IPL 2026 Valuable Players : ১৬ কোটির যুবরাজ থেকে ২৬ কোটির গ্রিন, কেন আইপিএলে বারবার ফ্লপ ‘দামি তারকা’-রা?

IPL : পরিসংখ্যান বলছে, নিলামে যে প্লেয়ার সবথেকে বেশি দাম পান, তাঁর উপর প্রত্যাশার চাপ এতটাই বেড়ে যায়, যে তাঁদের স্বাভাবিক খেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাঞ্জাব কিংস বা দিল্লি ক্যাপিটালসের মতো দলগুলো কোটি টাকা খরচ করলেও ট্রফির স্বাদ পায়নি এখনও, যা তাদের সমর্থকদের কাছে একপ্রকার হতাশাজনক ।

IPL 2026 Valuable Players : ১৬ কোটির যুবরাজ থেকে ২৬ কোটির গ্রিন, কেন আইপিএলে বারবার ফ্লপ দামি তারকা-রা?
Why High-Value Players Fail to Justify Their Price in IPL History.Image Credit source: PTI, Getty Images, Official Website of RCB

| Edited By: Moumita Das

May 12, 2026 | 7:08 PM

কলকাতা : আইপিএল (IPL 2026) মানেই নাম-যশ, টাকার খেলা ও রাতারাতি বিখ্যাত হওয়ার মঞ্চ। ২০০৮ সালে শুরু হওয়া এই লিগ এই ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী ক্রিকেট লিগ বলে গণ্য করা হয়। তবে প্রদীপের নিচেই অন্ধকার! এই দামি লিগের মধ্যে রয়েছে এমন কিছু নিষ্ঠুর পরিসংখ্যান, যা ফ্যানদের হতাশাগ্রস্ত করে। বিগত কয়েক বছরে এমন অনেক ক্রিকেটার খেলে গিয়েছেন, যাঁদের নিলাম টেবিল থেকে খুব বেশি দাম দিয়ে কেনা হলেও তাঁদের পারফরম্যান্স একদমই বলার মতো হয়নি। এঁরা নিজেদের দামের প্রতি একদমই সুবিচার করতে পারেননি।

আইপিএলে ‘বিগ প্রাইস, ফ্লপ সিজন’ (Big Price, Flop Season)-এর কথা উঠলেই অবধারিত ভাবে উঠে আসে যুবরাজ সিংয়ের (Yuvraj Singh) নাম। ২০১৪ সালে তাঁকে ১৪ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru)। কিন্তু গোটা প্রতিযোগিতায় তিনি ছিলেন ফ্লপ। ১৪ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ৩৭৬ রান, যার মধ্যে ছিল মাত্র ৩টি হাফ সেঞ্চুরি। পরের বছর তাঁকে ১৬ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছিল দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (Delhi Daredevils)। তবে, এই বছর আরও খারাপ পারফরম্যান্স করেছিলেন যুবি। ১৪ ম্যাচে মাত্র ২৪৮ রান, যার গড় ছিল মাত্র ১৯.০৭। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের বোলার টাইমাল মিল্সকে (Tymal Mils) আরসিবি কিনেছিল ১২ কোটি টাকায়। সেই বছর চোটাঘাতে জর্জরিত মিচেল স্টার্কের বদলে মিল্সকে কেনে আরসিবি। তবে তিনি একদমই দাগ কাটতে ব্যর্থ হন। ৫ ম্যাচ খেলে মিল্স পেয়েছিলেন মাত্র ৫ উইকেট। ২০২১ সালে আরসিবি কিনেছিল কিউয়ি বোলার কাইল জেমিসনকে (Kyle Jamieson)। ১৫ কোটি টাকা জেমিসনের পিছনে খরচ করা হলেও গোটা সিজনে ফ্লপ হয়েছিলেন তিনি। ৯ ম্যাচে পেয়েছিলেন মাত্র ৯ উইকেট। তেমনই ২০২৪ সালে মিচেল স্টার্ককে প্রায় ২৫ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছিল কেকেআর। গোটা সিজনে খুব একটা ভাল খেলেননি স্টার্ক। ১৪ ম্যাচে পেয়েছিলেন মাত্র ১৭ উইকেট। ২০২৫ সালে ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে (Venkatesh Iyer) ২৩.৭৫ কোটি টাকা দিয়ে কেকেআর কিনলেও ১১ ম্যাচে মাত্র ১৪২ রান করেছিলেন ভেঙ্কটেশ। বছরেও প্রায় ২৬ কোটি টাকা দিয়ে (২৫.২০ কোটি) অজি অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনকে (Cameron Green) কিনেছে কেকেআর। কিন্তু এই আইপিএল চলাকালীন খুব একটা আহামরি পারফরম্যান্স করতে পারেননি গ্রিন। এর মধ্যেই শোনা গিয়েছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়া গ্রিনকে দলকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ফলে যদি কেকেআর প্লে-অফে উঠে যায়, তাহলে কেকেআরের হয়ে গ্রিনের না খেলার সম্ভাবনাই বেশি।

পরিসংখ্যান বলছে, নিলামে যে প্লেয়ার সবথেকে বেশি দাম পান, তাঁর উপর প্রত্যাশার চাপ এতটাই বেড়ে যায়, যে তাঁদের স্বাভাবিক খেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাঞ্জাব কিংস বা দিল্লি ক্যাপিটালসের মতো দলগুলো কোটি টাকা খরচ করলেও ট্রফির স্বাদ পায়নি এখনও, যা তাদের সমর্থকদের কাছে একপ্রকার হতাশাজনক । তবে, ২০২৫ সালে যেভাবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ১৮ বছরের খরা কাটিয়ে ট্রফির স্বাদ পেয়েছে, সেভাবেই আশা করা হচ্ছে হয়ত কোনও একদিন দিল্লি (Delhi Capitals) ও পাঞ্জাবও (Punjab Kings) ট্রফির স্বাদ পাবে। তবে আইপিএলের এই ‘বিগ প্রাইস, ফ্লপ সিজন’ ক্রিকেটারদের দেখলে একটা কবিতার কথা মাথায় আসে,”আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।” কথায় নয়, এঁদের বড় ‘দাম’ দিয়ে কেনা হলেও দামের প্রতি সদ্ব্যবহার একদমই করতে পারেননি, যার ফল ভুগতে হয়েছে তাঁদের দলকে।

Follow Us