
কলকাতা : তখনও মুম্বই বনাম রাজস্থান ম্যাচ শেষ হয়নি। তার আগেই খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে কলকাতা বনাম দিল্লির। ইডেন গার্ডেন্সে তখন চার ওভারও হয়নি, তার আগেই ইডেনের দর্শক জেনে গেলেন কেকেআরের প্লে-অফ ভবিষ্যৎ। মুম্বইয়ের হারে আইপিএল থেকে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই ছিটকে গেল কেকেআর ও পাঞ্জাব কিংস। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে শেষ চারে পৌঁছে গেলেন বৈভবরা। যদিও, মুখরক্ষা হল না কেকেআরের। শেষ ম্যাচে দিল্লির বিরুদ্ধে ৪০ রানে হেরে আইপিএল অভিযান এবারের মতো শেষ হল রাহানেদের।
এই সিজনে কোথায় ভুল হয়েছে নাইটদের?
১. কেকেআরের ব্যর্থতা হিসেবে করতে বসলে ভুল অনেক খুঁজে পাওয়া যাবে। যেমন, আইপিএলের শুরু থেকেই চোট-আঘাতে জর্জরিত ছিল নাইট শিবির। মুস্তাফিজুরকে দলে নিয়েও ছেড়ে দেওয়া যদি বাদ দেওয়া যায়, তাহলেও তো বাকি দলটা খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না। চোটের কারণে আগেই আইপিএল থেকে বিদায় ঘটে গিয়েছিল হর্ষিত রানা ও আকাশ দীপের। তাঁদের না থাকা মানসিক ভাবে অনেক পিছিয়ে দিয়েছিল কেকেআরকে। এছাড়াও যোগ করতে হয় মাথিশা পাথিরানার না থাকা। প্রথম ১১ ম্যাচে চোটের কারণে ছিলেন না পাথিরানা। পরে শ্রীলঙ্কা বোর্ডের ছাড়পত্র নিয়ে তিনি খেলতে এলেও প্রথম ম্যাচেই আবার চোটের কবলে পড়েন। তাই বোলিং নিয়ে একটা বড় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে কেকেআর।
২. অধিনায়ক রাহানের সিদ্ধান্তের ভুলও ভুগিয়েছে নাইটদের। এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই মুম্বইকর, যা অসুবিধেয় ফেলেছে কেকেআরকে। মাঝের ওভার বা ডেথ ওভারে বোলারদের ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তাঁর রণনীতি বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলেছে দলকে। এমনকি রাচীন রবীন্দ্রর মতো তারকাকে কিনেও বসিয়ে রাখার জন্য সমালোচিত হয়েছেন কেকেআর ক্যাপ্টেন।
৩. ক্যামেরন গ্রিনের ওপর ভুল বাজি ধরেও ভুগেছে নাইটরা। মরশুমের শুরুতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাঁর বোলিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ফলে তিনি পুরোপুরি অলরাউন্ডার হিসেবে খেলতে পারেননি। ব্যাটিংয়েও তাঁর আত্মবিশ্বাস ছিল একদম তলানিতে। যার ফল ভুগতে হয়েছে কেকেআরকে।
৪. বিগত কয়েক সিজনে কেকেআরের মূল শক্তি ছিল তাঁদের স্পিন বিভাগ। তবে এই মরশুমে সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তী জলদি উইকেট তুলতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে, বরুণের উইকেট খরা ও রান দেওয়া বিপাকে ফেলেছে কেকেআরকে।
গতকাল কেকেআরকে বিপাকে ফেললেন আবার এক ‘প্রাক্তন নাইট’ কুলদীপ যাদব। পরপর দুই বলে ক্যাপ্টেন রাহানে ও রিঙ্কু সিংকে আউট করলেন কুলদীপ। গতকাল তাঁর হ্যাটট্রিক হয়েই যেত, কিন্তু তেজস্বী দাহিয়ার ক্যাচ মিস করলেন আর এক বাঙালি অভিষেক পোড়েল। সেই ক্যাচ ধরলে গতকালই হ্যাটট্রিক হয়ে যেত কুলদীপ যাদবের। মাঠে গতকাল ছিলেন প্রায় ৪০ হাজারের কাছাকাছি দর্শক। কিন্তু, ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল তাঁদের দলের। তার সঙ্গে উপরি উপহার শেষ ম্যাচে দলের হার। যদি প্রথম দিকে দু-একটা ম্যাচ জেতা যেত, তাহলেও কি এই দুর্ভাগ্য হত নাইটদের? কে জানে, ম্যাচ তো শুরুর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।