
কলকাতা : রোহিত শর্মার ক্যাচটা মিস হতেই গ্যালারিতে দেখাল এক সমর্থককে। হাঁফ ছেড়ে যেন বাঁচলেন তিনি। স্বাভাবিক, ভদ্রলোকের নাম রোহিত শর্মা। ওয়ান ডে ছাড়া কোনও ম্যাচেই তাঁকে দেখা যায় না। গতকাল রান পেয়েছিলেন কো, আজ রান পেলেন রো। একটুর জন্য শতরান না পেলেও তাঁর ও রিকলটনের ইনিংসের বদান্যতায় ১৩ বছর পর আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতল মুম্বই। ২২১ রান তাড়া করে ৫ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ পকেটে পুরে নিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। সেই সঙ্গে যেন ষষ্ঠ বারের জন্য আইপিএল জয়ের প্রস্তুতি সেরে রাখলেন সূর্যরা।
টসে জিতে নাইটদের ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক। ওপেন করতে নেমেছিলেন ফিন অ্যালেন ও অজিঙ্ক রাহানে। কয়েক সপ্তাহ আগে নাইটদের ঘরের মাঠেই সেঞ্চুরি করেছিলেন অ্যালেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৩৩ বলে ছুঁয়েছিলেন ১০০র গণ্ডি। আজ নাইটদের হয়ে প্রথম ম্যাচেই করলেন ১৭ বলে ৩৭ রান। মারলেন ছয়টি চার ও দুটি বিশাল ছক্কা। ওপেন করতে নেমে বড় ইনিংস খেললেন নাইট অধিনায়ক রাহানে। তিনি করলেন ৪০ বলে ৬৭ রান। শেষ কয়েকটি সিজনে রান ছিল না তাঁর কিন্তু যেভাবে শার্দুল, হার্দিকদের একের পর এক বল বাউন্ডারিতে পাঠাচ্ছিলেন তিনি, নাইট সমর্থকরা সিজনের শেষে ইতিবাচক ফল প্রত্যাশা করতেই পারেন।
এই বছরের সবথেকে বড় বাজি ক্যামেরন গ্রিন জলদি আউট হয়ে যান। তিনি করেছেন ১০ বলে ১৮ রান। কেকেআরের বর্তমান সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিং করেছেন ২১ বলে ৩৩ রান। তবে যাঁর কথা না বললেই নয়, তিনি কেকেআরের ২১ বছর বয়সি উইকেট রক্ষক অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। এর আগে শুধু ব্যাটিং করলেও এই সিজনে তাঁর উপরে বাড়তি দায়িত্ব দিয়েছে ম্যানেজমেন্ট। ২৯ বলে ৫১ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেললেন অঙ্গকৃষ। তাঁর ও রিঙ্কুর ব্যাটে ভর করেই ২১০ রানের গন্ডি পেরোল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তিন উইকেট পেয়েছেন শার্দুল ঠাকুর।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ওয়াংখেড়েতে ঝড় তুলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান রায়ান রিকলটন ও মুম্বইয়ের নয়নের মণি রোহিত শর্মা। দুই ওপেনারকেই আউট করায় হাত রয়েছে অনুকূল রায়ের। বৈভবের বলে রোহিতের দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছেন অনুকূল। ৩৮ বলে ৭৮ করে আউট হলেন রোহিত। অন্যদিকে, অনুকূলের এক দুর্দান্ত থ্রো-তে রান আউট হয়ে ৮১ রানের মাথায় ডাগআউটে ফিরে গেলেন রায়ান।
তাঁরা ফেরার পর অধিনায়ক সূর্যকুমার ৮ বলে ১৬ রান করলেন। ১৮৪ রানে ৩ উইকেট পড়ে গেলেও তারপর থেকেই দলকে রানের মধ্যে রেখেছিলেন হার্দিক (১৮ নট আউট) ও তিলক ভার্মা (১৪ বলে ২০)। তাঁদের ব্যাটে ভর করেই প্রথম ম্যাচে নাইটদের বিধ্বস্ত করল জয়বর্ধনের দল। ৫ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে জিতে গেল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। জয়সূচক শটটি মারলেন নমন ধীর (২ বলে ৫ নট আউট)।
কেকেআরের এই বছরে প্রধান সমস্যা বোলিং। চোটের কারণে নেই হর্ষিত রানা ও আকাশ দীপ। প্রথম ম্যাচে সাধারণ মানের বোলিং করলেন ব্লেসিং মুরাজাবানি। ৩ ওভার বল করে ৩৪ রান দিলেন তিনি। বৈভবের বোলিং ফিগার ৪-০-৫২-১। কার্তিক ত্যাগী ৪৩ রান দিলেও ১ উইকেট পেয়েছেন। ৪ ওভারে প্রায় ৫০ রান দিয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী। তাঁর অফ ফর্মের খরা কাটার অপেক্ষায় থাকবে কেকেআর সমর্থকরা। নাহলে এই বছরেও প্রাপ্তির ভাঁড়ার শূন্যই থাকবে নাইটদের।