
পঞ্জিকা মতে, মহাদেবকে তুষ্ট করতে এবং নিজের আধ্যাত্মিক উন্নতির কামনায় প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত মহাশিবরাত্রির ব্রত পালন করেন। তবে এই ব্রত কেবল অভুক্ত থাকা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও ঐতিহ্য।
কেন পালন করা হয় এই ব্রত?
মনে করা হয়, এই বিশেষ রাতে মানুষের মেরুদণ্ডের শক্তি প্রাকৃতিকভাবেই ওপরের দিকে ধাবিত হয়। উপবাস ও সোজা হয়ে বসে জাগরণ করলে মন ও শরীর জাগতিক বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে মোক্ষ লাভের পথে অগ্রসর হয়। শিবের বিষপানের জ্বালা কমাতে ভক্তরা জল ও দুধ দিয়ে শিবলিঙ্গ শীতল করেন এবং তাঁর কষ্টের ভাগ নিতে নিজেরাও আহার ত্যাগ করেন।
শিবরাত্রির সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে শিবের সামনে ব্রত পালনের ‘সংকল্প’ করতে হয়। শাস্ত্র মতে, ‘নির্জলা’ (জলহীন) উপবাসই শ্রেষ্ঠ। তবে শরীর অনুমতি না দিলে দুধ, ফল এবং জল খেয়ে ‘ফলার’ করা যায়।
এই দিনে চাল, ডাল বা গমের তৈরি কোনো খাবার (অন্ন বা রুটি) গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। এছাড়া পেঁয়াজ, রসুন বা যেকোনো তামসিক খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হয়।
লবণ ব্যবহার: যদি নুন খাওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে সাধারণ লবণের বদলে ‘সৈন্ধব লবণ’ (Rock Salt) ব্যবহার করা বিধেয়।
চার প্রহরের পুজো ও ঐতিহ্য
মহাশিবরাত্রির রাতকে চারটি প্রহরে ভাগ করা হয়। প্রতিটি প্রহরে শিবলিঙ্গে আলাদা আলাদা দ্রব্য দিয়ে অভিষেক করার রীতি রয়েছে:
১. প্রথম প্রহর: দুধ দিয়ে অভিষেক।
২. দ্বিতীয় প্রহর: দুধ বা দই দিয়ে অভিষেক।
৩. তৃতীয় প্রহর: ঘৃত বা ঘি দিয়ে অভিষেক।
৪. চতুর্থ প্রহর: মধু দিয়ে অভিষেক।
প্রতিটি অভিষেকের পর জল ও বেলপাতা অর্পণ করা বাধ্যতামূলক।
শিবরাত্রির পরের দিন সকালে স্নান সেরে নির্দিষ্ট ‘পারণ’ তিথির মধ্যে খাবার গ্রহণ করে ব্রত ভঙ্গ করতে হয়। সঠিক সময়ে পারণ না করলে ব্রতের পূর্ণ ফল লাভ হয় না বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
উপবাসের সময় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি। গর্ভবতী মহিলা, শিশু এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কড়া উপবাসের বদলে লঘু আহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ ভক্তির মূল উৎস হলো সুস্থ শরীর ও মন।