
রত্নরাজ হীরে বা ডায়মন্ড দুনিয়ার সবথেকে উজ্জ্বল এবং কঠিন পদার্থ। কিন্তু জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, হীরে কেবল গয়না নয়, এটি সরাসরি প্রভাব ফেলে মানুষের জীবন, সম্পর্ক এবং ভাগ্যের ওপর। বৈদিক জ্যোতিষ অনুযায়ী, হীরা হল ‘শুক্র’ গ্রহের রত্ন। প্রেম, সৌন্দর্য, বিলাসিতা, শিল্পকলা এবং দাম্পত্য সুখের কারক গ্রহ হল এই শুক্র।
কেন হীরা ধারণ করবেন?
জ্যোতিষীদের মতে, যাঁদের কুণ্ডলীতে শুক্র গ্রহ দুর্বল, তাঁদের জীবনে নানা সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে বিয়েতে দেরি হওয়া, সম্পর্কের টানাপোড়েন, আর্থিক অনটন বা শারীরিক তেজ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে হীরে ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়। হীরে পরলে মানুষের আকর্ষণ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং শিল্পকলা, ফ্যাশন, মিউজিক বা বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ব্যবসায়িক উন্নতি ঘটে।
শুক্রের মহাদশা বা অন্তর্দশায় হীরে পরা সবথেকে ফলদায়ক। এটি কেবল বিলাসিতাই দেয় না, বরং জীবনে ভোগ এবং মর্যদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে শেখায়। তবে মনে রাখবেন, হীরে যেন অবশ্যই প্রাকৃতিক, স্বচ্ছ এবং কালো দাগহীন হয়। সাধারণত ০.২৫ থেকে ১ ক্যারেটের হীরে ধারণের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
অনেকে কেবল স্ট্যাটাস সিম্বল বা আভিজাত্য দেখানোর জন্য হীরে পরেন। কিন্তু মনে রাখবেন, যদি কারও কুণ্ডলীতে শুক্র অশুভ অবস্থানে থাকে, তবে হীরে হিতে বিপরীত করতে পারে। এতে চারিত্রিক অধঃপতন, নেশার প্রতি আসক্তি বা সম্পর্কের জটিলতা বাড়তে পারে। তাই হীরে স্থায়ীভাবে ধারণের আগে অন্তত ৭ দিন ট্রায়াল নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
হীরে ধারণের সঠিক বিধি:
ধাতু: প্ল্যাটিনাম, হোয়াইট গোল্ড বা রুপো।
আঙুল: ডান হাতের অনামিকা বা মধ্যমা।
দিন ও সময়: শুক্লপক্ষের শুক্রবার সকালে।
মন্ত্র: ‘ওঁ দ্রাঁ দ্রীঁ দ্রৌঁ সঃ শুক্রায় নমঃ’ (১০৮ বার জপ করতে হবে)।
বিশেষ সতর্কতা:
জ্যোতিষীর পরামর্শ ছাড়া হীরা, চুনি (Ruby), মুক্তো (Pearl) বা প্রবাল (Coral)-এর সঙ্গে একত্রে পরবেন না। ভাঙা, ঝাপসা বা কৃত্রিমভাবে তৈরি হীরে কখনোই অশুভ ফল ছাড়া ভালো কিছু দেয় না। মনে রাখবেন, হীরে অত্যন্ত শক্তিশালী; সঠিক ব্যবহারে যেমন জীবন বদলে যেতে পারে, ভুল ব্যবহারে তেমনই ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।