FIFA World Cup 2026: ১৩ দেশ নিয়ে শুরু, আজ ৪৮! বিশ্বকাপের শুরুর ইতিহাস জানেন?
Jule Rime Cup: তবে এই বিশ্বকাপ আয়োজনের চিন্তা থেকে সেটিকে বাস্তবায়িত করার পথ খুব একটা সহজ ছিল না। ১৯২৮ সালের আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে জুলে রিমে একটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের প্রস্তাব পেশ করেন। সেই প্রস্তাব পাশ হয় ২৫-৫ ভোটে। এরপরেই আসল চিন্তা শুরু হয়। দেশ ? কারা খেলবে?

কলকাতা : আর দিন কয়েক পরেই শুরু হবে ফুটবলের মহাযজ্ঞ। প্রায় এক মাস ধরে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, জার্মানি, ফ্রান্সের হয়ে গলা ফাটাবে লক্ষ লক্ষ ফুটবল ফ্যানেরা। ম্যাচ দেখার জন্য রাত জাগবে কলকাতার খেলা পাগল ছেলে-মেয়েরা। শেষবারের জন্য মেসি, নেইমার, রোনাল্ডোকে বিশ্বমঞ্চে দেখতে মুখিয়ে রয়েছে একটা প্রজন্ম। কিন্তু, জানেন কী, এই বিশ্বকাপের সূচনা কিভাবে হয়েছিল? কিভাবে ‘জুলে রিমে কাপ’ থেকে স্থাপনা হল আজকের ‘বিশ্বকাপ’-এর ?
এই গল্প জানতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে প্রায় ১০০ বছর পিছনে। ফিফার তৃতীয় সভাপতি তখন ফরাসি জুলে রিমে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন সেক্রেটারি অঁরি দেলোনে। জুলে রিমের মতে, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শত্রুতা ভুলে একে অন্যকে কাছে টানার একটি অনন্য মাধ্যম। তিনি দীর্ঘ এক বছর ধরে ইউরোপের নানা ফুটবল ফেডারেশনগুলিকে এই দলগত প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য আহ্বান জানিয়ে যান। এবং অবশেষে ১৯৩০ সালে শুরু হয় এই প্রতিযোগিতা। জুলে রিমের প্রতি সন্মান জানিয়ে এই প্রতিযোগিতার নাম দেওয়া হয় ‘জুলে রিমে ট্রফি’।
কেন শুরু হয়েছিল?
১৯৩০ সালের আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবথেকে বড় আসর ছিল গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক। কিন্তু অলিম্পিক কমিটির কঠোর নিয়ম ছিল, যাঁরা ফুটবলে অপেশাদার, একমাত্র তাঁরাই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু ১৯২০ সালের পর থেকে ফুটবল ইউরোপে পেশাদারিত্বের রূপ নিচ্ছিল। এমনকি সেই সময় থেকেই খেলোয়াড়রা ক্লাবের কাছ থেকে বেতন পাচ্ছিলেন। ফলে, বিশ্বের সেরা সেরা ফুটবল তারকারা অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা হারাচ্ছিলেন। ফিফা চেয়েছিল, এমন একটি প্রতিযোগিতা বানাতে, যেখানে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা তাদের পেশাগত পরিচয় নির্বিশেষে খেলতে পারে। এছাড়াও এর পিছনে রয়েছে একটি বড় আর্থিক অঙ্ক। ১৯০৪ সালে ফিফা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে অলিম্পিক কমিটির অধীনে কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তারা চেয়েছিল ফুটবল থেকে হওয়া আর্থিক লাভ নিজেরা হস্তগত করতে। এর কারণেই, ফিফা অলিম্পিক কমিটির ছত্রছায়া থেকে সরে আসে।
তবে এই বিশ্বকাপ আয়োজনের চিন্তা থেকে সেটিকে বাস্তবায়িত করার পথ খুব একটা সহজ ছিল না। ১৯২৮ সালের আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে জুলে রিমে একটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের প্রস্তাব পেশ করেন। সেই প্রস্তাব পাশ হয় ২৫-৫ ভোটে। এরপরেই আসল চিন্তা শুরু হয়। দেশ ? কারা খেলবে? ফিফা প্রথম দেশ হিসেবে নির্বাচিত করে উরুগুয়েকে। কারণ, উরুগুয়ে তখন নিজেদের স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করছিল ও তারা অংশগ্রহণকারী সব দলের যাতায়াত ও থাকার খরচ বহন করতে রাজি ছিল। এছাড়া ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিকে উরুগুয়ে সোনা জিতে নিজেদের শক্ত দল হিসেবে স্থাপন করেছিল। এরপর অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বেশ কিছু দেশ উরুগুয়ে যেতে রাজি না হলেও জুলে রিমে নিজে তাদের রাজি করান ও বিশ্বকাপ শুরু হয়। মাত্র ১৩টি দল প্রথম বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিল। উদ্বোধনী ম্যাচে ফ্রান্স ৪-১ ব্যবধানে মেক্সিকোকে পরাজিত করেছিল।
নাটকীয় ফাইনাল
প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। ম্যাচের সময় দুই দলের মধ্যে বল নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। পরে সমাধান হিসেবে প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার পছন্দ করা বল দিয়ে ম্যাচ হয় ও প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ২-১ এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ের পছন্দ করা বল দিয়ে খেলা হয় ও মোট ২-৪ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে উরুগুয়ে প্রথম বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপরের অর্থাৎ ১৯৩৪ বিশ্বকাপেও উরুগুয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এভাবেই জুলে রিমের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়, যা শুরু হতে চলেছে আগামী ১১ জুন। বাই দা ওয়ে, বিশ্বকাপের বয়স এবার ৯৬ বছর। ভাবা যায়?
