Fariba Hashimi: পুরুষের ছদ্মবেশে দেশ ছেড়েছিলেন, আফগানিস্তানকে রুপো এনে দিলেন ২৩ বছরের ফারিবা!
Asian Games 2026: তালিবান প্রদেশে নেই কোনও 'নারী কমিশন', নেই কোনও 'ফেমিনিস্ট গ্ৰুপ'। সেই দেশে ফেমিনিজমের একটাই অর্থ - হয় সমাজ যা বলবে তাই শোনো, নিজের রাস্তা নিজে খুঁজতে গেলে বিপাকে পড়তে হবে। তাঁদের হয়ে ইন্সটা,এক্সে কোনও হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করে না।

জাপান : ধরুন, আপনি একজন মহিলা। অথচ, আপনি না পারেন ঘর থেকে বেরোতে। না পারেন পড়াশোনা করতে, বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে, সিনেমা দেখতে। ‘স্বাধীন’ দেশে থেকেও আপনি পরাধীন। আপনাকে বাঁচানোর জন্য নেই কোনও কমিশন, তর্ক-তত্ত্ব। তাহলে আপনি কী করবেন? একজন পাখিকে যদি আকাশ থেকে ধরে সোজা খাঁচায় পুরে দেওয়া হয়, সে তো উড়তে না পেরে ছটফট করবেই। সেই একই অবস্থা আফগানিস্তানের তালিবান শাসনের অধীনে থাকা মহিলাদের।
ফারিবা হাশিমিকে চেনেন? না চেনারই কথা। তিনি আফগানিস্তানের সাইক্লিস্ট। যিনি গতকাল আফগানিস্তানকে পদক এনে দেওয়া প্রথম নারী প্রতিযোগী। এর আগে রবিবার মহিলাদের সাইকেলের ট্রায়ালে সপ্তম হয়েছিলেন ফারিবা। গতকাল তাঁর হাত ধরে প্রথম পদক পেল তাঁর দেশ। রুপো জেতার পর সংবাদমাধ্যমে ফারিবা বলেন, “এশিয়ান গেমসে আমি পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখেছি। এই স্বপ্নই আমাকে নিয়ে এসেছে এই মঞ্চে। আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি বাইরে বেরোলে ছেলে সেজে যেতাম। এই রুপোর পদক আফগান নারীদের দৃঢ়তা ও সংগ্রামের প্রতীক। আমি একা নই, আমার পিছনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি মহিলা আছেন, যাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে কিছু করতে চান।”
তাঁর কঠিন সংগ্রামের ঘটনা-
আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত জায়গা ফারিয়াবের বাসিন্দা ফারিবা ১৫ বছর বয়সে সাইক্লিং শুরু করেন। তাঁর বড় বোন ইউলদুজও একজন আন্তর্জাতিক সাইক্লিস্ট।প্রতিবেশীর কাছ থেকে সাইকেল চেয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা তাঁরা অনুশীলন করতেন। কিন্তু একে আফগানিস্তান, দুইয়ে মহিলা। তাঁদের দেখে বোতল থেকে পাথর – কী না ছোঁড়া হয়নি? ২০১৭ সালে প্রথম কোনও প্রতিযোগিতায় নেমে তাঁরা মাথায় ওড়না, মুখে মাস্ক ও চোখে সানগ্লাস পরে পরিচয় গোপন করেছিলেন। এরপর থেকেই শুরু হয় ছদ্মবেশে সাইকেল চালানো। কিন্তু পরিচিতি বাড়ার পর থেকেই তাঁদের দিকে পাথর ছোড়া হত, গালিগালাজ-কটূক্তি করা হত। এমনকি তাঁদের বাবাকে এমনও হুমকি দেওয়া হয়েছিল, মেয়েকে রাস্তায় বের করলে খুন করা হবে। ফারিবা এও বলেন, একবার তাঁর বোনকে একটা রিকশা চালক এমন ধাক্কা মেরেছিল, যে তাঁর বোনের কব্জি ভেঙে যায়।
তবে মেঘের উপর দিয়ে ওড়া পাখিকে আর কোনদিন মাটির বস্তু বাধা দিতে পেরেছে? তাঁরা থামেননি। ধীরে ধীরে পরিচিতি ও হুমকির পরিমাণ – দুইই বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। অবশেষে আবার ২০২১ সালে তালিবান শাসন প্রতিষ্ঠার পর পুরুষের ছদ্মবেশ নিয়ে কোনওমতে দেশ ছেড়ে ইতালিতে আশ্রয় নেন তাঁরা। ইতালির প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলেসান্দ্রা কাপেলোত্তোর কাছে অনুশীলন করেন তিনি। ফারিবা বলেন, “আমাদের দেশ খুব ভাল। তবে লোকের মানসিকতা খুব নীচু।” আফগানিস্তানে থাকার সেই সময় নিয়ে ফারিবার মত, ওখানে মহিলাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
দিন কয়েক আগেই একজন ভারতীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর অরুনিমা আইপি, যিনি ব্যাকপ্যাকার অরুনিমা বলেই সোশাল মিডিয়াতে বহুল পরিচিত, তিনি গিয়েছিলেন আফগানিস্তান। কিন্তু, ওই যে, তালিবান এলাকায় মহিলাদের এত ঘোরাঘুরি? নৈব নৈব চ। তাঁকে আটক করা হয়। শেষে ভারতীয় এমব্যাসির সাহায্যে বাঁচেন তিনি। কিন্তু এই কাহিনী অরুনিমার নয়। এই দুর্ভোগের কবলে প্রত্যেকদিন পড়েন আফগানিস্তানের হাজার হাজার মহিলা। তাঁদের জন্য নেই কোনও ‘নারী কমিশন’, নেই কোনও ‘ফেমিনিস্ট গ্ৰুপ’। সেই দেশে ফেমিনিজমের একটাই অর্থ – হয় সমাজ যা বলবে তাই শোনো, নিজের রাস্তা নিজে খুঁজতে গেলে বিপাকে পড়তে হবে। তাঁদের হয়ে ইন্সটা,এক্সে কোনও হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করে না। কিন্তু, তাঁরা আছেন। তাঁরা রয়ে যাবেন। তাঁদের লড়াইকে বিশ্বমঞ্চে আনবেন কোনও এক, ২৩ বছরের ফারিবা হাশিমি। কিন্তু তাতে দেশবাসীর মন উন্নত হবে কি?
