্দকে সাহায্য় করেছিল উত্তর-পূর্ব রাজস্থানের খেতড়ির রাজা অজিত সিংহ। বিবেকানন্দকে শিকাগো নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘ওরিয়েন্ট’ জাহাজে ফার্স্ট ক্লাসের টিকিট কিনে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই জাহাজ এবং পরে আমেরিকায় পাড়ি দিয়ে কম যাতনা সহ্য করতে হয়নি তাঁকে। বর্ণ-বিদ্বেষ, পিছিয় পড়ে শ্রেণির প্রতিনিধি — শুনতে হয়েছিল নানা কটূ কথা।
কিন্তু তা সহ্য করেই বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনের মঞ্চে উঠেছিলেন তিনি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন হেনরি রাইটের ব্যক্তিগত পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে তিনি ওই সম্মেলনে মাত্র তিন মিনিট বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। আর সেই তিন মিনিট বিশ্ব মনে রেখেছে আজও।
