AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

বসে না দাঁড়িয়ে, কীভাবে পুজো করলে খুশি হন ভগবান? জানুন শাস্ত্রের নিয়ম

বসে উপাসনা করলে চিত্ত স্থির থাকে এবং বাহ্যিক বিষয়ে মন চঞ্চল হয় না। এর ফলে মন্ত্রোচ্চারণ ও ভক্তির প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়। শাস্ত্র মতে, সরাসরি মেঝেতে না বসে কুশাসন, পশমের আসন বা পরিষ্কার সুতির কাপড়ের আসনে বসে পুজো করা উচিত।

বসে না দাঁড়িয়ে, কীভাবে পুজো করলে খুশি হন ভগবান? জানুন শাস্ত্রের নিয়ম
| Updated on: Mar 09, 2026 | 1:46 PM
Share

আধ্যাত্মিক সাধনার মূল লক্ষ্য হলো মনের একাগ্রতা। শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, উপাসনার সময় শরীরের ভঙ্গি মনের অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। পূজার সময় সঠিক আসন গ্রহণ বা দাঁড়ানোর ভঙ্গি নিয়ে পুরাণে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পুজো সাধারণত বসে করাকেই শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য করা হয়। যখন একজন ব্যক্তি শান্ত হয়ে কোনও আসনে বসে পূজা করেন, তখন তাঁর মন অনেক বেশি একাগ্র থাকে। বলা হয়, বসে উপাসনা করলে চিত্ত স্থির থাকে এবং বাহ্যিক বিষয়ে মন চঞ্চল হয় না। এর ফলে মন্ত্রোচ্চারণ ও ভক্তির প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়। শাস্ত্র মতে, সরাসরি মেঝেতে না বসে কুশাসন, পশমের আসন বা পরিষ্কার সুতির কাপড়ের আসনে বসে পুজো করা উচিত।

সাধারণত বসে পূজা করার নিয়ম থাকলেও কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করা যুক্তিযুক্ত। যেমন:

আরতি: মন্দিরে বা বাড়িতে আরতির সময় সাধারণত দাঁড়িয়ে ভগবানের বন্দনা করা হয়।

পরিক্রমা ও সংকীর্তন: ভজন-কীর্তন বা মন্দির পরিক্রমার সময় দাঁড়িয়ে বা সচল অবস্থায় ঈশ্বরকে স্মরণ করা শাস্ত্রসম্মত।

শারীরিক অক্ষমতা: যদি কোনও ব্যক্তি দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে অসমর্থ হন, তবে তিনি ভক্তিভরে দাঁড়িয়েও পূজা সম্পন্ন করতে পারেন। শাস্ত্রে ভক্তিকেই আচারের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক উভয় কারণেই সরাসরি মাটিতে বসে পূজা করা অনুচিত বলে মনে করা হয়। আসনের ব্যবহার শরীরের শক্তি বা আধ্যাত্মিক উর্জাকে ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং মনকে শান্ত রাখে। একটি নির্দিষ্ট আসন প্রতিদিন ব্যবহার করলে উপাসনার প্রতি একধরণের মানসিক শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা তৈরি হয়।

পুজোর সময় মনে রাখার জরুরি বিষয়:

শুচিতা: পুজোর আগে স্নান সেরে পরিষ্কার ও শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করা আবশ্যক।

সর্বদা শান্ত ও পরিচ্ছন্ন স্থানে পূজার আয়োজন করুন। উপাসনার সময় মনকে সব ধরণের নেতিবাচক চিন্তা থেকে মুক্ত রেখে ইতিবাচক ও শান্ত রাখুন। বাহ্যিক আচারের চেয়েও অন্তরের গভীর বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর মূল চাবিকাঠি। সঠিক নিয়ম মেনে ভক্তিভরে উপাসনা করলে তা কেবল মানসিক শান্তিই দেয় না, বরং গৃহে সুখ ও সমৃদ্ধিও বয়ে আনে।

Follow Us