
কলকাতা: ২০২২ টি-টোয়েনটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্য়ান্ডের কাছে হারের পরেই রোহিত শার্মা বলেছিলেন, ভারতের ব্যাটিং টেমপ্লেট পুরোনো হয়ে গিয়েছে। আর এরপরই টি-টোয়েন্টি ও ওডিআই ইনিংসে বড়সড় পরিবর্তন আসে। তার ফলও দেখা যায় দ্রুত। রোহিত নিজে ঝুঁকি নিয়ে দলকে পথ দেখান। গত ১৮ মাসে একাধিকবার রোহিত বলেছেন, দলের বাকি ব্যাটারদের জন্য তিনি নিজেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। তাঁর এই মানসিকতাই ২০২৩ ওডিআই বিশ্বকাপ, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতকে সাফল্য় এনে দেয়। কিন্তু শুভমন গিল ক্য়াপ্টেন হওয়ার পর থেকে রোহিতকে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন রুপে।
রোহিতের সেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জায়গাই এখন যেন অনেক বেশি সংযত। শুরুর ২০–৩০ বলের প্রায় ৮০%ই ডট বল। ইনিংস শুরু হচ্ছে ধীর গতিতে। যা গত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির থেকে পুরোপুরিই আলাদা। গত ছয় মাস ধরেই ওডিআই বিশ্বকাপ ২০২৭ নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছেন রোহিত। ৩৯ বছর বয়সে ফিট থাকতে তিনি ১০ কেজিরও বেশি ওজন কমিয়েছেন। তার পরই যেন ব্যাটিংয়ে এসেছে আরও বেশি সংযত মনোভাব। যেমন, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওডিআইয়ে প্রথম ১০ বলে কোনো রানই করেননি রোহিত। শুরুতে রান করার বদলে তিনি এখন বোলারদের ধৈর্য পরীক্ষা করছেন।
ভারতের কোচ রায়ান টেন ডুশখাটে বলেন, “আমি মনে করি না, ওর ব্যাটিং ভাবনায় বা স্টাইলে কোনো পরিবর্তন এসেছে। রোহিত সাধারণত যতটা সাবলীল থাকে, ততটা এখন নেই। সিরিজের মাঝে কিছুদিন ম্যাচ না খেললে এটা হওয়াটাই স্বাভাবিক।” তিনি আরও বলেন, কোহলির তুলনায় রোহিত নিজের ছন্দে ফিরতে একটু বেশি সময় নিচ্ছে। তার বড় ইনিংসগুলো সাধারণত ম্য়াচের মাঝেই আসে। গত তিনটি সিরিজে তার পরিসংখ্যান আগের থেকে খুব একটা আলাদা নয়। তিনি এখনও গড়ে ৫০ ওপরে রান করছেন। রোহিতের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গির কথায় ডুশখাটে বলেন, “রোহিত নিজের জন্য খেলে না। খারাপ পিচ আর সিরিজের আগে পর্যাপ্ত ম্যাচ না খেলার জন্য়ই হয়ত এমনটা হচ্ছে।”