
কলকাতা: বাবাই হাত ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন ক্রিকেট মাঠে। কোচেদের মনেও ধরে ছোট ছেলের বোলিং অ্যাকশন। ব্যাস আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ভালসাদের কিশোরকে। স্থানীয় ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স দ্রুত জায়গা করে দেয় রাজ্য দল গুজরাটের অনূর্ধ্ব ১৯ দলে। ভারতীয় দলে পা রাখতে সময় লাগেনি। সেই ছেলেই অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে একাই ফারাক গড়ে দিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে টসে জিতে শুরুতে বোলিং নেয় ভারত। ১৮ বছরের হেনিল প্যাটেল নিয়েছেন ৫ উইকেট। গতি আর সুইংয়ের চমৎকার মিশেল। হেনিলের সৌজন্যেই জয় দিয়ে যুব বিশ্বকাপ শুরু করল ভারত।
হেনিলের দাপটেই জিম্বাবোয়ের বুলাওয়াওয়ে মাত্র ১০৭ রানে শেষ হয়ে যায় আমেরিকা। বৃষ্টির কারণে ৩৭ ওভারে ভারতের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৯৬। মাত্র ১৭.২ ওভারেই জয়ের লক্ষ্য পৌঁছে যায় ভারতের ছোটরা। যুব বিশ্বকাপে অন্যতম বড় তারকা বৈভব সূর্যবংশী। ওয়ার্ম ম্যাচেও তছনছ করেছেন প্রতিপক্ষকে। তবে এই ম্য়াচে রান পাননি বৈভব। আমেরিকার যুব দলের বিরুদ্ধে মাত্র ২ করে ফেরেন বাঁ হাতি ওপেনার। রান তাড়া করতে নেমে কিপার-ব্যাটার অভিজ্ঞান কুন্ডু ৪২ করে নট আউট থেকে যান। বাকিরা তেমন রান পাননি।
বৃষ্টি বাধা না দিলে ভারতের জয় যে নিশ্চিত, তা শুরুতেই ঠিক করে দিয়েছিলেন হেনিল। টপ অর্ডার তো বটেই, লোয়ার অর্ডারের উইকেটও রয়েছে গুজরাটের ছেলের পকেটে। ম্যাচের সেরা তিনিই। ৭ ওভার বল করে ১টা মেডেন সহ ১৬ রান খরচ করেছেন। বিপক্ষের ব্যাটাররা মাত্র একটাই চার মারতে পেরেছেন তাঁকে। ম্যাচের বিরতিতে হেনিল বলেছিলেন, ‘ম্যাচ শুরুর আগে যখন পিচ দেখি, তখনই বুঝেছিলাম ৪-৫ মিটারের মধ্যে লেন্থটা ধরে রাখতে পারলে ভালো বোলিং করা যাবে। যে কারণে আমি নির্দিষ্ট লাইনটা ধরে রাখার চেষ্টা করি। বাউন্স আর সুইং দুটোই আমার শক্তি। সেটাই কাজে লেগেছে। টিম সব সময় সাপোর্ট করেছে। কোচ ঋষিকেশ কানিতকরকে এর জন্য ধন্যবাদ জানাই। বিশ্বকাপে খেলার একটা চাপ থাকেই। সেটা মাথায় থাকলেও নিজের বেসিকটাতে ফোকাস করেছিলাম।’