
কলকাতা: লন্ডন অলিম্পিক, ২০১২ সাল। ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। সেই মঞ্চেই প্রথমবার অলিম্পিক পদক পেয়ে দেশকে গর্বিত করেছিলেন ভারতের সাইনা নেহওয়াল। প্রায় দশ বছরেরও বেশি সময় পর সেই স্মৃতি ভাগ করে নিয়ে আবেগে ভাসলেন ‘ব্যাডমিন্টন কুইন’। দীর্ঘদিন চোটের কারণে অবশেষে প্রতিযোগিতামূলক ব্যাডমিন্টনকে বিদায় জানালেন তিনি। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে গুরুতর চোট পান সাইনা। ২০১৭ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতে দুর্দান্ত ফিরে এসেছিলেন সার্কিটে। ২০১৮ সালেও সাফল্য পেয়েছেন যথেষ্ট। কমনওয়েলথ গেমসে সোনা, এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে আরও একটি ব্রোঞ্জ পদক পান সাইনা। তবে তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত ছিল ২০১২ অলিম্পিক ব্রোঞ্জ। তখন চিনের খেলোয়াড়দের হারানোর স্বপ্ন ভারতের শাটলাররা খুব বেশি দেখতেন না। সাইনা ভারতীয়দের দেখার চোখ আর স্বপ্ন— দুইই পাল্টে দিয়েছিলেন।
একটি সাক্ষাৎকারে সাইনা বলেছেন, “সুপার সাইনা বনাম সাইনা আমি চাই না। এই নামগুলো আমার জীবনের সঙ্গে সবসময় জুড়ে থাকবে। আমি সকলের কাছ থেকে অসম্ভব ভালোবাসা পেয়েছি।” কথা বলতে বলতে চোখ ভিজে যায় তাঁর। দীর্ঘদিন ধরে হাঁটুর সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের মতে, হাঁটুর হাড় প্রায় ক্ষয়ে গিয়েছে। ফলে তাঁর পক্ষে প্রতিযোগিতামূলক খেলা চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব ছিল না। সাইনার কথায়, “শরীর যখন সঙ্গ দেয় না, তখন সকলকেই থামতে হয়। এটাই হয়তো একজন ক্রীড়াবিদদের জীবন।” স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাইনা বলেছেন, ‘আমার আগে কোনও ভারতীয় খেলোয়াড়কে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ পর্যায়ে জিততে দেখিনি। আমাদের সামনে কোনও রোল মডেলও ছিল না।’ কোচ পি. গোবর্ধন, গোপীচাঁদ এবং তাঁর মায়ের অবদানের কথা তিনি স্মরণ করতে ভোলেননি।
অলিম্পিক পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত শোনার কথা ভাবলে আজও তাঁর গায়ে কাঁটা দেয়। সাইনা বলেন, ‘ওই অনুভূতি কোনওদিন ভোলার নয়।’ এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে, ভারত কি ভবিষ্যতে অলিম্পিকে ব্যাডমিন্টন থেকে সোনা জিততে পারে? আত্মবিশ্বাসী সাইনা উত্তরে বলেন, “১০০ শতাংশ সম্ভব।”
বিদায়বেলায় ফ্যানদের উদ্দেশে সাইনা বলেন, “ওদের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আশাকরি অনেক মেয়ে আমাকে দেখে স্বপ্ন দেখতে শিখবে।” তাঁর ক্রীড়ার অধ্যায় শেষ হলেও, ভারতের ক্রীড়াজগতে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন সাইনা নেহওয়াল।