
“জেগে ওঠো, সচেতন হও এবং লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত থেমো না”— এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে ভারতাত্মার এই ডাক আজও কোটি কোটি যুবকের ধমনীতে রক্তসঞ্চার করে। স্বামী বিবেকানন্দ কেবল একজন সন্ন্যাসী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক আধুনিক চিন্তাবিদ ও সমাজ সংস্কারক। বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক এবং মানসিক চাপে ভরা জীবনে স্বামীজির দর্শন কীভাবে একজন মানুষকে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দিতে পারে, তা লুকিয়ে রয়েছে তাঁর বাণীতেই।
আত্মবিশ্বাসই সাফল্যের চাবিকাঠি
স্বামীজি বলতেন, “যিনি নিজেকে বিশ্বাস করেন না, তিনি নাস্তিক।” তাঁর মতে, জগতের ইতিহাস হলো মুষ্টিমেয় কয়েকজন আত্মবিশ্বাসী মানুষের ইতিহাস। যখনই কোনো কাজে ভয় পাবেন বা মনে হবে আপনার দ্বারা হবে না, তখন নিজের শক্তির ওপর বিশ্বাস রাখাই হবে স্বামীজির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
একাগ্রতা বা ফোকাস
আজকের যুগে আমাদের মন নানা দিকে বিক্ষিপ্ত। স্বামীজি সমাধান দিয়েছিলেন এক অমর বাণীর মাধ্যমে— “একটি চিন্তা গ্রহণ করো। সেই চিন্তাটিকে তোমার জীবন বানিয়ে তোলো— সেটিকে নিয়ে চিন্তা করো, সেটির স্বপ্ন দেখো এবং সেটির ওপর ভিত্তি করেই বেঁচে থাকো।” তাঁর মতে, সাফল্যের গোপন সূত্র হলো নিজের সমস্ত শক্তিকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিবদ্ধ করা।
নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ুন
অদৃষ্ট বা ভাগ্যের ওপর দোষ চাপানো মানুষের স্বভাব। স্বামীজি শিখিয়েছেন, “নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো, সমস্ত শক্তি তোমার ভেতরেই আছে। তুমিই তোমার ভাগ্যের নির্মাতা।” পরিস্থিতির দোহাই না দিয়ে প্রতিকূলতাকে জয় করার অদম্য সাহস জুগিয়েছেন তিনি।
ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়
অনেকেই একবার বিফল হয়ে হাল ছেড়ে দেন। স্বামীজি বলতেন, “শতবার আছাড় খেলেও আবার উঠে দাঁড়াও।” তাঁর মতে, ভুল করা দোষের নয়, বরং ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে চেষ্টা থামিয়ে দেওয়াটাই প্রকৃত পরাজয়।
চারিত্রিক শক্তি ও পরোপকার
বর্তমান সমাজে নৈতিকতার যে অবক্ষয় দেখা যায়, তার সমাধান লুকিয়ে স্বামীজির এই বাণীতে— “পবিত্রতা, ধৈর্য ও অধ্যবসায়—এই তিনটিই সাফল্যের জন্য অপরিহার্য। আর সবকিছুর ওপরে প্রয়োজন ভালোবাসা।” তিনি মনে করতেন, নিঃস্বার্থ সেবা এবং পরোপকারই মানুষের জীবনের প্রকৃত সার্থকতা।
মনোবিদদের মতে, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে বাড়ছে ডিপ্রেশন বা অবসাদ। এই পরিস্থিতিতে স্বামীজির ‘অভীক’ হওয়ার (নির্ভীকতা) মন্ত্র ম্যাজিকের মতো কাজ করতে পারে। ভয়কে জয় করে নিজের ওপর আস্থা ফেরানোই স্বামীজির দর্শনের মূল কথা। আজ স্বামীজির জন্মতিথিতে যদি তাঁর দর্শনের একটি ক্ষুদ্র অংশও নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করতে পারি, তবেই সমাজ এক নতুন আলোর সন্ধান পাবে।