Purba Bardhaman: বাংলার বাড়ির পিছনে ২০ হাজারের ‘খেলা’, শোরগোল পড়তেই তৃণমূল প্রধান বললেন…
Banglar Bari scheme: ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মনোয়ার শেখ বলেন, "বিডিও বলছেন, কিছু জানি না। পঞ্চায়েত বলছে জানি না। আমরা ওসব জানি না। কেন টাকা ঢুকল না, সেই কৈফিয়ত চাইতে এসেছি।" শেখ জহিরুদ্দিন নামে আর একজন বলেন, "যাদের পাকাবাড়ি রয়েছে, তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে প্রকল্পে নাম ঢুকিয়েছে। আমাদের ঘর নেই। টাকা দিতে পারিনি বলে কিছু পাইনি।"

ভাতার: বাংলার বাড়ি যোজনায় দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ শাসকদলের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ। যাদের পাকা বাড়ি রয়েছে, তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে নাম তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। অবিলম্বে ঘর বিলিতে স্বচ্ছতার দাবিতে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার ব্লকের বলগোনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনা। ঘটনার জেরে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে যোগ্যরা ঘর পাননি। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে নথিভুক্ত অনেকে এখনও তাঁদের কিস্তির টাকা পাননি। কারও কারও কাছে কাটমানি নেওয়া হয়েছে। দোতলা বাড়ির মালিকেরা প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন। এইসব অভিযোগ নিয়ে পঞ্চায়েত বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, তাঁরা অভিযোগ জানাতে গেলে শাসকদল এবং পঞ্চায়েতের লোকজন একে অপরকে দেখাচ্ছেন। তাঁরা এর বিহিত চান। একইসঙ্গে গতরাতে ভাটাকুল গ্রামে পঞ্চায়েত সদস্য শেখ আলাউদ্দিনকে ঘিরে গ্রামবাসীদের হট্টগোলের ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে এলাকায়।
গ্রামবাসী শেখ রাজেশ অভিযোগ করেন, প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, পঞ্চায়েতের সদস্য শেখ ভোদাই তাঁর মায়ের কাছ থেকে কুড়ি হাজার টাকা নিয়েছে। তাঁরা ভয়ে কিছু বলতে পারেননি। মাজিদা শেখের অভিযোগ, সব কিছু খতিয়ে দেখার পরও টাকা দিচ্ছে না পঞ্চায়েত। পাকা বাড়ি রয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের এমন কাছের লোকেরা প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন।
ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মনোয়ার শেখ বলেন, “বিডিও বলছেন, কিছু জানি না। পঞ্চায়েত বলছে জানি না। আমরা ওসব জানি না। কেন টাকা ঢুকল না, সেই কৈফিয়ত চাইতে এসেছি।” শেখ জহিরুদ্দিন নামে আর একজন বলেন, “যাদের পাকাবাড়ি রয়েছে, তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে প্রকল্পে নাম ঢুকিয়েছে। আমাদের ঘর নেই। টাকা দিতে পারিনি বলে কিছু পাইনি।”
ঘটনায় শাসকদলকে তোপ দেগেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতা শান্তরূপ দে বলেন, “মানুষ জেগে উঠেছে। ভোটের পর কোথায় পালাবে তার প্রস্তুতি নিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। দিকে দিকে মানুষ দুর্নীতির প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন।”
স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বাগবুল ইসলাম এ নিয়ে বলেন, “ভাটাকুল গ্রামের কিছু মানুষ অভিযোগ করেছেন। তার নায্যতা প্রশাসন খতিয়ে দেখবে। ব্লক প্রশাসন এগুলি দেখে। শাসকদলের বা সদস্যদের ভূমিকা থাকে না। তা সত্ত্বেও অভিযোগ থাকলে যে কোনও স্তরে তা জানাতে পারেন।” বিজেপিকে তোপ দেগে তিনি বলেন, “বিজেপি এ নিয়ে কথা বলতে পারে না। আবাস খাতে টাক কয়েক বছর ধরে কেন্দ্র দিচ্ছে না। রাজ্য নিজের তহবিল থেকে প্রকল্প চালাচ্ছে। পারলে তা নিয়ে বলুক।”
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের জেরে ইস্তফা দিতে চাইলেন পূর্ব বর্ধমানের বলগোনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান লায়লা বেগম চৌধুরী। তিনি বলেন, “গত বছর যারা পেয়েছে, এবারেও তারা পাচ্ছে। এগুলো ব্লক দেখে। তারা ভেরিফাই করে। আমাদের তথ্য দেয় না। মানুষের ক্ষোভ নায্য। কিন্তু প্রশাসন, ব্লক, নেতারা কেউ দায় নিচ্ছেন না। এ পঞ্চায়েত স্বচ্ছভাবে চলছিল। কিন্তু এই অভিযোগ আসায় তার চাপ আমি নিতে পারছি না। তাই চেয়ার ছেড়ে দিচ্ছি। বিধায়ক এবং যাঁরা আমায় বসিয়েছিলেন, তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি।”
