
শুভজিত মিত্র
আরামবাগ: নদীর জলে ভেসে এসেছিল দেবী দুর্গার মূর্তি। সেই মূর্তি উদ্ধার করে গাছের নিচে শুরু হয়েছিল আরাধনা। তারপর বর্ধমানের রাজা প্রতিষ্ঠা করেন জয়দুর্গার মন্দির। কথিত আছে, রাজা কোনও এক কাজে ফুলুই গ্রামে গিয়েছিলেন। পালকি থেকে নেমে তিনি ঘুরতে যান তারাজুলি নদীর পাড়ে (মতান্তরে তারাজুলি খাল)। হঠাৎ দেখতে পান, দুর্গার (Durga Puja 2026) মূর্তি ভেসে আসছে। রাজা মূর্তিটি তুলে নিয়ে একটি গাছের নিচে রেখে পুজো শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মন্দির। সেই থেকে পূজিত হয়ে আসছেন গোঘাটের মা জয়দুর্গা (Jay Durga)।
তিনশো বছর পেরিয়েও আজ পরম্পরা ও ঐতিহ্য মেনে পুজো হচ্ছে জয়দুর্গা মন্দিরে। বর্ধমানের রাজা মন্দির প্রতিষ্ঠার পর পুজোর দায়িত্ব দেন স্থানীয় রামচন্দ্র চক্রবর্তীকে। পরবর্তীকালে তাঁর উত্তরসূরিরাই মায়ের পুজো করে আসছেন। মন্দিরে সারা বছর দেবীর আরাধনা করা হয়। নিবেদন করা হয় অন্নভোগ। দেবীপক্ষে তিথি মেনে মহালয়ার দিন থেকে শুরু হয় চণ্ডীপাঠ। প্রতিপদের দিন হয় ঘট উত্তোলন। আগে একসময় কামানের তোপধ্বনি দিয়ে পুজোর সূচনা করা হত। সূচনা হত পার্শ্ববর্তী এলাকার অন্যান্য পুজোরও। প্রায় ২০ বছর আগেও এই প্রথার প্রচলন থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আজ তা অতীত।
পুজোয় বলিপ্রথা প্রচলিত রয়েছে। সপ্তমী, অষ্টমী, সন্ধিপুজো এবং নবমীর দিন ছাগবলি হয়। পাশাপাশি, আখ ও চালকুমড়োও বলি দেওয়া হয়।
সপ্তমীর দিন মাকে নিবেদন করা হয় অন্নভোগ। অষ্টমীর দিন নিবেদন করা হয় লুচি। নবমীর দিনও মাকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। তবে বিশেষত্ব হল, সন্ধিপুজোয় যে ছাগটি বলি দেওয়া হয়, সেই ছাগের মাংস দিয়েই নবমীর দিন মাকে ভোগ নিবেদন করা হয়।
বর্ধমানের জয়দুর্গা মন্দিরের আরও একটা বিশেষত্ব হল, মন্দিরের পাশাপাশি, যে গাছের নিচে একসময় দেবীর আরাধনা করা হত, ঐতিহ্য মেনে সেখানেও পূজিত হন মা দুর্গা।