
হিন্দু ধর্মে বজরংবলীকে ‘সংকটমোচন’ হিসেবে আরাধনা করা হয়। ভক্তরা তাঁদের প্রিয় রামভক্তকে তুষ্ট করতে সিঁদুর, চামেলি তেল কিংবা লাড্ডু অর্পণ করেন। কিন্তু শাস্ত্রীয় মতে, হনুমানজির পুজোর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল তুলসী পাতা বা তুলসীর মালা। প্রচলিত বিশ্বাস, বজরংবলীকে তুলসীর মালা পরিয়ে দিলে তিনি ভক্তের সমস্ত সংকট মুহূর্তের মধ্যে হরণ করে নেন। কিন্তু কেন ৫৬ ভোগ ছেড়ে সামান্য তুলসী পাতাতেই তুষ্ট হন মহাবীর? এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক পৌরাণিক আখ্যান।
পৌরাণিক কথা অনুসারে, বনবাস শেষে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র যখন অযোধ্যার রাজা হলেন, তখন একদিন মাতা সীতা পরম স্নেহে হনুমানজির জন্য নিজের হাতে অন্নপ্রাসাদ প্রস্তুত করেছিলেন। বজরংবলীর জন্য হরেক রকমের ব্যঞ্জন এবং ‘ছপ্পান্ন ভোগ’ সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল। হনুমানজি ভোজন করতে বসলেন এবং অত্যন্ত তৃপ্তির সঙ্গে খেতে শুরু করলেন। কিন্তু দেখা গেল, একে একে সমস্ত ব্যঞ্জন শেষ হয়ে গেলেও তাঁর খিদে মিটছে না। মাতা সীতা পুনরায় খাবারের ব্যবস্থা করলেন, হনুমানজি তাও নিমিষে শেষ করে ফেললেন। রাজভাণ্ডার খালি হওয়ার উপক্রম হলো, অথচ পবনপুত্রের তৃপ্তির চিহ্নমাত্র নেই।
হনুমানজির এই অতৃপ্ত ক্ষুধা দেখে মাতা সীতা দুশ্চিন্তায় পড়লেন। উপায় না দেখে তিনি ভগবান শ্রীরামের স্মরণ নিলেন। প্রভু শ্রীরাম মৃদু হেসে সীতাকে একটি উপায় বাতলে দিলেন। সীতা বুঝতে পারলেন যে, হনুমানজির এই ক্ষুধা শারীরিক নয়, বরং এটি হলো ভক্তির ক্ষুধা।
এরপর মাতা সীতা একটি তুলসী পাতা নিলেন এবং তার ওপর ভক্তিভরে ‘রাম’ নাম লিখলেন। তিনি সেই পাতাটি অত্যন্ত প্রেম ও মমতার সঙ্গে হনুমানজিকে দিলেন। অলৌকিক বিষয় হলো, যেইমাত্র হনুমানজি সেই তুলসী পাতাটি গ্রহণ করলেন, অমনি তাঁর পেট ভরে গেল এবং তিনি তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে লাগলেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, তুলসীর মধ্যেই শ্রীরামের বাস। তাই তুলসী পাতার মাধ্যমে যখন রাম নাম হনুমানজির কাছে পৌঁছায়, তখনই তিনি পূর্ণ তৃপ্তি লাভ করেন। সেই সময় থেকেই বজরংবলীর পুজোয় তুলসী পাতা আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস, তুলসীর মালা অর্পণ করলে ভক্তের হৃদয়েও রাম নামের ভক্তি জাগরিত হয় এবং সংকটমোচন প্রসন্ন হয়ে আশীর্বাদ বর্ষণ করেন।