AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

হোয়াটসঅ্যাপে দিব্যজ্যোতির সঙ্গে শেষ কথা কী হয়েছিল রাহুলের? জানিয়ে দিলেন অভিনেতা

রাহুল অরুণোদয়ের সঙ্গে দিব্যজ্যোতির সম্পর্কটা কেবল পেশাদারি ছিল না, ছিল আত্মার টান। তিনি বলেন, “রাহুল দা শুধু একজন ট্যালেন্টেড অভিনেতাই ছিলেন না, ওঁর গুণ বলে শেষ করা যাবে না। ওঁর বেডরুমে কোনও খাট নেই, সাধারণ একটা গদি পাতা থাকে। সেখানে রয়েছে আড়াই হাজার ডিভিডি এবং সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি বই! যার মধ্যে প্রচুর বই ওঁর নিজের লেখা।”

হোয়াটসঅ্যাপে দিব্যজ্যোতির সঙ্গে শেষ কথা কী হয়েছিল রাহুলের? জানিয়ে দিলেন অভিনেতা
| Updated on: Mar 30, 2026 | 12:19 AM
Share

টলিপাড়ায় ফের নক্ষত্রপতন। দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং অত্যন্ত কাছের বন্ধু, দাদা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ অভিনেতা দিব্যজ্যোতি দত্ত। জনপ্রিয় এই অভিনেতার প্রয়াণে শোকের ছায়া বিনোদন জগতে। টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাহুলকে হারানোর যন্ত্রণার পাশাপাশি শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়েও মুখ খুললেন দিব্যজ্যোতি।

রাহুল অরুণোদয়ের সঙ্গে দিব্যজ্যোতির সম্পর্কটা কেবল পেশাদারি ছিল না, ছিল আত্মার টান। তিনি বলেন, “রাহুল দা শুধু একজন ট্যালেন্টেড অভিনেতাই ছিলেন না, ওঁর গুণ বলে শেষ করা যাবে না। ওঁর বেডরুমে কোনও খাট নেই, সাধারণ একটা গদি পাতা থাকে। সেখানে রয়েছে আড়াই হাজার ডিভিডি এবং সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি বই! যার মধ্যে প্রচুর বই ওঁর নিজের লেখা।” দিব্যজ্যোতির কথায়, রাহুল দা ছিলেন চলন্ত এক ‘এনসাইক্লোপিডিয়া’। রাহুলের বাড়িতে কিছুদিন আগেও গিয়েছেন দিব্যজ্যোতি।

অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে দিব্যজ্যোতি জানান, খবরটি পাওয়ার পর তিনি রাহুল অরুণোদয়ের পুরনো হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটগুলো দেখছিলেন। কিছুদিন আগেই রাহুল তাঁকে মেসেজ করেছিলেন, যেখানে ‘রেড ফ্ল্যাগ’-এ দিব্যজ্যোতি ও দিব্যানী মন্ডলের কাজের প্রশংসা করেছিলেন তিনি। অভিনেতা আক্ষেপ করে বলেন, “উত্তরে আমি লিখেছিলাম ‘লাভ ইউ দাদা’। ওটাই যে আমাদের শেষ কথা হবে, কখনও ভাবিনি।” ফিটনেস নিয়েও দুজনের মধ্যে নিয়মিত কথা চলত বলে জানান তিনি। ফিটনেস জার্নিতে কি খাবেন সেই পরামর্শও রাহুল নিতেন দিব্যজ্যোতির থেকে।

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দিব্যজ্যোতি জানিয়েছেন, তিনি তিনটি ভিন্ন সূত্র থেকে দুর্ঘটনার কথা শুনেছেন:

তিনি বলেছেন শোনা যাচ্ছে, শুটিং শেষে নৌকা নিয়ে কিছুটা এগিয়েছিলেন তাঁরা। হঠাৎ বড় ঢেউ আসায় ভারসাম্য হারিয়ে নৌকা থেকে দুজন পড়ে যান। গামছা দিয়ে একজনকে টেনে তোলা সম্ভব হলেও, রাহুলকে  বাঁচানো যায়নি।

অভিনেতা আরও এক তথ্য সূত্রে জানতে পেরেছেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় রাহুলের টেকনিশিয়ানদের জানিয়েছিলেন যে ওঁর বুকে ব্যথা করছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অনেকেই এটিকে হার্ট অ্যাটাক বলে মনে করছেন।

শুটিং চলাকালীন বা প্যাক-আপের পর এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে দিব্যজ্যোতি নিজেও সন্দিহান। তিনি বলেন, “এত বড় ইউনিট, এত মানুষ, সেখানে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তো থাকেই। প্যাক-আপের পর কেন তাঁরা আবার নৌকা নিয়ে গেলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।”

সহকর্মী, দাদার মৃত্যুকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না দিব্যজ্যোতি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এর থেকে ২০২৫ সালটাই ভালো ছিল। ২৬-এর শুরুটা হলো যুদ্ধ দিয়ে, আর মার্চ মাস শেষ হওয়ার আগেই এমন একটা খবর। রাহুল দা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকতেন, তাও মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু একদম মারা গিয়েছেন? এটা ভাবা যাচ্ছে না।” সোমবার রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

বর্তমানে রাহুলের মা ও ছেলের অবস্থার কথা ভেবে ভীষণ উদ্বিগ্ন দিব্যজ্যোতি। অকাল মৃত্যুর ভুয়ো খবর রটে, তাই প্রথমে এই মৃত্যুর খবরটিও বিশ্বাস করতে চাননি। কিন্তু পরে সহকর্মীদের ফোন আসায় কঠিন বাস্তবকে মেনে নিতে বাধ্য হন তিনি।

Follow Us