
কলকাতা : তাঁর ব্যাটিং দেখে কে বলবে, তিনি এখন শুধু একটি ফরম্যাটে খেলেন ? আইপিএল খেলতে নেমেছেন প্রায় ১০ মাস পর ? শনিবার আইপিএলের প্রথম ম্যাচেই এত সাবলীল ব্যাটিং দেখে অনেকেরই প্রশ্ন, কোহলি কি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় ছিলেন? ম্যাচের পর কোহলি বললেন, তিনি যথেষ্ট বিরতি নিয়েই আইপিএলে নেমেছেন। শনিবার তাঁকে যথেষ্ট ছন্দে দেখলেন সমর্থকরা। দুর্দান্ত ব্যাটিং থেকে স্ত্রী অনুষ্কাকে ফ্লাইং কিস, বাদ গেল না কিছুই। ৩৮ বলে ৬৯ রানে অপরাজিত থেকে প্রথম ম্যাচেই দলকে জয়ের সরণিতে পৌঁছে দিলেন কিং কোহলি।
১৬তম ওভারেই ১৮ রান নিয়ে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান বিরাট। তারপর গ্যালারিতে বসে থাকা স্ত্রীর দিকে ফ্লাইং কিস ছুঁড়লেন কোহলি। পাল্টা ফ্লাইং কিস দিলেন অনুষ্কাও। এরপরেই সঙ্গী টিম ডেভিডকে সঙ্গে নিয়ে ড্রেসিংরুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন তিনি। ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে কোহলির বক্তব্য,”এই মাঠে ফিরতে পেরে আবার খুব ভাল লাগছে। এক বছর আগে এই মাঠেই শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ (আইপিএল ফাইনাল) খেলেছিলাম। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ান ডে সিরিজগুলো আমাকে ছন্দ ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। আমি জানি, নিজের ফিটনেস নিয়ে পরিশ্রম করলে আমার ক্ষেত্রে আরও সুবিধে হবে।”
ভারতের হয়ে এতদিন খেলার পর এখন একটি ফরম্যাট খেলেন কোহলি। এই নিয়েই তাঁর মত,”গত ১৫ বছর ধরে যেমন ঠাসা সূচি ছিল ও আমি যেধরনের ক্রিকেট খেলেছি, আমার ক্ষেত্রে ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার একটা ঝুঁকি ছিল। কিন্তু এখন এই বিরতিগুলো পেয়ে আমার লাভ হয়। আমি মানসিক ভাবে চনমনে থাকি। বাড়তি বিরতিগুলো আমাকে মানসিক ভাবে তরতাজা করে তোলে। অবশ্যই দলের সাফল্যে আপনি অবদান রাখতে চান এবং সেটাই আপনাকে মানসিকভাবে উদ্দীপ্ত করে তোলে।” মত কোহলির।
গতকাল ২৬ বলে ৬১ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেছেন দেবদত্ত পাডিক্কাল। তাঁকে নিয়ে কোহলির মত,”অসাধারণ এক ইনিংস দেখলাম। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভাল খেলেছে। আমার পরিকল্পনা ছিল, পাওয়ারপ্লে-তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে কিন্তু দেব যেভাবে দায়িত্ব নিয়ে ইনিংসের গতি বাড়িয়েছে, তা দলের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা দেয়। আমরা যদি ২৫-২৬ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ শেষ করে দিই, তাহলে রান রেটের দিক থেকেও এগিয়ে যাব আমরা। এই পরিকল্পনা ছিল আমাদের। আমি ওকেই যতটা সম্ভব বল খেলার সুযোগ করে দিয়েছি। খুব ভাল খেলেছে দেবদত্ত।”
ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে কোহলির প্রশংসা করলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ অধিনায়ক ঈশান কিষান। তাঁর কথায়,”রান তাড়া করার সময় বিরাটভাইকে আউট করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যখন উনি রান করা শুরু করেন, ওঁকে আটকানো খুব কঠিন।” জলে গেল তাঁর নিজের ৮০ রানের ইনিংস। অবশ্য, প্রথম ম্যাচেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ডেবিউ ম্যাচেই জেকব ডাফি নিয়েছেন ৩ উইকেট। এই ম্যাচই যেন প্রমান, যেখানে গতবছর শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই এই বছর নতুন যাত্রা শুরু করল আরসিবি।