Nabanna: ডেপুটেশন ‘ডুয়েল’! মণীশ মিশ্রকে নিয়ে রাজ্য-কেন্দ্রের সংঘাত ফেরাল আলাপন-বিতর্কের স্মৃতি
Nabanna: মনীশ মিশ্রকে স্বরাষ্ট্র দফতরের স্পেশাল সেক্রেটারি পদে নিয়োগ করা হয়। অর্থাৎ তাঁর পদোন্নতি হল। এযেন উস্কে দিল ২০২১ সালের আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিতর্ক-স্মৃতি! সংঘাতের বাতাবরণ আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। যেদিন রাষ্ট্রপতি এসেছিলেন। অভিযোগ তাঁর নিরাপত্তায় প্রোটোকল মানা হয়নি। কেন সেখানে মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রশাসনের কোনও আধিকারিকরা ছিলেন না, তা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত।

কলকাতা: আরও তীব্র হল রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল সংঘাত। এই প্রোটোকল বিতর্কের মাঝেই দার্জিলিঙের জেলাশাসক-সহ দুই সরকারি আধিকারিককে ডেপুটেশনে চেয়েছিল কেন্দ্র। প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের CP ও দার্জিলিঙের DM মণীশ মিশ্রকে ডেপুটেশনে চায় কেন্দ্র। রাষ্ট্রপতির সফরের দায়িত্বে ছিলেন মণীশ। তাঁকে ৩ দিনের মধ্যে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রের এই নির্দেশের পর আরও সংঘাতের পথেই হাঁটল রাজ্য। রাজ্যের তরফ থেকে তাঁদের কাউকেই দিল্লি পাঠানো হল না। বরং তারই মাঝে বদল করে দেওয়া হল দার্জিলিঙের জেলাশাসক। দার্জিলিঙের নতুন জেলাশাসক হলেন সুনীল আগরওয়াল। তিনি EBCS এক্সিকিউটিভ পদমর্যাদার অফিসার। তিনি উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন দফতরের সেক্রেটারি পদে ছিলেন।
মণীশ মিশ্রকে নিয়ে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত
মনীশ মিশ্রকে স্বরাষ্ট্র দফতরের স্পেশাল সেক্রেটারি পদে নিয়োগ করা হয়। অর্থাৎ তাঁর পদোন্নতি হল। এযেন উস্কে দিল ২০২১ সালের আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিতর্ক-স্মৃতি! সংঘাতের বাতাবরণ আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। যেদিন রাষ্ট্রপতি এসেছিলেন। অভিযোগ তাঁর নিরাপত্তায় প্রোটোকল মানা হয়নি। কেন সেখানে মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রশাসনের কোনও আধিকারিকরা ছিলেন না, তা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। আইনে রয়েছে, যদি কোনও সরকারি কর্মকর্তা বা সংস্থা প্রোটোকল ভঙ্গ করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সরকার তাদের কাছে শোকজ নোটিস দিতে পারে এবং ব্যাখ্যা চাইতে পারে। প্রয়োজনে ডেপুটেশনে চাইতে পারে। এখন কোনও রাজ্য সরকার যদি নির্বাচিত অফিসারকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে পাঠাতে অস্বীকার করে, তবে সেই অফিসারকে ৫ বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ডেপুটেশন থেকে নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।
আলাপন বিতর্ক
২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কেন্দ্রের মধ্যে বড় সংঘাত তৈরি হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে। ঘটনাটি মূলত ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পরবর্তী একটি বৈঠককে কেন্দ্র করে। ২০২১ সালে ২৮ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে পশ্চিমবঙ্গে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কলকাতার কলাইকুণ্ডা এয়ারফোর্স স্টেশনে একটি রিভিউ মিটিং ডাকা হয়। অভিযোগ ওঠে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় নির্ধারিত সময়ে সেই বৈঠকে পূর্ণ সময় উপস্থিত থাকেননি, তারা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য এসে একটি রিপোর্ট জমা দিয়ে অন্য বৈঠকে চলে যান।
কেন্দ্র আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবিলম্বে দিল্লিতে ডেপুটেশনে যোগ দিতে নির্দেশ দেয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করে। এদিকে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবসর নেওয়ার সময়ও এগিয়ে আসে। কেন্দ্র আলাপনের চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়ে দিল্লিতে রিপোর্ট করতে বলে। শেষ পর্যন্ত তিনি অবসর নেন এবং পরে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা হন। এর পরবর্তী পর্যায়ে দীর্ঘ মামলা চলে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালে, পরবর্তী সে জল গড়ায় হাইকোর্টেও।
২০২১ সালেরই এই ঘটনার খানিকটা পুনরাবৃত্তি ২০২৬ সালে মণীশ মিশ্রকে নিয়েও তৈরি হল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বিজেপির বক্তব্য
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “এটা সম্পূর্ণভাবে সরকারি প্রক্রিয়া। সরকার পরিচালনা করার প্রক্রিয়া। আমাদের রাজনৈতিক ভাবে এটা নিয়ে বলবার কিছু নেই। কারণ দেশের রাষ্ট্রপতি তো কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন।”
