
আহমেদাবাদ : ২০২৬ এর ৩১ মে না, আহমেদাবাদের (Ahmedabad) নব কলেবরে সেজে ওঠা নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম (Narendra Modi Stadium) না।
১০ বছর আগের ২৯ মে। মাঠ? চিন্নাস্বামী। সেদিনও ছিল একটা আইপিএল ফাইনাল (IPL 2026 Final)। সানরাইজার্সের (Sunrisers Hyderabad) কাছে ৮ রানে হেরেছিলেন কোহলিরা (Virat Kohli) । ২০৯ রান তাড়া করতে নেমে আরসিবি (RCB) শেষ হয়েছিল ২০০/৮ এ। প্রথম ১০ ওভারে দুরন্ত ব্যাটিং করেও সেবার ট্রফি আসেনি আরসিবির। ৯৭৩ রান করেও সেবার কমলা টুপির সঙ্গে ট্রফি ভাগ্য ছিল না বিরাটের। ঠিক ১০ বছর পরের দৃশ্যটা আজ দেখছি চোখের সামনে। সেদিনও ফাইনালে ছিলেন বিরাট, আজও রইলেন বিরাট। আজও গোটা দেশের সামনে, বিপক্ষের রক্তচক্ষু সামলে লড়লেন একা বিরাট, যে বিরাটকে নিয়ে ক্রমাগত প্রশ্ন উঠেছে, তিনি নাকি ‘নন কমিট্যাল’ , তিনি নাকি ধীরগতিতে রান বানান… আজকের পর এই কথাগুলো করা বলবে সেটাই দেখতে চাই। ১০ বছর আগের করা ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করলেন ‘চেজমাস্টার’। তাঁর করা রানের ইনিংসের বদান্যতায় পরপর দুইবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন আরসিবি। কোথায় ১৮ বছরে টানা ব্যর্থতা, কোথায় পরপর দুই বছর দুখানা ট্রফি।
অথচ ভাবুন শুরুটা। টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আরসিবি ক্যাপ্টেন রজত। ফল? পাওয়ারপ্লের মধ্যেই শুবমান (১০) ও সাই (১২) আউট। ১৮ বলে ২০ করলেন নিশান্ত সান্ধুও। আরসিবির বোলিংয়ের সামনে চূড়ান্ত ধীরগতিতে ব্যাট করছিল গুজরাট, যার ফল ভুগতে হল গিলদের। ২৩ বলে ১৯ করলেন বাটলার। ওয়াশিংটন সুন্দরের ৫০ রানের ইনিংস না থাকলে আজকেও দেড়শো রান বোর্ডে তুলতে পারে না গুজরাট। ৩ উইকেট পেলেন রশিখ সালাম দার। এই নিয়ে আইপিএলে ১৯ উইকেট পেলেন রশিখ, যা তাঁর কেরিয়ারে সর্বোচ্চ। দুটি করে উইকেট জোস, ভুবির।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দুরন্ত ব্যাটিং করতে শুরু করেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার ও বিরাট কোহলি। ১৬ বলে ৩২ করলেন ভেঙ্কটেশ। তবে তাঁর উইকেটের পর টানা উইকেট হারাতে শুরু করে বেঙ্গালুরু। আজ ব্যর্থ দেবদত্ত (১৫), রজত (১৫), ক্রুণাল (১)। তবে আজ আবার নিজের জাত চেনালেন বিরাট। তাঁর করা ৪২ বলে ৭৫ রানের বদান্যতায় ২ ওভার বাকি থাকতেই টানা দুই বার চ্যাম্পিয়ন হল আরসিবি। ম্যান অফ দা ম্যাচও তিনি নিজেই।
১৯ বছর হয়ে গেল, এখনো লোকটার খিদে এক রকম। রানের পিছনে লড়াই এক রকম। আজ যেভাবে একের পর এক ছয় মারছিলেন গ্যালারিতে, জাস্ট ভাবছিলাম ১০ বছর আগেও তো এভাবেই বল পাঠাতেন মাঠের বাইরে। আজও তিনিই রইলেন। আজ রাজার ব্যাটেই পরাজিত হতে হল রাজপুত্র গিলকে। আপনার কি জীবনে খুব চাপ? জীবনে কিক আসছে না? সাফল্য আসছে না? বসের ধ্যাতানি থেকে বন্ধুর কচকচানি – সব সহ্য করতে হচ্ছে? সব এভাবেই গ্যালারিতে পাঠান, যেভাবে কোহলি পাঠান। অঞ্জন দত্তের গান ছিল না,”তুমি না থাকলে সকালটা এত মিষ্টি হত না”। আজ আরসিবি সমর্থকেরাও হয়ত এই কথাই বলবেন ‘চিরতরুণ’ বিরাটকে। খালি সকালের বদলে সময়টা হয়ে যাবে রাত। পরপর দুই বার চ্যাম্পিয়ন হওয়া মুখের কথা নাকি?