
কলকাতা: ক্রিকেটের এত বছরের একদিকে যেমন বিখ্যাত হয়েছেন অনেক ক্রিকেটার, তেমনই বিখ্যাত হয়েছে কিছু শটও। যেমন, কপিলের নটরাজ শট, সচিনের স্ট্রেট ড্রাইভ, কোহলির কভার ড্রাইভ, তিলকরত্নে দিলশানের দিলস্কুপ, এমএস ধোনির হেলিকপ্টার শট ইত্যাদি। তবে হেলিকপ্টার শটের কথা বললেই মনে আসে একমাত্র ধোনির নাম। একাধিকবার ইয়র্কার বলকে হেলিকপ্টারের মতো উড়িয়ে গ্যালারিতে পাঠিয়েছেন মাহি। এই শট তাঁকে শিখিয়েছিলেন তাঁর বন্ধু সন্তোষ লাল ওরফে বান্টি। কিন্তু জানেন কি, তাঁর অভিষেকের আগেই এক ভারতীয় এই শট মেরেছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে?
হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। ধোনির আগেও একজন ছিলেন যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ময়দানে ভারতের জার্সিতে হেলিকপ্টার শট মেরেছিলেন। তিনি আর কেউ নন, সচিন তেন্ডুলকর। ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে হেলিকপ্টার শট মেরেছিলেন মাস্টার ব্লাস্টার। ম্যাচটি ছিল ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের একটি ম্যাচ। সেই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও ইংল্যান্ড। প্রথম বলেই আউট হন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এরপর দ্রুত আউট হন সেহবাগ ও দীনেশ মোঙ্গিয়া। তারপর থেকেই দলের হাল ধরেন সচিন ও দ্রাবিড়। দুরন্ত ব্যাট করেন দুজনে। ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন সচিন। দ্রাবিড় করেন ৮২ রান। পরে নেমে ১৯ বলে ৪০ করেন যুবরাজ সিংও। এর ফলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ভারত ৪ উইকেট হারিয়ে তুলেছিল ২৮৫ রান।
এই ম্যাচেই সচিনের ব্যাট থেকে আসে হেলিকপ্টার শট। ইংল্যান্ডের পেসার জেমস কার্টলি বল করেছিলেন সচিনকে। ফুল লেংথের বল পেয়ে সামনের পা সরিয়ে কব্জির জোরে ব্যাট ঘুরিয়ে বলটিকে লেগ সাইডে পাঠিয়ে দেন সচিন। বল পৌঁছে যায় মিডউইকেটে বাউন্ডারিতে। সচিনের ব্যাট ঘোরানোর ধরণ অনেকটাই ছিল ধোনির হেলিকপ্টার শটের মতো। শুধু একবার নয়, আরও একবার এই শট মারেন সচিন। সেই সময় ধোনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকও করেননি।
তবে এই ম্যাচে কিন্তু ভারত জেতেনি। ভারত ২৮৫ রান করার পর ইংল্যান্ড ব্যাট করতে নামে কিন্তু বৃষ্টির কারণে বারবার বন্ধ করতে হয় ম্যাচ। ইংল্যান্ড ১২.৩ ওভারে ৫৩ রান করার পর শেষ অবধি বাতিল করা হয় ম্যাচকে। ফলে দুই দলই পয়েন্ট ভাগ করে নেয়। ক্রিকেটের ইতিহাসে হেলিকপ্টার শটের আগে ধোনির নাম জড়িয়ে গেলেও ২০০২ সালের সেই ম্যাচে ধোনির আগেই ওই শট মেরেছিলেন সচিনই।