
কলকাতা: এই রাত কি চুম্বনের রাত? শাহরুখ খানের (Shah Rukh Khan) অকাতরে বিলোনো চুম্বন তৃপ্তি এবং বিতর্ক দুইয়েরই জন্ম দিতে পারে। শাহরুখ আসলে নাইট পরিবারের মাথা। যাঁকে বাংলায় বাবা বলা যায়। টিমের ওঠাপড়া, ভালো-মন্দ, সময়-অসময় সব কিছুর সঙ্গে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কে বলবে তিনি বলিউডের বাদশা? কে বলবে সিলভার স্ক্রিনে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন হয়েছে তাঁর? কে বলবে তিনি যেন কেকেআর সংসারের এক অতি সাধারণ সদস্য? আশ্চর্যের বিষয় হল এ বার যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন শাহরুখ টিমের ম্যাচ থাকলে পৌঁছে যেতেন। ইডেন হোক আর দিল্লি, বেঙ্গালুরু থেকে চেন্নাই সর্বত্র দেখা মিলেছে তাঁর। ম্যাচের সময় গ্যালারি জমিয়ে রেখেছেন। আর ম্যাচ পর ঘুরেছেন মাঠ। এই শাহরুখ আমেদাবাদে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবুও ফাইনালে ঠিক হাজির ছিলেন তিনি। নাইটরা খেতাবের ম্যাচে নামছে, কিং হাজির থাকবেন না হয় নাকি!
স্ক্রিপ্ট যেন তৈরিই ছিল। কেকেআর চ্যাম্পিয়ন হতেই মাঠে যখন উৎসব, গ্যালারিতে তখন শাহরুখ জড়িয়ে ধরলেন গৌরিকে। কপালে দিলেন স্বস্তির চুমু। গ্যালারি ছেড়ে মাঠে নামতেই পুরো পরিস্থিতি যেন বদলে গেল। তাঁকে দেখে একে একে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন রিঙ্কু থেকে হর্ষিত। তিনিও জড়িয়ে ধরছেন তাঁদের। প্রত্যেককে পুরস্কার হিসেবে দিচ্ছেন ভালোবাসার চুম্বন। শাহরুখের এই অকাতরে বিলোনো চুম্বন বিতর্কের জন্মও দিতে পারে। আইপিএলে মায়াঙ্ক আগরওয়াল ও অভিষেক পোড়েলকে ফ্লাইং কিস দিয়ে এক ম্যাচ নির্বাসিত হয়েছিলেন হর্ষিত রানা। টিমে ফিরে সেই রানাই সেলিব্রেশনের ঢং বদলেছিলেন। কেকেআর চ্যাম্পিয়ন হতেই শাহরুখ এ বার দিলেন ফ্লাইং কিস। ঠিক যেন হর্ষিতের মতো। বোর্ডের কি নজরে পড়েছে?
উৎসবের দিনে এ সব আর কেউ খেয়াল রাখে না। কিছু প্লেয়ারের স্বপ্নের উড়ান, মুঠোয় ট্রফি ধরা আর দলগত সেলিব্রেশন— এসবেই চাপা পড়ে যায় সব। গৌতম গম্ভীরকে এই সময় আরও একবার বুকে টেনে নেন শাহরুখ খান। উষ্ণ আলিঙ্গনের পাশাপাশি কপালে চুমু একে দেন। ভারতীয় ক্রিকেট আর আইপিএল ভক্তরা মনে রাখবেন মালিক শাহরুখ খানকে। টিম হারলেও যিনি প্রকাশ্যে তো বটেই, ড্রেসিংরুমেও বকাঝকার পথে হাঁটেন না। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, ভালোবাসা আর চুম্বনে। এই দুইয়ে একাকার হয়ে থাকল চেন্নাইয়ের চিপক।