
কলকাতা: তাঁকে দেখলে ট্র্যাফিক জ্যাম হয় না। সকাল থেকে সন্ধে লম্বা লাইন থাকে না, অটোগ্রাফ কিংবা সেলফির জন্য। নতুন প্রজন্ম তাঁকে আইডল করেছে, চট করে বলতে শোনা যায় না। দাদাসুলভ আচরণ নেই। তারকাসুলভ গ্ল্যামার নেই। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ না হলে বোধহয় বিজ্ঞাপনের মুখ হিসেবে খুব বেশি দেখাও যেত না। তিনি কি ভারতের ইতিহাসে মোস্ট আন্ডাররেটেড ক্যাপ্টেন? শনিবার রাতে ওয়াংখেড়েকে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন হত, এত নেই-এর মধ্যেও তিনি আছেন। প্রবল ভাবে আছে। দরকারে আছেন। খারাপ সময়ে আছেন। ক্যাপ্টেন হিসেবে আছেন। ব্যাটার হিসেবে আছেন। তিনি আছেন বলেই ওয়াংখেড়েতে সূর্যোদয় দেখল ভারতীয় ক্রিকেট!
৮ থেকে ৭৭ রানের মধ্যেই খেলা প্রায় শেষ হব-হব করছে। কলম্বোতে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের যা হাল, ওয়াংখেড়েতে ভারতের সেই হাল হবে কি না, চর্চা চলছে। ৭৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে ভারত। এমনকি, ১৫ রানের মাথায় একবার হাফচান্স দিয়েছেন তিনিও। তবু একটাই ভরসা, তখনও আছেন। সেই থাকা যে এমন প্রবল হতে পারে, এ তিনি ছাড়া আর কেই বা ভাবতে পারেন। বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত ফর্মে রয়েছে, এমনটা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছিল না। রানের খরা বরং চিন্তা বাড়াচ্ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাও কিছুটা ঝলক দেখা গিয়েছে। সেই সূর্যকুমার যাদব বড় মঞ্চে পা রাখতেই বিস্ফোরক ব্যাটিং করলেন। না হলে স্কোর বোর্ডে ১৬১-৯ উঠতই না।
একদিকে পর পর পড়ছে উইকেট। কিন্তু সূর্য সংহার মোডে। এই প্রজন্মের মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি চার-ছয়ের ফোয়ারা ছোটাতে শুরু করলেন। স্কোয়্যার লেগ থেকে ফাইন লেগ, কভার থেকে পয়েন্ট— সর্বত্র রান আসছে তখন। সূর্যও যেন আনরিচেবল! বল পড়লেই গ্যালারির দিকে উড়ে যাচ্ছে। ৪৯ বলে ৮৪ নট আউট। ১০টা চার, ৪টে বল হারানো ছয়।
শুরুটা কিন্তু অন্যরকম হতে পারত। অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছিলেন ঈশান কিষান। ১৬ বলে ঈশান ২০ করেন। কিন্তু প্রথম বলেই আউট অভিষেক। সেই ধাক্কাতেই নড়ে গেল ভারতের টপ অর্ডার। তিলক ভার্মা (২৫), শিবম দুবে (০)রিঙ্কু সিং (৬), হার্দিক পান্ডিয়া (৫) থেকে অক্ষর প্যাটেল (১৪)— সবাই ব্যর্থ। একমাত্র ব্যতিক্রম সূর্য।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই কেউ কেউ একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নেমে পড়েছেন। গতবার ভারতকে বিশ্বকাপ দিয়েছিলেন যিনি, সেই রোহিত শর্মার অভাব কি অনুভূত হতে পারে? ঘরের মাঠে আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই সূর্য বুঝিয়ে দিলেন, যতই তারকা না ভাবা হোক, তিনিই ফর্মে আছেন। প্রয়োজন পড়লে দলকে টেনে নিয়ে যাবেন, শেষ অবধি।