
কলকাতা: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, ‘জেনো বাসনার সেরা বাসা রসনায়…’। কে না জানে, খেয়ে আর খাইয়েই বাঙালির তৃপ্তি। আর খাওয়ার কথা উঠলেই, বাঙালির কাছে এক পরিচিত নাম মিত্র কাফে। যারা মিত্রতার ১০০ বছর পার করেছে। সেই মিত্রতার টানেই আজও ভোজনরসিকরা ছুটে যান মিত্র কাফেতে। বাঙালির রেস্তোরাঁর অনন্যতার জন্য সেই মিত্র কাফেকে পুরস্কৃত করল টিভি৯ বাংলা।
খাবার ঘরের হোক কিংবা রেস্তোরাঁর। বাঙালি স্বাদ খোঁজে। আর রুচির ছাপ। এই দুইয়ের মেলবন্ধন ঘটাতে ১৯১০ সালে সুশীল রায় প্রতিষ্ঠা করেন মিত্র কাফে। তাঁর নাতি তথা মিত্র কাফের মিত্র কাফের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তাপস রায় বললেন, “এই দোকানটি আগে গণেশ মিত্র নামে একজনের ছিল। তাঁর কাছ থেকে দাদু এটা নেন। তখন দাদু অবিবাহিত ছিলেন। ওই দোকানে খেতে যেতেন। আড্ডা দিতেন। একটু কাজও করে দিতেন। একদিন গণেশ মিত্র বললেন, সুশীল আমি এটা চালাতে পারব না, তুমি এটা নিয়ে নাও। দাদু সকালে আড্ডা-টাড্ডা দিতেন। ভাবলেন, আমাদের আড্ডাটাই তো শেষ হয়ে যাবে। তখন নিয়ে নিলেন। উনি নামটা বদলালেন না। মিত্র কাফে মানে বন্ধুদের কাফে।”
সেই মিত্র কাফে অচিরেই হয়ে উঠল বাঙালির আপনজন। শতবর্ষ পেরনো মিত্র কাফে সংস্থা আজও বাঙালির খাদ্য সংস্কৃতিতে অনন্যতার দাবি রাখে। স্মৃতির সরণি বেয়ে তাপস রায় বলেন, “আমাদের শোভাবাজারের দোকান স্টার থিয়েটারের সামনে। সেখানে রাতে খেতে আসতেন মহানায়ক উত্তম কুমার। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে খাওয়া দাওয়া করতেন। ফলে এই মিত্রটা কিন্তু মিত্র কাফের মধ্যে আছে সবসময়।”
মিত্র কাফের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তাপস রায়
পুরস্কার পেয়ে টিভি৯ বাংলাকে ধন্যবাদ জানালেন মিত্র কাফের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। বলেন, “আমরা খুবই আনন্দিত। এই সম্মান পেয়ে আমরা সত্যিই গর্বিত। আরও নতুন নতুন জিনিস আনা লক্ষ্য। আরও নতুন জায়গায় পৌঁছতে চাই।” মিত্র কাফের ডিরেক্টর প্রিয়াঙ্কা রায় বলেন, “মিত্র কাফে ১০০ বছরের পুরনো ব্র্য়ান্ড। মানুষ চেনেন। এই সম্মান পেয়ে আরও ভাল কাজ করার অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়।”