
রায়পুর : এই না হলে আইপিএল (IPL) ম্যাচ! শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার ২ রান। ক্রিজে ভুবনেশ্বর কুমার (Bhuvneshwar Kumar) ও রশিখ সালাম দার। বোলিংয়ে আরও এক অনভিজ্ঞ বোলার রাজ বাওয়া (Raj Bawa), যিনি আইপিএলে ৪ বছর আগে অভিষেক করলেও এই প্রথম বোলিং করলেন। তার উপর শেষ ওভারের চাপ, তাঁর মতো একজন শিক্ষানবীশের ক্ষেত্রে সামলানোও কঠিন। হলও তাই। ২ উইকেটে জিতে মুম্বইয়ের (Mumbai Indians) আইপিএলে প্লে-অফে ওঠার স্বপ্ন চুরমার করে দিল আরসিবি (Royal Challengers Bengaluru)।
টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আরসিবি। আজ ব্যর্থ হলেন রিকলটন। ৩ ওভারের মধ্যে ২৮ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল মুম্বই। হিটম্যান রোহিত শর্মা আজ করলেন ১০ বলে ২২। প্রথম বলেই আউট হলেন সূর্যকুমার যাদব। আজকের ম্যাচে হার্দিক না থাকায় অধিনায়ক ছিলেন সূর্য। এরপরেই দলকে টেনে তুললেন নমন ধীর (৪৭) ও তিলক ভার্মা (৫৭)। তবে তাঁরা আউট হতেই আবার যে কে সেই। ৭ উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে মুম্বই করেছে ১৬৬। ৪ উইকেট পেয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার।
ব্যাটে নেমে প্রথম ওভারেই গোল্ডেন ডাক করে আউট হন বিরাট কোহলি। এই নিয়ে টানা দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হলেন বিরাট। আর এক ওপেনার জেকব বেথেল করলেন ২৭ রান। দেবদত্ত পাদিক্কাল করলেন ১২ রান। তারপরই রায়পুরে শুরু ক্রুণাল শো। ৪৬ বলে ৭৩ করলেন হার্দিকের দাদা। একসময় ব্যাট করতে পারছিলেন না ক্র্যাম্পের জন্য, তবুও মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন তিনি। ১৯তম ওভারে মাত্র ৩ রান দিলেন বুমরা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। ৩ বল বাকি থাকতে আউট হলেন রোমারিও শেপার্ড (৪)। ভুবনেশ্বর কুমার এসে প্রথম বলটাই পাঠিয়ে দিলেন বাউন্ডারির বাইরে। ১ বলে দরকার ছিল ২ রান। রিকলটন সহজ রান আউট মিস করতেই উল্লাস শুরু করলেন আরসিবি সমর্থকরা। রুদ্ধ্বশ্বাস ম্যাচ জিতে লিগ টেবিলের ফার্স্ট বয় বেঙ্গালুরু। আজকের ম্যাচ যেন একাধারে ভুবিরই ম্যাচ। বলে নিলেন ৪ উইকেট, ব্যাটে এসে জেতালেন তিনি। একই সঙ্গে ২১ উইকেট নিয়ে পার্পল ক্যাপের অধিকারী হলেন ভুবি। সব মিলিয়ে যেন একাই একশো ভুবি।
এই হারের সঙ্গে মুম্বইয়ের প্লে-অফ যাত্রা যেমন শেষ, তেমনই প্লে-অফের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে কোহলিরা। বাকি ৩ ম্যাচে প্রয়োজন মাত্র ১ জয়। তাহলেই শেষ চারে উঠে যাবে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। তবে ভাল পারফরম্যান্স দরকার প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে থাকার জন্য। তাহলেই প্লে অফে এক ম্যাচ হারলেও সুযোগ থাকবে কামব্যাক করার। আর কোহলিরা যে কামব্যাক করতে পছন্দ করেন, এটা তো সর্বজনবিদিত।