AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

অন্যের বউকে ভালবাসলে মৃত্যুর পর যমলোকে কী হয়? জেনে নিন গরুড় পুরাণের বিধান

যাঁরা নিজ স্ত্রীকে প্রতারণা করে বা পরকীয়ায় লিপ্ত হয়, যমলোকে তাদের জন্য কঠোরতম শাস্তির বিধান রয়েছে। এই পুরাণে স্পষ্টভাবে পরনারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কামবাসনার বশবর্তী হয়ে যারা সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদা লঙ্ঘন করেন, মৃত্যুর পর তাঁদের আত্মাকে 'তপ্তসূর্মি' নামক নরকে পাঠানো হয়।

অন্যের বউকে ভালবাসলে মৃত্যুর পর যমলোকে কী হয়? জেনে নিন গরুড় পুরাণের বিধান
| Updated on: Jan 14, 2026 | 6:31 PM
Share

হিন্দু ধর্মে যে ১৬টি সংস্কারের উল্লেখ রয়েছে, তার মধ্যে বিবাহ অন্যতম পবিত্র এক আধ্যাত্মিক বন্ধন। কিন্তু এই পবিত্র সম্পর্কের মর্যাদা লঙ্ঘনকারীদের জন্য মৃত্যুর পর অপেক্ষা করছে অত্যন্ত ভয়ংকর পরিণাম। ১৮টি মহাপুরাণের অন্যতম ‘গরুড় পুরাণ’-এ ভগবান বিষ্ণু এবং পক্ষীরাজ গরুড়ের কথোপকথনের মাধ্যমে অধর্মের পথে চলা ব্যক্তিদের যে শাস্তির কথা বলা হয়েছে, তা শুনলে শিউরে উঠতে হয়।

গরুড় পুরাণ অনুযায়ী, যাঁরা নিজ স্ত্রীকে প্রতারণা করে বা পরকীয়ায় লিপ্ত হয়, যমলোকে তাদের জন্য কঠোরতম শাস্তির বিধান রয়েছে। এই পুরাণে স্পষ্টভাবে পরনারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কামবাসনার বশবর্তী হয়ে যারা সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদা লঙ্ঘন করেন, মৃত্যুর পর তাঁদের আত্মাকে ‘তপ্তসূর্মি’ নামক নরকে পাঠানো হয়।

তপ্তসূর্মি নরক: এখানে পাপিষ্ঠ আত্মাকে আগুনের মতো উত্তপ্ত লাল হয়ে যাওয়া লোহার অসংখ্য সূঁচ দিয়ে বিদ্ধ করা হয়। আগুনের শিখার মধ্যে এই সূঁচের আঘাত আত্মাকে অসহনীয় যন্ত্রণার মুখে ঠেলে দেয়।

অন্ধতামিস্র নরক: যারা প্রিয়জনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাদের ঠাঁই হয় এই অন্ধকার নরকে। এখানে মাইলের পর মাইল রাস্তা বিষাক্ত পোকামাকড় এবং ধারালো কাঁটায় ভরা থাকে। সেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না, অথচ আত্মাকে সেই বিষাক্ত পথ দিয়েই খালি পায়ে হাঁটতে বাধ্য করা হয়।

ব্রজদংশ নরক: এখানে থাকে বিশালকায় ও হিংস্র সব প্রাণী। তারা অপরাধী আত্মার শরীরকে খুবলে খায় এবং জীবন্ত চিবিয়ে ফেলে।

কতদিন ভোগ করতে হয় এই যন্ত্রণা?

পুরাণ মতে, এই দণ্ড ততদিন পর্যন্ত চলতে থাকে যতদিন না সেই ব্যক্তির ইহকালের সমস্ত কুকর্মের হিসাব পূর্ণ হয়। আধ্যাত্মিক গুরুদের মতে, গরুড় পুরাণের এই ভয়াবহ শাস্তির বিবরণ আসলে মানুষকে সৎ পথে চলতে এবং নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য দেওয়া হয়েছে।