Ramakrishna Kathamrita: রামকৃষ্ণ বলেন, এই তিন টান এক হলেই ঈশ্বর লাভ, কী এই তিনটে টান?
Spiritual Teachings God Realization: ঠাকুরের বিশ্বাস ও ব্যাখ্য়া শুনে ঠাকুরের প্রতি আরও বেশি মোহিত হয়ে গিয়েছিলেন মাস্টার। তবে একটা প্রশ্ন মাস্টারের মাথায় ঘুরপাক খেয়েই যাচ্ছিল। তা হল ঈশ্বরদর্শনের উপায়। সাহস করে ঠাকুরকে প্রশ্নটা করেই ফেললেন মাস্টার।

টিভি নাইন বাংলার ডিজিটালের পাতায় শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত। প্রতি পর্বে উঠে আসবে ঠাকুরের নানা উক্তি ও তার ব্যাখা। আজ ষষ্ঠ পর্ব।
কামিনী-কাঞ্চন, অর্থ সম্পর্কে ঠাকুরের বিশ্বাস ও ব্যাখ্য়া শুনে ঠাকুরের প্রতি আরও বেশি মোহিত হয়ে গিয়েছিলেন মাস্টার। তবে একটা প্রশ্ন মাস্টারের মাথায় ঘুরপাক খেয়েই যাচ্ছিল। তা হল ঈশ্বরদর্শনের উপায়। সাহস করে ঠাকুরকে প্রশ্নটা করেই ফেললেন মাস্টার।
মাষ্টার—ঈশ্বরকে কি দর্শন করা যায়?
শ্রীরামকৃষ্ণ—হাঁ, অবশ্য করা যায়। মাঝে মাঝে নির্জনে বাস; তাঁর নামগুণগান, বস্তুবিচার—এই সব উপায় অবলম্বন করতে হয়।
মাষ্টার—কী অবস্থাতে তাঁকে দর্শন হয়?
শ্রীরামকৃষ্ণ—খুব ব্যাকুল হয়ে কাঁদলে তাঁকে দেখা যায়। মাগছেলের জন্য লোকে একঘটি কাঁদে, টাকার জন্য লোকে কেঁদে ভাসিয়ে দেয়, কিন্তু ঈশ্বরের জন্য কে কাঁদছে? ডাকার মতো ডাকতে হয়।
এই বলিয়া ঠাকুর গান ধরিলেন,
“ডাক দেখি মন ডাকার মতো কেমন শ্যামা থাকতে পারে। কেমন শ্যামা থাকতে পারে, কেমন কালী থাকতে পারে॥ মন যদি একান্ত হও, জবা বিল্বদল লও, ভক্তি-চন্দন মিশাইয়ে (মার) পদে পুষ্পাঞ্জলি দাও॥
“ব্যাকুলতা হলেই অরুণ উদয় হল। তারপর সূর্য দেখা দিবেন। ব্যাকুলতার পরই ঈশ্বরদর্শন।
“তিন টান একত্র হলে তবে তিনি দেখা দেন—বিষয়ীর বিষয়ের উপর, মায়ের সন্তানের উপর, আর সতীর পতির উপর টান। এই তিন টান যদি কারও একসঙ্গে হয়, সেই টানের জোরে ঈশ্বরকে লাভ করতে পারে।
“কথাটা এই, ঈশ্বরকে ভালবাসতে হবে। মা যেমন ছেলেকে ভালবাসে, সতী যেমন পতিকে ভালবাসে, বিষয়ী যেমন বিষয় ভালবাসে। এই তিনজনের ভালবাসা, এই তিন টান একত্র করলে যতখানি হয়, ততখানি ঈশ্বরকে দিতে পারলে তাঁর দর্শন লাভ হয়।
“ব্যাকুল হয়ে তাঁকে ডাকা চাই। বিড়ালের ছানা কেবল ‘মিউ মিউ’ করে মাকে ডাকতে জানে। মা তাকে যেখানে রাখে, সেইখানেই থাকে—কখনো হেঁশোলে, কখনো মাটির উপর, কখন বা বিছানার উপর রেখে দেয়। তার কষ্ট হলে সে কেবল মিউ মিউ করে ডাকে, আর কিছু জানে না। মা যেখানেই থাকুক, এই মিউ মিউ শব্দ শুনে এসে পড়ে।”
