
“শিবের মতো স্বামী চাই”— যুগ যুগ ধরে অবিবাহিত মেয়েদের শিবরাত্রির ব্রত পালনের নেপথ্যে এই একটিই বড় কামনা কাজ করে। কেন? কারণ শাস্ত্র মতে, মহাদেব যেমন রুদ্র, তেমনই ভোলা। আর মা পার্বতীর প্রতি তাঁর অগাধ প্রেম ও নিষ্ঠা চিরকালই আদর্শ দাম্পত্যের প্রতীক। কিন্তু জানেন কি, কেবল জল ঢেলে বা উপোস করলেই মহাদেব পূর্ণ তুষ্ট হন না? শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, শিবকে খুশি করার অন্যতম চাবিকাঠি হলো তাঁর প্রিয়তমা শক্তি বা পার্বতীকে সম্মান জানানো। আর সেই সূত্র ধরেই জ্যোতিষশাস্ত্রে এই পুণ্য তিথিতে স্ত্রী বা প্রেমিকাকে বিশেষ উপহার দেওয়ার এক অনন্য বিধান রয়েছে।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, শিবরাত্রির এই শুভ লগ্নে আপনার জীবনের ‘শক্তি’ বা সঙ্গিনীকে খুশি করলে প্রসন্ন হন স্বয়ং নীলকণ্ঠ। এই দিনে স্ত্রী বা প্রেমিকাকে রুপোর নূপুর উপহার দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন রুপো? জ্যোতিষ মতে, রুপো ধাতু সরাসরি আমাদের ‘চন্দ্র’ বা মনের কারক গ্রহকে প্রভাবিত করে। নূপুর উপহার দিলে এবং তা সঙ্গিনী পরিধান করলে চন্দ্রের দশা উন্নত হয়, যা পরিবারে শান্তি, পজিটিভিটি এবং আর্থিক উন্নতি বয়ে আনে।
শাস্ত্রে কেবল উপহার দেওয়াই নয়, তার একটি বিশেষ নিয়মের কথাও উল্লেখ আছে:
শুভ সময়: শিবরাত্রির দিন সন্ধ্যাবেলা এই উপহার দেওয়ার শ্রেষ্ঠ সময়।
নিজে হাতে পরিয়ে দিন: সম্ভব হলে সঙ্গিনীকে নিজের হাতে সেই নূপুর পরিয়ে দিন। এটি আপনাদের সম্পর্কের বাঁধন আরও দৃঢ় করবে।
শুদ্ধাচরণ: উপহার দেওয়ার আগে নিজে পরিষ্কার বা নতুন পোশাক পরিধান করুন।
পুজো ও দর্শন: নূপুর পরার পর স্ত্রী যেন অবশ্যই ঠাকুরঘরে শিবের মাথায় জল ঢালেন। আর প্রেমিকা হলে, তাঁকে নিয়ে এইদিন সন্ধ্যায় কোনো শিব মন্দির দর্শন করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। আপনার জীবনে যদি কোনো বিশেষ নারী বা প্রেমিকা না-ও থাকেন, তবুও এই বিধান কার্যকরী। বাড়ির মা, বোন বা যে কোনও কন্যাসন্তানকে এই দিন উপহার দিয়ে আশীর্বাদ নিতে পারেন। নূপুর ছাড়াও রুপোর কানের দুল, গলার চেন বা রুপোর মুদ্রা উপহার দেওয়া যেতে পারে। নারীর সম্মান যেখানে অটুট, মহাদেবের আশীর্বাদ সেখানে বর্ষিত হবেই— এটাই এই রীতির মূল কথা। উপহার কেবল বস্তু নয়, এটি শ্রদ্ধার প্রতীক। তাই ভক্তিভরে এবং হাসি মুখে সঙ্গিনীকে খুশি রাখাই এই শিবরাত্রির আসল ব্রত হওয়া উচিত।