‘আজ মঠে আপনার অন্ন নেই’, কাকে একথা বলেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ?

স্বামীদি নিজেও যেমন এই দর্শন মেনে চলতেন, তিনি চাইতেন তাঁর আশপাশে থাকা মানুষরা যেন, এই শিক্ষাতেই শিক্ষিত হয়ে উঠুক। আর এ ব্যাপারে কোনও আপোসে যেতে নারাজ ছিলেন স্বামীজি। তিনি বলতেন, “যে আদেশ দিতে চায়, তাকে আগে আদেশ পালন করতে শিখতে হয়।” স্বামী বিবেকানন্দ এই দর্শন কতটা কঠোরভাবে মানতেন, তাঁর দৃষ্টান্ত রয়েছে বেলুড়মঠে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায়।

আজ মঠে আপনার অন্ন নেই, কাকে একথা বলেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ?

|

Jan 12, 2026 | 4:37 PM

রাবরই স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন, সুশৃঙ্খল চরিত্র ছাড়া কোনও জাতি বা প্রতিষ্ঠান মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, শৃঙ্খলাই একমাত্র কোনও দেশ, কোনও জাতি, কোনও ব্যক্তিকে উন্ননতি দিকে নিয়ে যেতে পারে। স্বামীদি নিজেও যেমন এই দর্শন মেনে চলতেন, তিনি চাইতেন তাঁর আশপাশে থাকা মানুষরা যেন, এই শিক্ষাতেই শিক্ষিত হয়ে উঠুক। আর এ ব্যাপারে কোনও আপোসে যেতে নারাজ ছিলেন স্বামীজি। তিনি বলতেন, “যে আদেশ দিতে চায়, তাকে আগে আদেশ পালন করতে শিখতে হয়।” স্বামী বিবেকানন্দ এই দর্শন কতটা কঠোরভাবে মানতেন, তাঁর দৃষ্টান্ত রয়েছে বেলুড়মঠে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায়।

সালটা ১৮৯৭ – ৯৮ হবে। বেলুড় মঠ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে সবে। সন্ন্যাসীদের জন্য নিয়মনুবর্তিতা ছিল স্বামী বিবেকানন্দের কাছে অলঙ্ঘনীয়। মঠের নিয়ম ছিল নির্দিষ্ট সময়ের পর ভোজনালয় বন্ধ হয়ে যাওয়া। একদিন মঠের এক বয়োজ্যেষ্ঠ সন্ন্যাসী , যিনি স্বয়ং স্বামীজির গুরুভাই, প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে ফিরতে কিছুটা দেরি করে ফেললেন। স্বামীজি তাঁকে রেহাই দেননি। দিয়েছিলেন কঠোর শাস্তি। হ্য়াঁ, দেরি করে ভোজনে হাজির হাওয়ার কারণে। স্বামীজি গুরুভাইকে স্বামীজি সেদিন দৃঢ় কণ্ঠে তাঁকে বলেছিলেন, “আজ মঠে আপনার অন্ন নেই। ” জানেন কাকে বলেছিলেন এই কথা? তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং স্বামী শুদ্ধানন্দ। স্বামীজির এই কঠোর রূপ সেদিন মঠের নবীন-প্রবীণ সকলকেই স্তম্ভিত করে দিয়েছিল।

তবে বিবেকানন্দ মানেই কেবল কঠোরতা নয়। স্বামী শুদ্ধানন্দ যখন সারাদিন উপোস করে রাতে নিজের ঘরে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ঘটল এক অন্য ঘটনা। মধ্যরাতে দেখা গেল স্বামীজি নিজে কিছু খাবার হাতে নিয়ে তাঁর ঘরের দরজায় উপস্থিত। এক হাতে শাসনের বজ্র, অন্য হাতে জননীর মতো মমতা। শুধু তাই নয়, সেদিন স্বামীজি নিজেও খাননি। শুদ্ধানন্দর ভিক্ষা করে আনা খাবার থেকেই খেয়েছিলেন তিনি। আর বলেছিলেন, “তোর ওপর আমি রেগে নেই রে, কিন্তু নিয়ম তো মানতেই হবে। না হলে মঠ চলবে কী করে? নে, এবার কিছু খেয়ে নে।” এই ছিল বিবেকানন্দ। একদিকে তিনি যেমন প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বজ্রের মতো কঠিন হতে পারতেন, অন্যদিকে শিষ্যের ক্ষুধার কষ্টে তাঁর হূদয় মাখন হয়ে গলে যেত। বেলুড় মঠের প্রতিটি ইটে আজও মিশে আছে স্বামীজির সেই শাসনের তেজ আর ভালোবাসার মিষ্টতা। শৃঙ্খলা আর মানবিকতার এই মেলবন্ধনই রামকৃষ্ণ মিশনকে এক শতাব্দী ধরে অপরাজেয় করে রেখেছে।