ম্য়াচ ফিক্সিং কাণ্ডে দোষী, বাংলাদেশের তামিম রহমানের কারাদণ্ড ও বিরাট জরিমানা
তামিম রহমান একদিকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, অন্যদিকে ব্রিটিশ নাগরিক। তিনি শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি দল ডাম্বুলা থান্ডার্সের মালিক। আদালতে তিনি নিজেই স্বীকার করেন যে, টুর্নামেন্ট চলাকালীন এক ক্রিকেটারকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য প্রভাবিত করেন। তাঁর এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই আদালত রায়দান করেছে।

কলকাতা: শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি লিগে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে বড়সড় রায় দিল ওই দেশের আদালত। বুধবার কলম্বো হাইকোর্ট তামিম রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে। তামিমকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যা পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ২৪ মিলিয়ন শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানাও করা হয়েছে। তামিম রহমান একদিকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, অন্যদিকে ব্রিটিশ নাগরিক। তিনি শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি দল ডাম্বুলা থান্ডার্সের মালিক। আদালতে তিনি নিজেই স্বীকার করেন যে, টুর্নামেন্ট চলাকালীন এক ক্রিকেটারকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য প্রভাবিত করেন। তাঁর এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই আদালত রায়দান করেছে।
২০১৯ সালে ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি দমনে কঠোর আইনের প্রণয়ন করা হয়। এই আইন চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্রিকেট সহ বিভিন্ন খেলায় ম্যাচ ফিক্সিং, বেটিং এবং অনৈতিক ভাবে প্রভাব খাটানোর মতো কর্মকাণ্ড রোধ করা। আদালত থেকে বলা হয়েছে, ক্রীড়াঙ্গনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় এমন কঠোর ব্য়বস্থা নেওয়া জরুরি। ঘটনাটি সামনে আসে ২০২৪ সালে। যখন দলের এক ক্রিকেটার তামিম রহমানের এই প্রস্তাবের কথা কর্তৃপক্ষকে জানায়। এরপর শুরু হয় তদন্ত। তারপরই তামিম রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুবাইগামী বিমানে ওঠার সময় তাঁকে কলম্বো বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তিনি কয়েক সপ্তাহ জেল হেফাজতে ছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পান।
শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ চালু হওয়ার পর কোনও কর্তার বিরুদ্ধে এটাই প্রথম বড় আইনি পদক্ষেপ। একই মামলায় ডাম্বুলা থান্ডার্সের টিম ম্যানেজার মুজিবউর রহমানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। পাকিস্তানি নাগরিক মুজিবউর রহমানের বিরুদ্ধেও আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে জানা গিয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা একটি স্পষ্ট বার্তা দিল, ক্রীড়া ক্ষেত্রে ম্যাচ ফিক্সিং ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনও ভাবেই আপোষ করবে না তারা।
