রোগমুক্তির কামনায় শীতলা অষ্টমী, কেন দেবীকে নিবেদন করা হয় ‘বাসি’ খাবার? জানুন ধর্মীয় তাৎপর্য
হিন্দু ধর্মের প্রায় সব পুজো-পার্বণেই দেবদেবীকে সদ্য প্রস্তুত বা টাটকা প্রসাদ দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু মা শীতলা এর ব্যতিক্রম। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মা শীতলা হলেন শীতলতার প্রতীক এবং তিনি ঠান্ডা জিনিস অত্যন্ত প্রিয় মনে করেন। এই কারণেই অষ্টমীর দিন দেবীকে আগের রাতে তৈরি করা ঠান্ডা খাবার নিবেদন করা হয়।

গরমকালের শুরুতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বসন্ত বা জলবসন্তের মতো সংক্রামক রোগ থেকে মুক্তি পেতে শীতলা অষ্টমীর ব্রত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, মা শীতলার কৃপা থাকলে গুটিবসন্ত, হাম এবং বিভিন্ন চর্মরোগ থেকে পরিবারকে রক্ষা করা সম্ভব। তবে এই পুজোর একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হল দেবীকে টাটকা খাবারের পরিবর্তে বাসি বা আগের রাতের রান্না করা খাবার ভোগ হিসেবে নিবেদন করা।
হিন্দু ধর্মের প্রায় সব পুজো-পার্বণেই দেবদেবীকে সদ্য প্রস্তুত বা টাটকা প্রসাদ দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু মা শীতলা এর ব্যতিক্রম। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মা শীতলা হলেন শীতলতার প্রতীক এবং তিনি ঠান্ডা জিনিস অত্যন্ত প্রিয় মনে করেন। এই কারণেই অষ্টমীর দিন দেবীকে আগের রাতে তৈরি করা ঠান্ডা খাবার নিবেদন করা হয়। সপ্তমী তিথির রাতেই লুচি, মিষ্টি ভাত বা অন্যান্য পদ রান্না করে রাখা হয়, যা পরদিন ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়।
শীতলা অষ্টমীর দিনে অনেক পরিবারেই ঘরে আগুন না জ্বালানোর বা উনুন না ধরানোর প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। এই দিনে বাড়িতে কোনও নতুন রান্না করা হয় না। গৃহস্থের ধারণা, এই দিন উনুন জ্বালালে দেবী রুষ্ট হতে পারেন। তাই আগের রাতের খাবার দিয়েই ব্রতীরা তাঁদের আহার সম্পন্ন করেন।মা
শীতলাকে খুশি করতে এই দিন বিশেষ কিছু খাবার নিবেদন করার চল রয়েছে:
ঘি-ভাত: ঠান্ডা ভাতের ওপর ঘি ছড়িয়ে দেবীকে উৎসর্গ করা হয়।
মিষ্টি ভাত ও দই-ভাত: গুড় বা চিনি দিয়ে তৈরি মিষ্টি অন্ন এবং দই-ভাত দেবীর অত্যন্ত প্রিয়।
মালপোয়া ও হালুয়া: অনেক জায়গায় চালের গুঁড়োর মালপোয়া, লুচি এবং সুজির হালুয়া তৈরি করে তা ঠান্ডা অবস্থায় মাকে নিবেদন করা হয়।
ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে বাসি খাবার খাওয়ার এই প্রথার পেছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তিও খুঁজে পান অনেকে। শীতকাল শেষ হয়ে গরম পড়ার মুখে শরীরকে শান্ত রাখতে ঠান্ডা খাবার এবং ভেষজ গুণসম্পন্ন উপাচার শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে ভক্তিই এই পূজার প্রধান ভিত্তি। শুদ্ধ মনে মা শীতলার আরাধনা করলে সংসারে শান্তি ও সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে বলে মনে করেন পুণ্যার্থীরা।
