AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Hangseshwari Temple: অসংখ্য গোপন সিঁড়ি, গুরুর নির্দেশ ছাড়া ঢুকলেই পথ হারানোর ভয়! হুগলির হংসেশ্বরী মন্দিরের গল্প শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে

Hangseshwari Temple: ১৩টি চূড়া, ভেতরে গোলকধাঁধা! বাংলার চেনা মন্দির-স্থাপত্যের থেকে কেন এত আলাদা হুগলির হংসেশ্বরী? বিলেত যাওয়া বাতিল করে কেন এই মন্দির গড়লেন রাজা? গুরুর নির্দেশ ছাড়া এর গোপন সিঁড়িতে পা রাখলেই বিপদের ভয়? উইকেন্ডের পারফেক্ট ডেস্টিনেশন এই মন্দিরের পরতে পরতে জড়িয়ে তন্ত্র ও যোগ সাধনার রহস্য। জানুন হংসেশ্বরীর অজানা ইতিহাস।

Hangseshwari Temple: অসংখ্য গোপন সিঁড়ি, গুরুর নির্দেশ ছাড়া ঢুকলেই পথ হারানোর ভয়! হুগলির হংসেশ্বরী মন্দিরের গল্প শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে
কোন রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এই মন্দিরে?Image Credit: wikipedia
| Updated on: Nov 05, 2026 | 8:21 AM
Share

এটি সাধারণ কোনও মন্দির নয়, এই মন্দিরের প্রতিটি খাঁজে জড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন তন্ত্র ও ষটচক্র জাগরণের রহস্য। এখানে মা চতুর্ভুজা, নীলবর্ণা। এক হাতে বরাভয়, অন্য হাতে তরবারি। মহাকালের হৃদয় থেকে জন্ম নেওয়া পদ্মে তাঁর অধিষ্ঠান। তিনি কালী, তবে এখানে তিনি কুলকুণ্ডলিনীর রূপে বিরাজমান। হুগলির বাঁশবেড়িয়ার মা হংসেশ্বরীর মন্দির শুধু একটি উপাসনালয় নয়, এটি এক জীবন্ত যোগমার্গ। শ্রীরামকৃষ্ণদেবও এই আধ্যাত্মিক টানে একাধিকবার ছুটে এসেছেন এখানে।

মন্দির তৈরির গল্প: আজ থেকে প্রায় ২১০ বছর আগে বাঁশবেড়িয়ার রাজা নৃসিংহদেব রায় এই মন্দির তৈরির কাজ শুরু করেন। তিনি কাশীতে গিয়ে তন্ত্র সাধনা শিখেছিলেন। সেখান থেকে ফিরে এসে তাঁর আর বিষয়-সম্পত্তিতে মন টেকেনি। শেষমেশ বিলেত যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করে তিনি এই মন্দির গড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কী রহস্য আছে এই মন্দিরে? বাংলার আর পাঁচটা গতানুগতিক মন্দিরের থেকে হংসেশ্বরী মন্দিরের স্থাপত্য সম্পূর্ণ আলাদা। ৭০ ফুট উঁচু, ৬ তলা এই মন্দিরের চূড়া রয়েছে ১৩টি। তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী, মানুষের শরীরে সুষুম্নাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যে সাতটি চক্র রয়েছে, মন্দিরটি ঠিক সেই আদলেই গড়া। মন্দিরের গর্ভগৃহ হল মূলাধার চক্র। সেখানে পাথরের বেদিতে খোদাই করা অষ্টদল পদ্মের উপর শায়িত শিব। তাঁর নাভি থেকে ওঠা ১২টি পাপড়ির রক্তলাল পদ্মে অধিষ্ঠান করছেন স্বয়ং মা হংসেশ্বরী।

মানবদেহের পাঁচটি নাড়ির প্রতীক হিসেবে মন্দিরে রয়েছে পাঁচটি সিঁড়ি। কালীমূর্তির সঙ্গে মন্দিরের তিন তলায় রয়েছে কষ্টিপাথরের ১২টি শিবলিঙ্গ। গর্ভগৃহ থেকে চূড়া পর্যন্ত গোটা মন্দির জুড়েই ভিতর ভিতর অসংখ্য গোপন সিঁড়ি ও সংযোগপথ উঠে গিয়েছে। গুরুর নির্দেশ ছাড়া এই যৌগিক গোলকধাঁধা থেকে কখনও সহজে মোক্ষের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।

তন্ত্রমতে, মানুষের নিঃশ্বাসের সময় ‘হং’ এবং প্রশ্বাসের সময় ‘সঃ’ শব্দ নির্গত হয়। এই ‘হংস’ বা অজপা মন্ত্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবীই হলেন মা হংসেশ্বরী। তবে রাজা নৃসিংহদেব এই কাজ সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি। ১৮০২ সালে তাঁর মৃত্যুর পর রানি শঙ্করী প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মন্দিরের কাজ শেষ করেন। ১৮১৪ সালে সাধারণের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হল।

সারা বছর মা এখানে শান্তরূপে পূজিতা হন। শুধু দীপান্বিতা অমাবস্যা বা কালীপুজোর রাতে কয়েক ঘণ্টার জন্য দেবীকে রাজবেশে সাজানো হয়। ফুল ও অলংকারে মোড়া সেই রূপ দেখতে ভিড় জমান অগণিত ভক্ত। ভোর চারটেয় মা আবার তাঁর চিরচেনা শান্তরূপে ফিরে যান। পাশেই রয়েছে অনন্ত বাসুদেব মন্দির।

কীভাবে যাবেন? কলকাতা থেকে দিল্লি রোড ধরে গাড়িতে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দির। উইকেন্ড ডেস্টিনেশন হিসেবে এটি একেবারে পারফেক্ট। ট্রেনে যেতে চাইলে হাওড়া-কাটোয়া শাখায় বাঁশবেড়িয়া স্টেশনে নেমে অটো নিতে পারেন। ব্যান্ডেল স্টেশন থেকেও সহজেই এখানে পৌঁছনো যায়। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ১২:৩০ এবং বিকেল ৪টে থেকে সন্ধে ৭টা পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকে। দুপুরের ভোগের স্বাদ নিতে চাইলে বেলা ১২:৩০-এর মধ্যে কুপন সংগ্রহ করতে ভুলবেন না।

Follow Us