
কলকাতা: ভারতীয় ক্রিকেটকে এক সময় সাবালক করেছিলেন। তাঁর ক্যাপ্টেন্সিতেই বিদেশের মাটিতে চোখে-চোখ রেখে কথা বলা শুরু ভারতের। পাল্টা আক্রমণের কাহিনি। জয়ের নতুন ইতিহাস। এবং অবশ্যই ২০০৩ সালে ওয়ান ডে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে পড়া। এ সব যিনি করেছিলেন, তাঁকে ভারতের কিংবদন্তি ক্যাপ্টেনদের তালিকায় রাখা হয়। সেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যদি কোচ হন সাফল্য় দিতে পারবেন, এমন ধারণা ক্রিকেট মহলের অনেকেই। তাঁরা যে ভুল ভাবেন না, তা প্রমাণ করে দিলেন স্বয়ং মহারাজই। এই প্রথম কোচের হট সিটে। দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি লিগের প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের কোচ তিনি। দলকে ফাইনালে তুলে সৌরভ বুঝিয়ে দিলেন, চালকের আসনে বসলেই তিনি সাফল্য পান।
দক্ষিণ আফ্রিকা লিগে কোচ হিসেবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম অভিযান চরম সাফল্য় পেতে পারে। প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলকে নতুন ভাবে গড়ে তুলেছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দল সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে প্রিটোরিয়া। এসএ-টোয়েন্টির ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত কাপ জেতেনি তারা। প্রিটোরিয়ার কোচিং টিমে সৌরভের সহকারী দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার শন পোলক। এক সময় মাঠে তাঁরা ছিলেন প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী। এক সাক্ষাৎকারে সৌরভের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন পোলক।
পোলক বলেছেন,‘আমরা একসঙ্গে আবেগ ভাগ করে নিই। এমন মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারাটা সত্যিই আনন্দের। আমরা যতটা সম্ভব ধারাবাহিক থাকার চেষ্টা করেছি। দু’জনেরই বয়স পঞ্চাশের উপরে। তাই আমাদের মূল লক্ষ্য হল খেলোয়াড়দের সাহায্য করা। ক্রিকেটারদের উপর ভরসা রাখা ও বিশ্বাস করা।’ তিনি আরও বলেন,’কখনও কখনও আমরা সব কিছু প্লেয়ারদের উপর ছেড়ে দিই। দেখি, ওরা কী করে। আমাদের কোচিং ইউনিট খুব শক্তিশালী। সবাই অসাধারণ খেলেছে। সব ম্য়াচই উপভোগ করেছি আমরা।’
পোলক স্পষ্ট করেন, অতীতে নিয়ে ভাবছে না প্রিটোরিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অলরাউন্ডারের কথায়, ‘সবচেয়ে ভালো দিক হল, আমরা ফাইনালে পৌঁছেছি। এখন আমাদের সামনে সুযোগ। সেটা কাজে লাগানোর অপেক্ষায় রয়েছি।’ সব মিলিয়ে, কোচ সৌরভের নেতৃত্ব খেলোয়াড়রা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন। আর তাই প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায়।