ভারতের বিরুদ্ধে নামতে আশ্চর্য দাবি পাকিস্তানের, আইসিসি কী করবে?
একই সঙ্গে পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারত, বাংলাদেশ নিয়ে একটা ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করতে হবে। সেই সঙ্গে তাদের দাবি, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ না খেলার জন্য জরিমানা করা যাবে না। বাংলাদেশকে আইসিসির কোনও একটা বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করার অনুমতি দিতে হবে।

কলকাতা: ফান্দে পড়ে বগা কান্দে রে… বাংলা সিনেমার এই গান ওয়াঘার ওপারে উর্দুতে কেউ গেয়েছে কিনা, জানা নেই! না হোক, ফাঁদে যে পড়েছে তারা, তা জানতে হলে বাংলা, হিন্দি বা উর্দু না জানলেও চলবে। খেলার খবর যাঁরা রাখেন, তাঁরা জানেন, এই মুহূর্তে পাকিস্তান বেশ চাপে। আর তাই বিপাকে পড়ে অন্য সুরে গাইতে চাইছে পাকিস্তান। এই বিপাকের নাম বিশ্বকাপ। এবং চাপের নাম ভারত। এশিয়া কাপ থেকে মাঠ ও মাঠের বাইরে যে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ চলছে, তা বিশ্বকাপেও বহাল। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে হারতে হারতে কোনও রকমে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ জিতেছে তারা। কোনও একটা ম্যাচ হারলেই বিশ্বকাপ ‘শেষ’ হয়ে যাবে। কেন এই চমকপ্রদ তথ্য জানেন? কারণ, পাকিস্তান যে গোঁ ধরে বসেছে, ভারত ম্যাচ খেলবে না তারা। সরকারি হুকুম, তাই-ই তামিল করছেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু চাইলেই যে ভারত ম্য়াচ ওয়াকওভার দেওয়া যায় না, তা বুঝতে এখন আর অসুবিধা হচ্ছে না পাক সরকার এবং পিসিবির। আর তাই নয়া মোড় ভারত-পাক ম্যাচে।
বিপদ জেনেও তিন তাস ফেলেছে পাকিস্তান। প্রথম তাসটা চেনা। দ্বিতীয়টা সম্মান বাঁচানোর। আর তৃতীয়টা? তুরুপের তাস। যা বেশ অপ্রত্যাশিত। প্রথম তাসে পাকিস্তান রেভেনিউ বাড়ানোর দাবি তুলেছে। আইসিসি থেকে ভারত ৩৯ শতাংশ রেভেনিউ পেয়ে থাকে। কারণ, আইসিসি সবচেয়ে বেশি অর্থ পায় ভারত থেকেই। পাকিস্তান সেক্ষেত্রে পায় ৫.৭৫ শতাংশ। তা বাড়ালে ভারত ম্যাচ খেলতে নামবে তারা। দ্বিতীয় তাসটা একটু অবাক করার, বন্ধুর হাত চায় তারা। হেন্ডশেক বিতর্ক ভারত-পাক ম্যাচে নতুন নয়। তাতে ভারতের কোনও ক্ষতি না হলেও পাকিস্তানের মুখ পুড়েছে। এমনকি, এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও ভারত মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নেয়নি। হাত মেলাতে হবে বলে। পাকিস্তানের শর্ত, ভারতকে ম্যাচের সময় হাত মেলাতে হবে।
আর তিন নম্বরটা বেশ চমকপ্রদ। এমন তাস যে পাকিস্তান ফেলতে পারে, তা ভাবাও যায়নি। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেটীয় সম্পর্ক ২০১৩ সাল থেকে বন্ধ। বর্ডারে পাকিস্তানের অনধিকার অনুপ্রবেশের অভিযোগে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রায় সব সম্পর্কই ছিন্ন করেছে ভারত। সেই পাকিস্তান আইসিসিকে বলেছে, ভারতকে আবার দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সফর চালু করতে হবে। পাকিস্তানের প্রথম দাবি আইসিসি মেনে নিতে পারে। দ্বিতীয় দাবিও না হয় বিশ্বকাপের গ্ল্যামারের কথা ভেবে ভারত নিমরাজি হতে পারে। কিন্তু তৃতীয় দাবি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তা ছাড়া এই দাবি পূরণ করার জায়গায় আইসিসি দাঁড়িয়ে নেই। ভারত সরকারের উপর নির্ভর করছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্রিকেট সম্পর্কের দরজা নতুন করে খুলবে কিনা।
একই সঙ্গে পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারত, বাংলাদেশ নিয়ে একটা ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করতে হবে। সেই সঙ্গে তাদের দাবি, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ না খেলার জন্য জরিমানা করা যাবে না। বাংলাদেশকে আইসিসির কোনও একটা বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করার অনুমতি দিতে হবে।
রবিবার লাহোরে পিসিবির সঙ্গে বৈঠক করেছে আইসিসি। সেখানে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে দিয়েছে, সূচি অনুযায়ী যদি ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে না খেলে পাকিস্তান, নিয়ম মতো নির্বাচন ও জরিমানা দুই হবে। পিসিবির তরফে জানা হয়েছে, এ নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। শোনা যাচ্ছে, তিনি নাকি ভারত ম্যাচ খেলার ব্যাপারে সবুজ সঙ্কেত দিতে পারেন।
